এক মুষ্ঠির দলীল

নবীজি সা. এর আমল:

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْخُذُ مِنْ لِحْيَتِهِ مِنْ عَرْضِهَا وَطُولِهَا

অর্থ: আমর ইবনু শুআইব রহ, হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৈঘ্যে-প্রস্থে দু দিকে তার দাঁড়ি ছাটতেন।
সূত্র: জামে তিরমিযি হাদিস: ২৭৬২

হাদিসটির মান:

ইবনে হাজার আসকালানী রহ. হাদিসটি হাসান বলেছেন।
সূত্র: তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবিহ খ. ৪ পৃ. ২৩৫

হাদিসটি যদিও অনেকে যয়ীফ বলেছেন, তবে তাঁরা যয়ীফ হওয়ার কারণ বলেছেন, হাদিসটির সনদে থাকা “উমার ইবনে হারুন” এর কারণে। কিন্তু এ উমার ইবনে হারুণ সম্পর্কে ইমাম বুখারী রহ. এর অভিমত হলো,

আবু ঈসা তিরমিযি রহ: বলেন,

وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ عُمَرُ بْنُ هَارُونَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ لاَ أَعْرِفُ لَهُ حَدِيثًا لَيْسَ إِسْنَادُهُ أَصْلاً أَوْ قَالَ يَنْفَرِدُ بِهِ إِلاَّ هَذَا الْحَدِيثَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَأْخُذُ مِنْ لِحْيَتِهِ مِنْ عَرْضِهَا وَطُولِهَا ‏.‏ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ هَارُونَ

আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল তথা ইমাম বুখারী রহ. কে বলতে শুনেছি, উমার ইবনে হারূনের বর্ণিত হাদীস গ্রহণ যোগ্য বলা যায়। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দাঁড়ির দৈর্ঘ্য-প্রস্থে উভয় দিকে ছাঁটতেন” এই হাদীস ছাড়া তার অন্য কোন রিওয়ায়াত সম্পর্কে আমার জানা নাই, যার কোন বুনিয়াদ নাই বা যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা শুধুমাত্র ইবনু হারূনের রিওয়ায়াত হিসেবে উপরোক্ত হাদীস জেনেছি।

তিরমিযি রহ. আরও বলেন,

وَرَأَيْتُهُ حَسَنَ الرَّأْىِ فِي عُمَرَ بْنِ هَارُونَ

অর্থাৎ আমি ইমাম বুখারীকে উমার ইবনু হারূন সম্পর্কে উত্তম অভিমত মনে ধারণ করতে দেখেছি।

ইমাম তিরমিযি রহ. আরও বলেন,

سَمِعْتُ قُتَيْبَةَ يَقُولُ عُمَرُ بْنُ هَارُونَ كَانَ صَاحِبَ حَدِيثٍ

অর্থাৎ আমি কুতাইবাকে বলতে শুনেছি, উমার ইবনু হারূন ছিলেন হাদীসের ধারক।
সূত্র: জামে কাবীর (তিরমিযি) খ. ৬ পৃ. ৮৫২ উমদাতুল কারী খ. ২২ পৃ. ৭২

সাহাবাদের রা. আমল:

ইবরাহীম নাখয়ী রহ. বলেন,

كانوا يأخذون من عوارض لحاهم

অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম রা. এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাঁড়ি কেটে ফেলতেন।
সূত্র: আল-ইস্তেযকার খ. ১৩ পৃ. ১১৬ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৮১

হাসান বসরী রাহ. বলেন,

كَانُوا يُرَخِّصُونَ فِيمَا زَادَ عَلَى الْقَبْضَةِ مِنْ اللِّحْيَةِ أَنْ يُؤْخَذَ مِنْهَا

অর্থাৎ তাঁরা (সাহাবা-তাবেয়ীগণ) মুষ্ঠির অতিরিক্ত দাড়ি কাটার অবকাশ দিতেন।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৭৫

ইবনে উমার ও আবু হুরায়রা রা. এর আমল:

ورُوي عن عبد الله بن عمر وأبي هريرة رضي الله عنهم أنَّهما كانا يأخذانِ مِن اللِّحيةِ ما فضَل عن القبضةِ

অর্থ: বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবনে উমার ও আবু হুরায়রা রা. তাঁরা তাঁদেে দাঁড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন।
সূত্র: তানবীরুল হাওয়ালেক (সুয়ূতী রহ.) পৃ. ৬৮২

ইবনে উমার রা. এর আমল:

عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَأْخُذُ مَا فَوْقَ الْقَبْضَةِ

অর্থ: হযরত ইবনে উমার রা. তাঁর দাঁড়ি এক মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৭৭

আবু হুরায়রা রা. এর আমল:

عَنْ أَبِي زُرْعَةَ قَالَ كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقْبِضُ عَلَى لِحْيَتِهِ ثُمَّ يَأْخُذُ مَا فَضَلَ عَنْ الْقَبْضَةِ

অর্থ: আবু যুরাআহ রহ. বলেন, হযরত আবু হুরায়রা রা. তাঁর দাঁড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৭২ আল-ইস্তেযকার খ. ১৩ পৃ. ১১৭

অপর রেওয়ায়েতে এসেছে,

عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ كَانَ يَأْخُذُ مِنْ لِحْيَتِهِ مَا جَاوَزَ الْقَبْضَةَ

অর্থ: আবু যুরাআহ রহ. বলেন, হযরত আবু হুরায়রা রা. তাঁর দাঁড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৭৯

আলী রা. এর আমল:

عَنْ سِمَاكِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ كَانَ عَلِيٌّ يَأْخُذُ مِنْ لِحْيَتِهِ مِمَّا يَلِي وَجْهَهُ

অর্থ: সিমাক বিন ইয়াযীদ হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রা. মুখের আশ-পাশের দাড়ি ছাঁটতেন।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৭১
আল-ইস্তেযকার খ. ১৩ পৃ. ১১৬

শুধু হজ্ব উমরার সময় দাঁড়ি কাটা যাবে?

অনেকে শুধু হজ্ব উমরার সময় দাঁড়ি কাটা জায়েয প্রমাণ করতে ইবনে উমার রা. ও জাবের রা. এর হাদিস পেশ করেন। হযরত কাতাদাহ রহ. বলেন,

قَالَ جَابِرٌ لَا نَأْخُذُ مِنْ طُولِهَا إلَّا فِي حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ

অর্থাৎ জাবের রা. বলেছেন, (দাঁড়ির এক মুষ্টির পর) লম্বা অংশ হজ্ব এবং উমরার সময় ব্যতিত কাটতাম না।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৭৮

অপর বর্ণনায় এসেছে,

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ أَوِ اعْتَمَرَ قَبَضَ عَلَى لِحْيَتِهِ، فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ‏

অর্থ: হযরত ইবনে উমার রা. যখন হজ্ব বা ‘উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাঁড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন।
সূত্র: সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫৮৯২

এ বর্ণনা দুটি সামনে রেখে অনেকে দাবি করেন, একমুষ্টির অতিরিক্ত দাঁড়ি কাটা যাবে শুধু হজ্ব ও উমরার সময়। তাদের জবাবে ইবনে আব্দুল বার রহ. বলেন,

وفي أخذِ ابنِ عمَرَ مِن آخِرِ لحيتِه في الحَجِّ دليلٌ على جوازِ الأخذ من اللحيةِ في غير الحَجِّ لأنَّه لو كان غيرَ جائزٍ ما جاز في الحَجِّ

অর্থাৎ ইবনে উমার রা. এর হজ্বের সময় এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাঁড়ি কর্তন করা হজ্ব ব্যতিত অন্য সময়ও কাটা জায়েয হওয়ার দলীল। কারণ যদি একমুষ্টির অতিরিক্ত দাঁড়ি কাটা (মৌলিকভাবে) জায়েয না হতো, তাহলে হজ্বের সময়ও জায়েয হতো না।
সূত্র: আল-ইস্তেযকার খ. ১৩ পৃ. ১১৬

তাবেয়ীদের আমল:

আতা রহ. এর আমল:

وقال عطاء لا بأس ان ياخذ من لحيته الشيئ القليل من طولها وعرضها اذا كبرت وعلت كراهة الشهرة

অর্থ: হযরত আতা রহ. বলেন, দাঁড়ি বড় হলে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু অংশ কাটলে কোনো অসুবিধা নেই।…..
সূত্র: উমদাতুল কারী খ. ২২ পৃ. ৭২

ইবরাহীম নাখয়ী রহ. অভিমত:

قال النخعي عجبت لرجل عاقل طويل اللحية كيف لا يأخذ من لحيته ويجعلها بين لحيتين فان التوسط في كل شيئ حسن

সূত্র: ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন খ. ১ পৃ. ২০৩ মিরকাত খ. ৮ পৃ. ২৮৫

عَنْ عَطَاء بْن أَبِي رَبَاحٍ قَالَ وَكَانَ إبْرَاهِيمُ يَأْخُذُ مِنْ عَارِضِ لِحْيَتِهِ

অর্থ: আতা ইবনে আবী রবাহ্ বলেন, ইবরাহীম নাখয়ী রহ. দাঁড়ির অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৭৩ আল-ইস্তেযকার খ. ১৩ পৃ. ১১৭

عَنْ ابْنِ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ يَأْخُذُ مِنْ لِحْيَتِهِ وَلَا يُوجِبُهُ

অর্থ: ইবনে তাউস তাঁর বাবার বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, তিনি দাঁড়ির অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন।….
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৭৪

কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ রহ. এর আমল:

عَنْ أَفْلَحَ قَالَ كَانَ الْقَاسِمُ إذَا حَلَقَ رَأْسَهُ أَخَذَ مِنْ لِحْيَتِهِ وَشَارِبِهِ
অর্থ: হযরত কাসেম যখন মাথা মুণ্ডন করতেন, তখন দাঁড়ির (এক মুষ্টির অতিরিক্ত) অংশ এবং মোচ কাটতেন।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৭৬

হাসান বসরী ও ইবনে সিরিন রহ. এর আমল:

عَنْ أَبِي هِلَالٍ قَالَ سَأَلْت الْحَسَنَ وَابْنَ سِيرِينَ فَقَالَا لَا بَأْسَ بِهِ أَنْ تَأْخُذَ مِنْ طُولِ لِحْيَتِك

অর্থ: আবু হালাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাসান বসরী ও ইবনে সিরিন রহ. কে প্রশ্ন করলাম। অত:পর তাঁরা উত্তর দিলেন, তুমি তোমার দাঁড়ির (একমুষ্টির অতিরিক্ত) লম্বা অংশ কাটলে কোনো অসুবিধা নেই।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা: ২৫৪৮০ আল-ইস্তেযকার খ. ১৩ পৃ. ১১৭

চার মাযহাবের অভিমত:

হানাফী মাযহাব:

ফাতাওয়া শামীতে এসেছে,

لا بأسَ بأخذِ أطرافِ اللِّحيةِ إذا طالت

অর্থাৎ লম্বা হলে দাঁড়ির পাশ ছাটতে কোনো অসুবিধা নেই।
সূত্র: রদ্দুল মুহতার খ. ৩ পৃ. ৩৯৭

ولا بأس أن يقبض على لحيته فإن زاد على قبضته منها شيء جزه

অর্থাৎ একমুষ্টির অতিরিক্ত অংশ দাঁড়ি কাটলে কোনো অসুবিধা নেই।
সূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ.৫ পৃ. ৪৩৮ রদ্দুল মুহতার খ. ৩ পৃ. ৩৯৭

হাম্বলী মাযহাব:

ইবনে হানি রহ. বলেন,

سألتُ أبا عبد الله عن الرجُلِ يأخذ من عارِضَيه قال يأخذُ مِن اللِّحيةِ ما فضلَ عن القبضة
সূত্র: মাসায়েলে ইবনে হানি খ. ২ পৃ. ১৫১-১৫২ বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ খ. ৪ পৃ. ১৪৩০-১৪৩১

ইবনে হানি রহ. আরও বলেন,

ورأيت أبا عبد الله يأخذُ من عارِضَيه ومن تحتِ حَلقِه
সূত্র: সূত্র: মাসায়েলে ইবনে হানি খ. ২ পৃ. ১৫১-১৫২ বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ খ. ৪ পৃ. ১৪৩১

ইবনে মুফলিহ আল-হাম্বলি রহ. বলেন, শায়খ তাকীউদ্দীন রহ. বলেছেন,

ولا يكره اخذ ما زاد علي القبضة ونصه لا بأس باخذه وما تحت حلقه لفعل ابن عمر
সূত্র: আল-মুবদি ফি শারহিল মুকনি খ. ১ পৃ. ৮৫ আল-ফুরূ খ. ১ পৃ. ১০০

মালেকী মাযহাব:

মালেক রহ.

عن ابن القاسم قال سمعت مالكا يقول لا بأسَ أن يؤخَذَ ما تطايرَ من اللِّحيةِ وشَذَّ
সূত্র: আল-ইস্তেযকার খ. ২৭ পৃ. ৬৪-৬৫ বর্ণনা: ৪০২২২

قيل لمالك فإذا طالت جدًّا فان من اللحي ما تطول قال أرى أن يؤخَذَ منها وتُقَصَّ
সূত্র: আল-ইস্তেযকার খ. ২৭ পৃ. ৬৫ বর্ণনা: ৪০২২৩

কাযী আয়ায মালেকী রহ. বলেন,

وأمَّا الأخذُ مِن طولِها وعَرضِها فحسَنٌ

অর্থাৎ দাঁড়ির দৈর্ঘ ও প্রস্থ থেকে কিছু কাটা ভাল।
সূত্র: ইকমালুল মু’লিম খ. ২ পৃ. ৬৪

ইবনে আব্দুল বার মালেকী রহ. বলেন,

وفي أخذِ ابنِ عمَرَ مِن آخِرِ لحيتِه في الحَجِّ دليلٌ على جوازِ الأخذ من اللحيةِ في غير الحَجِّ؛ لأنَّه لو كان غيرَ جائزٍ ما جاز في الحَجِّ
সূত্র: আল-ইস্তেযকার খ. ১৩ পৃ. ১১৬

وابن عمر روى عن النبيِّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم وأعفُوا اللِّحى وهو أعلَمُ بمعنى ما روى فكان المعنى عنده وعند جمهورِ العُلَماءِ الأخذَ من اللِّحية ما تطايرَ
সূত্র: আল-ইস্তেযকার খ. ১৩ পৃ. ১১৬

শাফেয়ী মাযহাব:

ইমাম গাজালী রহ. বলেন,

وقد اختلفوا فيما طال منها، فقيل: إنْ قبَضَ الرجلُ على لحيتِه وأخذَ ما فضَلَ عن القبضةِ، فلا بأس؛ فقد فعَلَه ابن عمر وجماعةٌ من التابعين، واستحسَنه الشَّعبي وابن سيرين

অবশ্য দাঁড়ি লম্বা হওয়ার বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরাম মতানৈক্য করেছেন, কেউ কেউ বলেন, যদি দাঁড়ির একমুষ্টির অতিরিক্ত অংশ কাটে তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ এমনটা ইবনে উমার রা. এবং তাবেয়ীদের একটি জামাআত করেছেন এবং শা’বী এবং ইবনে সিরিন রহ. ভাল মনে করেন।
সূত্র: ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন খ. ১ পৃ. ২০৩

ইবনে তাইমিয়া রহ. এরর অভিমত:

ولو أخذَ ما زاد على القبضةِ لم يُكرَهْ نصَّ عليه كما تقدَّمَ عن ابن عمر

অর্থ: ইবনে উমার রা. এর বর্ণিত হাদিসের আলোকে যদি কেউ এক মুষ্টির বাহিরে অতিরিক্ত টুকু কাটে তাহলে মাকরুহ হবে না।
সূত্র: শরহুল উমদাহ খ. ১ পৃ. ২২৩

একমুষ্টির অতিরিক্ত কাটা বিকলাঙ্গ নয়।

মহিলাদের জন্য মাথার চুল কাটা জায়েয। কারণ হাদিসে এসেছে,

كَانَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْخُذْنَ مِنْ رُءُوسِهِنَّ حَتَّى تَكُونَ كَالْوَفْرَةِ

অর্থ: নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ তাদের মাথার চুল এমনভাবে ছেঁটে-কেটে রাখতেন যে, শেষ পর্যন্ত তা ওয়াফরা (চুলের মাথা কেটে কান পর্যন্ত করা হলে তাকে ওয়াফরা বলা হয়) এর মত হয়ে যেতো।
সূত্র: সহীহ মুসলিম হাদীস: ৩২০ বুখারী: ২৫১

সুতরাং দাঁড়ি এক মুষ্ঠির পর অতিরিক্ত অংশ কাটা বিকলাঙ্গের অন্তুর্ভূক্ত নয়। যেমন মহিলারা চুল কেটে ছোট করা বিকলাঙ্গের অন্তুর্ভূক্ত নয়। এজন্য নবীজির সা. স্ত্রীরা চুল কাটতেন।

Check Also

…৫১ নাম্বারে আমার নাম। …করোনাকালীন সময়ে কোথায় ছিলে ما يلفظ من قول الا الخ তোমাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.