Home > সমসাময়িক ফিৎনা > মাইজভান্ডারী পীরের ভ্রান্ত ও কুফরী আক্বীদা।

মাইজভান্ডারী পীরের ভ্রান্ত ও কুফরী আক্বীদা।

আল্লাহ অনেক রূপ ধরেন:

আল্লাহর পরিচয় দিতে গিয়ে তারা বলেন,

‘ চিনিতে কে পারে যিনি নানা রূপ ধরে।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ১৯ পৃ.

নবীই মূলত আল্লাহ।

আমি আহাদ ছিলাম, মীম (م) কে নিজের মধ্যে স্থান দান করিলাম। মহব্বত ও ভালোবাসাতে নিজকে আহমাদ নামে পরিচিত করিলাম।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ১১৬

আমি মীম (م) শূণ্য আহমাদ, মুহাম্মদের আকৃতিতে খোদাতায়ালাই উজ্জলিত। বিকাশ যখন আসিল, মুহাম্মদ কোথায় রহিল?
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ১১৬

গোপতে আহাদ- নামেতে আহমদ,
মানব সুরতে- আদম সরদার।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ২৪ পৃ. ১৮

 

আল্লাহ ও পীর এক এবং অভিন্ন।

খোদা মুর্শিদ নহে ভিন- এস্কের দুর্বিন দিয়া দেখিবা নয়নে।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ১৫ পৃ. ১৪

 

পীরকে রুকু-সিজদা করা:

অধীন হাকিম বাণী- রোজা নামাজ হক জানি,
রুকু আর সজিদা করি মুর্শিদ চরণেরে।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ৩১ পৃ. ২২

মাইজভান্ডারী পীরই আল্লাহ!

মাইজভান্ডারীদের দাবী:

মাইজভান্ডারীর গ্রহনযোগ্য একটি শের’র বই হলো ‘রত্নভাণ্ডার’। এই বইটির ভেতরে তারা লিখেছে,

হাদীর মুখতার, ত্রিজগতের সার,
প্রকাশ হইলো নামে- গাউছে মাইজভান্ডার।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ২৪ পৃ. ১৮

আহমদে বেমীম পেয়ারে-মাইজভান্ডার।’
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ৩২ পৃ. ২৩

অর্থ: মাইজভান্ডারী হলেন মীম ছাড়া আহমাদ। অর্থাৎ আহমাদ থেকে মীম বাদ দিলে থাকে ‘আহাদ’। আর সেই ‘আহাদ’ হলেন মাইজভান্ডারী।

ইসলাম কি বলে?

প্রিয় পাঠক, আমরা জানি ‘আহাদ’ হলেন মহান আল্লাহ তা’আলার একটি নাম। যার অর্থ একক। যেটা সুরা ইখলাসে আছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

قل هو الله احد
উচ্চারণ: ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।
অর্থাৎ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, (আহাদ) একক।
সূরা ইখলাস, আয়াত: ১

সুতরাং বুঝতে পারলাম, আল্লাহ তা’আলাই ‘আহাদ’। সুতরাং যারা আজ নিজেদের পীরকে ‘আহাদ’ বলে দাবী করছে, তারা কি কাফের-মলিক নয়?

সব ধর্ম মেনে জান্নাতে যাওয়া যাবে।

বেলায়েতে মোতলাকা তৌহিদে আদয়্যানের বা ধর্ম ঐক্যের সমর্থক।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ৫৫

বেলায়েত শক্তি অর্জনকারীরা বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদকে নীতিগতভাবে একই দৃষ্টিতে দেখে।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ৫৫

যাহারা বলে বেহেস্তে শুধু নাসারা ও ইহুদী ছাড়া অন্য কেহ যাইতে পারিবে না, ইহা তাহাদের মনগড়া কথা।

একটু পরে গিয়ে তারা আবার লিখেছেন,

‘ইহুদীদের মত যাহারা মনে করে, বেহেস্ত কেবল তাহাদের জন্য তাহারাও এই হুকুমের অন্তর্ভূক্ত।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ৫৫

গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর নিকট বর্ণগত বা ধর্মগত কোনো প্রকার ভেদাভেদ নাই। তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষ সকলকে গ্রহণ করিয়া সকলের মনোবাসনা পূর্ণ করেন। তাই তিনি শ্রেষ্ট ত্রানকর্তা মানব বা গাউছুল আজম।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ১৫৪

এবং তারা এটার পক্ষে কয়েক পৃষ্ঠার দলীলও পেশ করেছেন।

বেলায়েতে মোকাইয়্যাদা যুগ বিকাশ” শিরোনামের অধীনে “পরিবতিত বেলায়েতে মোতালাকা যুগ” উপশিরোনামে লেখা হয়েছেঃ

“সময়ের ব্যবধানে ও ইসলামী হুকুমাতের অবসানের ফলে ইস্লামী ধরমজগতে নানা এখতেলাফ বা মতানৈক্য দেখা দেয়। তখন পরম করুনাময় আল্লাহ তা’আলা তাঁহার বাতেনী শাসন পদ্ধতির প্রথানুযায়ী সমুচিত হেদায়েত ও উপযুক্ত শক্তিশালী ত্বরীক্তের প্রভাবে জগৎবাসীকে অন্দধকার হইতে সহজতম ভাবে উদ্ধার মানসে বেলায়েতে মোকাইয়্যাদায়ে মোহাম্মদীকে “বেলায়েতে মোতালাকায়ে আহমদী” রূপে পরবরতিত করেন। ইহা বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদকে নীতিগত ভাবে একই দৃষ্টিতে দেখে। কারণ ইহা মনে করে যে, বিভিন্ন মতবাদের “মত ও পথ” বিভিন্ন হইলেও প্রত্যেকের গন্তব্যস্থল এক”।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ৫৪-৫৫

 

গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর নিকট বর্ণগত বা ধর্মগত কোনো প্রকার ভেদাভেদ নাই। তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষ সকলকে গ্রহণ করিয়া সকলের মনোবাসনা পূর্ণ করেন। তাই তিনি শ্রেষ্ট ত্রানকর্তা মানব বা গাউছুল আজম।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ১৫৪

বিধর্মীদের মুরিদ বানাতেন।

গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী সকল ধর্ম্বাবলম্বীর তরীকা অবলম্বনকারীদিগকে স্ব-স্ব তরীকা বা স্ব-ধর্মে ঠিক রাখিয়া নিজ বেলায়েতের ধারা বা পদ্ধতি অনুযায়ী ফয়জ বিতরণ করিতে সমর্থ দেখা যায়।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ১১৫

গান-বাজনা, নৃত্য বৈধ।

স্বয়ং রসুৃলে করিম হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং তাঁহার সহচর আছহাবগণ নির্দোষ গান বাজনা শুনিয়াছেন এবং ‘অজদ’ ভাববিভোর নৃত্যও করিয়াছেন।
সূত্র: বেলায়েতে মুতলাকা পৃ. ১৫১

সৎ উদ্দেশ্যে গান বাজনা ইসলাম বিরোধী নহে, বরং জায়েয ও বৈধ।
সূত্র: বেলায়েতে মুতলাকা পৃ. ১৫১

 

জিকিরের সময় নাচানাচি

এই নৃত্যমান জিকিরের কৌশল প্রকৃত সনাতন ইসলামী হেকমত। ইহা কোনো নতুন আবিস্কার বা অনৈসলামিক কৌশল ও পদ্ধতি নহে।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ১৫১

জিকিরের সময় বাজনা:

গজল গীতির সুরে ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে একাগ্রচিত্তে খোদার প্রেম-প্রেরণা জাগ্রত অবস্থায় জিকির করিতে করিতে সমস্ত অঙ্গ প্রতঙ্গ জাগ্রত গইয়া জিকির করিতে থাকে।
সূত্র: বেলায়েতে মোতলাকা পৃ. ১৫১

 

মালাকুল মউত মূলত গাউছে আজম।

দাসগণের প্রাণ হরিতে- ভয় নাহি দূত সামনে,
ফুল দেখাই প্রাণ হরিবে- নিজ হাতে গাউছ ধনে।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ২১ পৃ. ২১

 

কবরে গাউছে আজম আসবে।

মনকির নাসিরের ডর- কবরে নাহিক মোর,
আদবের চাবুক মারি- হাঁকাইবেন গাউছে ধনে।
কবর কোশাদা হবে- পুষ্পসয্য্ বিছাইবে,
সামনে বসি হালকা বন্দি- করাইবেন গাউছ ধনে।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ২১ পৃ. ২১

হাশরে মুক্তি দেবেন গাউছে আজম।

হীন দাস হাদি কর- হাশরেতে নাহি ভয়,
পিছে পিছে দাসগণ ফিরাইবেন গাউছে ধনে।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ২১ পৃ. ২১

পুলছিরাত পার করবে গাউছুল আজম:

তাহার দামানে হাত দিয়ে আমরা একসাত,
নূরের বিজলি ছটে, পুলছেরাত হব পার।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ১৬ পৃ. ১৪

ত্রিভূবনে মুক্তি দেবেন গাউছুল আজম:

ত্রিজগতে নাহি ভয়, যথা তথা পাবে জয়,
যার হৃদয় প্রবেশিছে, প্রেম শাহা মাইজভান্ডার।
চৌদিকে বেড়িয়া রবে গাউসুল আজম মাইজভান্ডার।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ১৬ পৃ. ১৪

শঙ্কট তরাইতে হাদি-মুর্শিদ কর সঙ্গে জনা।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ৭ পৃ. ৭

মুর্শিদ বাবার চরণ ধরি- চালাও তরী হুশিয়ারে।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ১১ পৃ.

গাউস ধনের শ্রীচরণ, তাহার চরণে রাখ মুক্তির ভরসা।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ৯ পৃ. ৮

জান্নাত জাহান্নামের কর্তা গাউছুল আজম:

বিচ্ছেদ মিলন তান, দোযখ বেহেশত ও জান,
মুর্শেদ গুপ্তের কর্তা- জানিও সন্ধানে।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ১৫ পৃ. ১৪

 

যার পীর নাই, তার পীর শয়তান:

যার নাই মুর্শিদ মন- মুর্শিদ তার হয় শয়তান,
হাদিছেতে নবীজীর এইমত ফরমান।
সূত্র: রত্নভাণ্ডার শের নং- ৬ পৃ.৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.