Home > সমসাময়িক ফিৎনা > মদপানকারীকে সালাম দেওয়া:

মদপানকারীকে সালাম দেওয়া:

প্রিয় পাঠক, মদ্যপানকারী ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া মাকরুহ। কিন্তু তথাকথিত কিছু শায়খদের উদ্ভট ফাতাওয়ায় জনসাধারণ বিপাকে পড়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি হলো,
‘মদ খাচ্ছে এমন লোককেও সালাম দেন।’

এক.
কিন্তু ইসলামী শরীয়তে এ ব্যাপারে সরাসরি প্রমাণ রয়েছে। খোদ ইমাম বুখারী রহি. তাঁর সহিহ বুখারীতে একটি পরিচ্ছেদে বলেন,
‘গুনাহগার ব্যক্তির তাওবাহ করার আলামাত প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এবং গুনাহ্গারের তাওবাহ কবূল হবার প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত যিনি তাকে সালাম করেননি এবং তার সালামের জবাবও দেননি।’

পরিচ্ছেদে তিনি সনদ ছাড়া একটি হাদিস এনেছেন,

عن عبدِ اللَّهِ بنِ عمرو بنِ العاصِ قالَ لاَ تُسَلِّمُوا على شربة الخمرِ

অর্থাৎ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. বলেন, তোমরা মদ্যপায়ীকে সালাম দিও না।
সূত্র: সহিহ বুখারী, কিতাবুল ইস্তিযান ২১ নং বাবের ৬২৫৫ নং হাদিসের আগে।

উক্ত হাদিসটি ইমাম বুখারী রহি. তাঁর লিখিত আরেকটি গ্রন্থ
আল আদাবুল মুফরাদের ১০১৭ নং বর্ণানায় সনদসহ এনেছেন।

হাদিসের মান:

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে উক্ত আছারকে আহলে হাদিস শায়খদের পক্ষ থেকে যয়ীফ তথা দুর্বল হাদিস হিসাবে চালিয়ে দিচ্ছেন। তাদের প্রশ্ন হলো, উক্ত বর্ণনার সনদে উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহার নামক একজন রাবী রয়েছেন, যিনি দুর্বর্ণ রাবী।

অথচ ইমাম আবু উবাঈদ আল আজুরী রহি. বলেন,

قال أَبُو دَاوُد سمعت أَحْمَد يَقُول عُبَيد اللَّه بْن زحر ثقة
أَحْمَد بْن صَالِح المِصْرِي

অর্থাৎ ইমাম আবু দাউদ রহি. বনেছেন, আমি আহমাদ ইবনে ছালেহ আল মিসরীকে রহি. বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহার রহি. একজন বিশ্বস্ত রাবী ছিলেন।
সূত্র: তাহযিবুল কামাল খ. ১৯ পৃ. ৩৮  বযলুল মাজহুদ খ. ১৪ পৃ. ২৫২

ইমাম আবু যুর’আ রহি. বলেন,

لا بَأْسَ بِهِ صَدُوقٌ

অর্থাৎ তাঁর হাদিস গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই, তিনি বিশ্বস্ত রাবী।
সূত্র: আল ই’লাম বেফাওয়ায়িদি উমদাতিল আহকাম খ. ৯ পৃ. ৩২৩

ইমাম নাসাঈ রহি. বলেন,

ليس به بأس

অর্থাৎ তাঁর হাদিস গ্রহণের কোনো সমস্যা নেই।
সূত্র: আল ই’লাম বেফাওয়ায়িদি উমদাতিল আহকাম খ. ৯ পৃ. ৩২৩

وقال الخطيب كان رجلا صالحا
সূত্র: বযলুল মাজহুদ খ. ১৪ পৃ. ২৫২

وقال البخاري مقارب الحديث
সূত্র: বযলুল মাজহুদ খ. ১৪ পৃ. ২৫২

ونقل الترمذي في العالي عن البخاري انه ثقة
সূত্র: বযলুল মাজহুদ খ. ১৪ পৃ. ২৫২

ولم يضعفه البيهقي في سننه
সূত্র: আল ই’লাম বেফাওয়ায়িদি উমদাতিল আহকাম খ. ৯ পৃ. ৩২২

সুতরাং প্রমাণ হলো, হাদিসটি যয়ীফ নয়। যদি হাদিসটি যয়ীফও হয়, তবুও তো এটা জাল হাদিস নয়। যয়ীফ হাদিস হলেই যে সেটা মানা যাবে না এটা একটা চরম মূর্খতা।

দুই.
উপরন্তু যারা প্রকাশ্যে গুনাহে লিপ্ত তাদের সাথে কথা বলাও মাকরুহ।

أنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ تَبُوكَ وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَلاَمِنَا وَآتِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُسَلِّمُ عَلَيْهِ فَأَقُولُ فِي نَفْسِي هَلْ حَرَّكَ شَفَتَيْهِ بِرَدِّ السَّلاَمِ أَمْ لاَ حَتَّى كَمَلَتْ خَمْسُونَ لَيْلَةً وَآذَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِتَوْبَةِ اللَّهِ عَلَيْنَا حِينَ صَلَّى الْفَجْرَ‏

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব রহি. বলেন, যখন কা’ব ইবনু মালিক তাবূকের যুদ্ধে যোগদান না করে পিছনে রয়ে যান, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সালাম কালাম করতে সকলকে নিষেধ করে দেন। (তখনকার ঘটনা) আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসতাম এবং তাঁকে সালাম করতাম আর মনে মনে বলতাম যে, আমার সালামের জবাবে তাঁর ঠোঁট দু’টি নড়ছে কিনা। পঞ্চাশ দিন পূর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের সময় ঘোষণা দিলেন যে, আল্লাহ তা’আলা আমাদের তওবা কবূল করেছেন।
সূত্র: সহিহ বুখারী, হাদিস: ৬২৫৫

সুতরাং বুঝা গেলো, প্রকাশ্যে গুনাহ জড়িত ব্যক্তিদের সালাম দেওয়াটাও নবীজির সা. কাছে পছন্দ ছিলো না। এজন্য মাযহাবের উলামায়ে কেরাম বলেন, প্রকাশ্যে গুনাহকারী কে সালাম দেওয়াও মাকরুহ। ইবনে আবিদীন শামী আল হানাফী রহি. বলেন,

يكره السلام علي الفاسق لو معلنا والا لا

অর্থাৎ প্রকাশ্যে গুনাহকারী কে সালাম দেওয়া মাকরুহ। প্রকাশ্যে না করলে দেয়া যাবে।
সূত্র: রদ্দুল মুহতার খ. ২ পৃ. ৩৭৪

সুতরাং প্রকাশ্যে মদ্যপায়ী ব্যক্তিকে সালাম দেওযা যাবে বলে যে, ফাতাওয়া দেওয়া হচ্ছে তা নিতান্তই ভুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.