নবীজির সা. বিচার।

সরকার দলীয় এক নেতা প্রেমে স্যাকা খেয়ে ভাবলো, বেঁচেই থাকবো না, মরেই যাবো। মরার চিন্তা নিয়ে দোকানে গেল দড়ি কিনতে। ঘরে ফিরে ফ্যানের সাথে লটকিয়ে গলায় দিয়ে ঝুলে পড়ার সাথে সাথে দড়ি ছিড়ে পড়ে গেল। মেজাজ খারাপ করে দড়ি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখে দড়িতে ভেজাল।

হতাশা নিয়ে আবার দোকানে গিয়ে বলল, এক বতল ইঁদুর মারা বিষ দেন। বিষ এনে পুরোটাই খেলো, কিন্তু শুধু মুখ দিয়ে ফ্যানা বের হচ্ছে কিন্তু মরে না। ঘরের লোকজন টের পেয়ে দ্রুত হসপিটালে নিয়ে গেলো। ডাক্তার ওয়াশ করার পর প্রশ্ন করলো কি খেয়েছিলি? বলল, বিষ। ডাক্তার জবাব দিলেন, এ বিষ বিশ বতল খেলেও মরবি না। কেন? বিষে ভেজাল।

বেচারা ভাবলো, এভাবে মরা যাবে না। রেল লাইনে গিয়ে ট্রেনের রাস্তায় নিজের গলা দিয়ে শুয়ে পড়লো। একজন এসে প্রশ্ন করলো, এখানে শুয়ে আছো কেন? সে বলল বেঁচে থাকবো না, মরেই যাবো।লোকটি বললল, কোনো লাভ নেই, এটা বাংলাদেশের ট্রেন, ট্রেনের ইঞ্জিন নষ্ট, আজকের ট্রেন তিন দিন পরে আসবে।

মন খারাপ করে লোকটি ঢাকা টি চিটাগাং মহাসড়কে এসে সন্ধার পর রাস্তায় শুয়ে পড়লো, ভাবলো, গাড়ি এসে চাপা দিয়ে ফিনিস করে দিয়ে যাবে। কিন্তু সকাল পর্যন্ত শুয়েই থাকলো, কিন্তু গাড়ি আসেনি। সকালে একজন এসে জিজ্ঞেস করলো, এখানে শুয়ে আছো কেন? লোকটি বলল, গাড়ির নিচে পড়ে মরে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সারারাত গাড়ি আসেনি। লোকটি বলল, আসবে কেমনে? দেশটা এখন ডিজিটাল, সব কিছুতে ভেজাল। বিরোধী দল ডেকেছে তিন মাসে হরতাল।

লোকটির মাথা খারাপ হয়ে গেলো, ভাবলো, এভাবে যেহেতু মরতে পারলাম না, সুতরাং কাউকে খুন করবো। তাহলে তো অন্তত ফাঁসি হবে। ভাবনা মতো, একজনকে খুন করে থানায় গিয়ে আত্মসমার্পন করলে, আদালতে উপস্থিত করা হলো, বিচারক জিজ্ঞাসা করলো, খুন করেছো? হ স্যার। খুন করার সময় মাথা ঠিক ছিলো? বললো, জি স্যার, কি মনে করেছেন, আমাকে কি তারছেড়া মনে হচ্ছে নাকি? জেনে বুঝেই খুন করেছি। ফের বিচারক জিজ্ঞাসা করলো, কোন দল করো? লোকটি বলল, সরকারী দল। বিচারক বললেন, বেকসুর খালাস ফাঁসি হবে না।

নবীজির সা. বিচার ব্যবস্থা।

عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها أَنَّ قُرَيْشًا، أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ، فَقَالَ وَمَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ ‏”‏‏.‏ ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ، ثُمَّ قَالَ ‏”‏ إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ، وَايْمُ اللَّهِ، لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ ابْنَةَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا ‏”‏‏.‏

অর্থ: হযরত আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, মাখযূম গোত্রের জনৈক চোর মহিলার ঘটনা কুরাইশের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন করে তুললো। এ অবস্থায় তারা (পরস্পর) বলাবলি করতে লাগল এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কে আলাপ আলোচনা (সুপারিশ) করতে পারে? তারা বলল, একমাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয়তম ব্যাক্তি ওসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ) এ জটিল ব্যাপারে আলোচনা করার সাহস করতে পারেন। (নবীজীর খেদমতে তাঁকে পাঠান হল তিনি এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে) ক্ষমা করে দেয়ার সুপারিশ করলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লংঘনকারিণীর সাজা (হাত কাটা) মাওকুফের সুপারিশ করছ? তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুত্‌বায় বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে এ কাজই ধ্বংস করেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা বিনা সাজায় তাকে ছেড়ে দিত। অপরদিকে যখন কোন সহায়হীন দরিদ্র সাধারন লোক চুরি করত, তখন তার উপর হদ্‌ (হাতকাটা দণ্ডবিধি) প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মদ এর কন্যা ফাতিমা চুরি করত (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) তবে আমি তার হাত অবশ্যই কেটে ফেলতাম।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ৩৪৭৫

সুতরাং মানবরচিত আইন দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব না, ন্যায় বিচারের জন্য একমাত্র নবীজির সা. দ্বীনের খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা জরুরী।

Check Also

জান্নাতী হওয়ার আমল তিনটি

হক্বের মানদনণ্ড কি কি? قَدْ جَاءكُم مِّنَ اللّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ সুরা মায়িদা: ১৫ وَمَا …

Leave a Reply

Your email address will not be published.