হযরত তালহা ইবনে বারা রা.

ولما قدم رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى المدينة لقيه طلحة وجعل يلصق برسول اللَّه صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ويقبل قدمه وهو غلام حدث وقال يا رَسُول اللَّهِ مرني بما شئت لا أعصى لك أمرًا فضحك رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وقال اذهب فاقتل أباك فخرج موليًا ليفعل

অর্থাৎ হযরত রাসুলুল্লাহ সা. যখন মাদীনায় আগমন করলেন, হযরত তালহা ইবনে বারা রা. নবীজির সা. সাক্ষাতে আসলেন। তিনি বারবার রাসুল সা. এর শরীরের সঙ্গে লেগে যাচ্ছিলেন। রাসুল সা. এর পবিত্র পা মোবারকে চুমু খেলেন। আর তিনি ছিলেন কম বয়সী কিশোর। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনার যা ইচ্ছে আমাকে যে আদেশ করবেন, সে আদেশ আমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করবো। তালহার রা. (চেহারায় আনুগত্যের দীপ্তরেখা দেখে) রাসুল সা. মুচকি হেসে বলেন, যাও, তোমার বাবকে হত্যা করো। তালহা ইবনে বারা রা. এ কথার শোনার সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করলেন।
সূত্র: আসাদুল গায়াহ ফি মারিফাতিস সাহাবাহ (ইবুনল আসীর) খ. ৩ পৃ. ৮১

আমাদের সমাজে যে যতবড় নেতা হোক না কেন
নেতা এমন কথা বললে চামচারা বাবাকে আঘাত করা তো দুরের কথা নেতাকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে।

তালহার রা. অবস্থা দেখে রাসুল সা. বলেন, ‘আরে থামো!

يا طلحة إنه ليس في ديننا قطيعة الرحم ولكن أحببت أن لا يكون في دينك ريبة فأسلم فحسن إسلامه

হে তালহা, আমাদের ইসলাম ধর্মে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু আমি আসলে ভালোবাসি এটা যে, দ্বীনের ব্যাপারে যেন তোমার কোনো সন্দেহ না থাকে। অতপর তিনি উত্তম মুসলিম হলেন।
সূত্র: তাবরানী হাদিস: ৮১৬৩

কিছুদিন পর ছোট্র সাহাবী হযরত তালহা রা. অসুস্থ হলে নবীজি সা. তার শুশ্রূষা করার জন্য আসলেন। যাবার পথে নবীজি সা. তাঁর পরিবারকে বলে গেলেন,

إِنِّي أَرَى طَلْحَةَ قَدْ حَدَثَ فِيهِ الْمَوْتُ فَإِذَا مَاتَ فَآذِنُونِي حَتَّى أُصَلِّيَ عَلَيْهِ وَعَجِّلُوا فَإِنَّهُ لا يَنْبَغِي لِجَيْفَةِ مُسْلِمٍ أَنْ تُحْبَسَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ أَهْلِهِ

আমি তালহার মধ্যে মৃত্যুর পূর্বাভাস দেখছি। যখন তাঁর মৃত্যু হয়ে যাবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে, যাতে আমি তার জানাজা পড়াতে আসতে পারি। আর তার কাফন-দাফনের ব্যবস্থা যেন দ্রুত করা হয়। কারণ মুসলমানের মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য কাফন-দাফনে বিলম্ব অনুচিত।
সূত্র: আসাদুল গায়াহ খ. ৩ পৃ. ৮১

রাত গভীরে তালহার রা. যখন হুশে ফিরলেন তখন তিনি প্রশ্ন করলেন,

ما عادني رسول الله صلى الله عليه وسلم قالوا بلى فأخبروه بما قال فقال لا ترسلوا إليه في هذه الساعة فتلسعه دابة أو يصيبه شيء

আমার শুশ্রূষা করার জন্য কি নবীজি সা. এসেছিলেন? তারা বললেন, হ্যাঁ, এবং নবীজির সা. বলে যাওয়া কথাগুলো তাঁকে শুনালে তিনি বললেন, ” এই গভীর রাতে (আমি যদি মারা যাই) নবীজির সা. কাছে সংবাদ পাঠিয়ো না। হতে পারে নবীজিকে সা. কোনো বিষাক্ত প্রাণী দংশন করবে বা কোনো বিপদ হতে পারে।
সূত্র: তাবরানী হাদিস: ৮১৬৩

অন্য বর্ণনায় আছে, তালহা রা. বললেন,

ادفِنوني وألحِقوني بربِّي تبارك وتعالى ولا تَدْعوا رسولَ اللهِ ﷺ فإنِّي أخافُ عليه اليهودَ ولا يصاب في سَبَبي

আমাকে (রাতেই) দাফন করে দিও এবং আমার রবের সাথে আমার মিলিত করে দিও। তবে রাসুল সা. কে ডাকবে না। কারণ আমার ভয় হচ্ছে যে, কোনো (রাতের সুযোগে) ইয়াহুদী তার উপর আক্রমণ করে বসবে। আমার কারণে নবীজির সা. উপর কোনো বিপদ না আসে।
সূত্র: মাজমাউয যাওয়ায়েদ খ. ৯ পৃ. ৩৬৮

যখন সকাল হবে তখন

فأقرئوه مني السلام وقولوا له فليستغفر لي

আমার পক্ষ থেকে নবীজিকে সা. সালাম দিও এবং তাঁকে বলো যেন, তিনি আমার জন্য মাগফিরাত কামনা করেন।
সূত্র: তাবরানী হাদিস: ৮১৬৩

অতপর গভীর রাতে তিনি ইন্তেকাল করলেন। নবীজি সা. ফজরের সালাত আদায় করার পর তালহার রা. বিষয়ে জানতে চাইলে সাহাবায়ে কেরাম রা. তার ইন্তেকালের খবর বললেন এবং তাঁর কথাগুলোও নবীজিকে সা. জানিয়ে দিলেন।

فجاء حتى وقف على قبرِه وصف الناس معه

অতপর নবীজি সা. তাঁর কবরের পাশে দাঁড়ালেন, তাঁর সাথে সাহাবায়ে কেরামও রা. সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ালেন।
সূত্র: মাজমাউয যাওয়ায়েদ খ. ৩ পৃ ৪০

فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده

অতপর নবীজি সা. তাঁর হাত মোবারক উঠিয়ে দূআ করলেন।
সূত্র: তাবরানী হাদিস: ৮১৬৩

اللهمَّ القَ طلحةَ تَضحَكُ إليه ويضحَكُ إليك

হে আল্লাহ! তোমার সঙ্গে যেন তালহার সাক্ষাৎ এমন হয় যে, তাকে দেখে তুমি হাসবে আর তোমাকে দেখে সে হাসবে
সূত্র: মাজমাউয যাওয়ায়েদ খ. ৩ পৃ ৪০

Check Also

মায়ের বদ দুআ ও পরবর্তী ফল।

  وعن أَبي هريرة رضي اللَّه عنه عن النبي صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قال : …

Leave a Reply

Your email address will not be published.