নবীজির সা. মুখে দুর্গন্ধ ছিলো! কতবড়া মিথ্যাচার লা-মাযহাবীর!

রাসুলুল্লাহ সা. ছিলেন সর্বকালের, সকল মানুষের জন্য অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। নবীজির সা. সকল বিষয়ই উম্মতের জন্য এক মহান সবক। এজন্য আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রিয় হাবিবের সৌন্দর্য,চরিত্র বা পরিচ্ছন্নতায় কোনো ধরণের ত্রুটি থাকার সুযোগ দেননি। মানবীয় ত্রুটি ও স্বভাবগত সকল দোষ থেকে তিনি ছিলেন পবিত্র। যদি তিনি সকল দোষ থেকে পবিত্র না হতেন, তাহলে মহান আল্লাহ তাঁকে অনুসরণের কথা বলতেন না।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পরিস্কার পরিচ্ছনতার মূর্তপ্রতিক সেই নবীজি সা. কে নিয়ে জঘণ্যতম একটি মিথ্যাচার করে বসলেন, সময়ের আলোচিত-সমালোচিত একজন লা-মাযহাবী শায়খ। তিনি একটি কথা প্রসঙ্গে বলে বসলেন, “নবী (মুহাম্মাদ সা. ) এর মুখে মানবিক গন্ধ ছিলো, এজন্য জিব্রাঈল আ. এসে বলতেন মুখে গন্ধ আছে মুখটা পরিস্কার করেন, মুখটা পরিস্কার করেন, মুখটা পরিস্কার করেন। যতবার আসে ততবার বলেন, দাঁত পরিস্কার করতে।” (নাউযুবিল্লাহ)

কতবড় জঘন্য মিথ্যাচার! কিভাবে সম্ভব একজন মুসলমানের পক্ষে একন বাজে মন্তব্য করা? অথচ পরিস্কার-পরিচ্চন্নতার ব্যাপারে নবীজি সা. বলেন,

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏عُرِضَتْ عَلَىَّ أُجُورُ أُمَّتِي حَتَّى الْقَذَاةُ يُخْرِجُهَا الرَّجُلُ مِنَ الْمَسْجِدِ

অর্থ: হযরত আনাস ইবনু মালিক রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন; আমার উম্মতের কাজের বিনিময় (সওয়াব) আমাকে দেখান হয়েছে- এমনকি মসজিদের সামান্য ময়লা পরিস্কারকারীর ছওয়াবও।
সূত্র: সুনান আবু দাউদ হাদিস: ৪৬১

নবীজি সা. আরও বলেন,

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضى الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ‏مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ يَعْنِي الثُّومَ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا

অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি এ জাতীয় গাছ থেকে খায়, তিনি এ দ্বারা রসুন বুঝিয়েছেন, সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ৮৫৩

যেই নবী সা. নিজে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এমন খাবার খেতে নিষেধ করতেন, সেই নবী মুখে দুর্গন্ধ নিয়ে ঘুরতেন? এটা কি সুস্থ কোন মানুষ বিশ্বাস করতে পারে? কি জঘন্যতম মিথ্যাচার নবীজির সা. নামে।

প্রিয় পাঠক, নবীজি সা. এর শরীর শরীর মোবারকের ঘ্রাণ কেমন ছিল চলুন দেখা যাক।

হযরত আনাস রা. বলেন,

وَلاَ شَمِمْتُ مِسْكَةً وَلاَ عَبِيرَةً أَطْيَبَ رَائِحَةً مِنْ رَائِحَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏

অর্থ: আর আমি রাসুলুল্লাহ সা. এর (শরীরের) ঘ্রাণ হতে অধিক সুগন্ধযুক্ত কোন মিশক বা আম্বর পাইনি।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ১৯৭৩

থুথু মোবারক মিষ্টি ছিল।

عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم بزق في بئر داره، فلم يكن بالمدينة بئر أعذب منها

অর্থ: হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবীজি সা. তাঁর (আনাস রা.) বাড়িতে অবস্থিত কুপটিতে থুথু ফেলেছিলেন, ফলে সেটা মাদীনায় এত বেশি মিষ্টি পানির কুপ আর একটিও ছিল না।
সূত্র: ওফাউল ওফা খ. ২ পৃৃ. ১২৫

নবীজির সা. ঘাম মোবারক:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ دَخَلَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عِنْدَنَا فَعَرِقَ وَجَاءَتْ أُمِّي بِقَارُورَةٍ فَجَعَلَتْ تَسْلُتُ الْعَرَقَ فِيهَا فَاسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هَذَا الَّذِي تَصْنَعِينَ ‏قَالَتْ هَذَا عَرَقُكَ نَجْعَلُهُ فِي طِيبِنَا وَهُوَ مِنْ أَطْيَبِ الطِّيبِ

অর্থ: হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের গৃহে আসলেন এবং আরাম করলেন। তিনি ঘর্মাক্ত হলেন, আর আমার মা একটি ছোট বোতল নিয়ে মুছে তাতে ভরতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, হে উম্মু সুলায়ম! একি করছ? আমার মা বললেন, এ হচ্ছে আপনার ঘাম, যা আমরা সুগন্ধির সঙ্গে মেশাই, আর এ তো সব সুগন্ধির সেরা সুগন্ধি।
সূত্র: সহিহ মুসলিম হাদিস: ২৩৩১

প্রিয় দ্বীনি ভাই, যে নবীর সা. ঘাম মোকারককেও আল্লাহ তা’আলা মেশক-আম্বরের চেয়েও ঘ্রাণ বানিয়ে দিয়েছিলেন, সে নবীজির মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে, এটা কি কোনো সুস্থ মানুষ বিশ্বাস করতে পারে? আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকল ভুল ক্ষমা করে দিন। আমীন।

Check Also

খতমে তারাবীহ কি বিদআত?

হানাফী মাযহাব: السنة فى التراويح إنما هو الختم مرة، فلا يترك لكسل القوم অর্থাৎ তারাবীহের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.