নবীজি সা. তারাবীহ কত রাকাত পড়েছেন?

 

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَصَلَّى بِصَلاَتِهِ نَاسٌ ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ ثُمَّ اجْتَمَعُوا مِنْ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ أَوْ الرَّابِعَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ وَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلاَّ أَنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত ‘আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন, কিছু লোক তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলো। পরবর্তী রাতেও তিনি সালাত আদায় করলেন এবং লোক আরো বেড়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতে লোকজন সমবেত হলেন, কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন না। সকাল হলে তিনি বললেনঃ তোমরা যা করেছ আমি লক্ষ্য করেছি। তোমাদের নিকট বেরিয়ে আসার ব্যাপারে এ আশঙ্কাই আমাকে বাধা দিয়েছে যে, তোমাদের উপর তা ফরজ হয়ে যাবে। এটা ছিল রমাযান মাসের ঘটনা।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ১১২৯

উক্ত হাদিসে নবীজি সা. যে তারাবীহের নামাজ পড়েছেন, সেটার প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু কত রাকাত পড়েছেন এটার কথা উল্লেখ্য নেই। কিন্তু অন্য হাদিসে রাকাতের কথা উল্লেখ্য রয়েছে।

হাদিস: ১

عن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلى فى رمضان عشرين ركعة والوتر

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ রমজান মাসে বিশ রাকাত এবং বিতির পড়তেন।
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদীস: ৭৭৭৪
তবরানী: ১২১০২ বাইহাকী: ৪৭৯৯ তারিখে বাগদাদ খ. ৬ পৃ. ১১৩ ফাতহুল বারী খ. ৪ পৃ. ২৯৯ মাজমাউজ যাওয়ায়েদ খ. ৩ পৃ. ১৭৫ মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ: ২১৮ উমদাতুল কারী খ. ১১ পৃ. ১৮১ আউনুল মা’বুদ খ. ৪ পৃ. ১৩০ নাসবুর রায়াহ খ. ২ পৃ. ১৫৩ আল ইসতেযকার খ. ২ পৃ. ৭০ আত তামহীদ খ. ৮ পৃ. ১১৫

হাদিস: ২

عن جابر بن عبد الله قال خرج النبى صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فى رمضان فصلى الناس اربعة وعشرون ركعة واوتر بثلاثة

অর্থাৎ হযরত জাবের রাঃ বলেন, রমাযান মাসের এক রাতে রাসূল সা, বাহিরে আসলেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে ২৪ রাকাত ( তথা ৪ রাকাত এশার ফরজ ও ২০ রাকাত তারাবীহের) নামায পড়ালেন। আর তিন রাকাত বিতির পড়ালেন।
সূ্ত্র: তারীখে জুরজান হাদিস: ৫৫৬

উক্ত হাদিস দুটি থেকে এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমানীত যে, নবীজি সা. সাহাবায়ে কেরামকে ২০ রাকাত তারাবীহ পড়িয়েছেন।

অভিযোগ:

উক্ত হাদিস দুটো পেশ করার পর অনেক আহলে হাদিসের শায়খরা বলেন, হাদিস দুটো যয়ীফ। সুতরাং এ দুটো হাদিস দলীল হওয়ার উপযুক্ত নয়।

জবাব: ১
কথিত আহলে হাদীস শায়খরা বলে থাকেন যে, আমরা কোনো ব্যক্তিকে মানি না, আমরা শুধু কুরআন ও সহীহ হাদীস মানি। তাহলে আর এ দু’টি হাদীসকে কুরআন বা হাদিসের কোথাও যয়ীফ বলা হয়নি। সুতরাং কোনো হাদিসের ইমামের কথানুযায়ী হাদিস দুটো অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

জবাব: ২
হাদিস দুটি যয়ীফ হলেও জাল নয়। আর এ যয়ীফ হাদিসের বিপক্ষে কোন সহীহ রেওয়ায়েতও আজ পর্যন্ত তারা পেশ করতে পারেননি। সুতরাং হাদিস দুটো যয়ীফ হলেও এর বিপক্ষে যেহেতু কোনো সহিহ হাদীস নেই, সেহেতু এ হাদিস দুটি খেয়াল করেই ২০ রাকাত পড়া উচিৎ।

জবাব: ৩
হাদিস দুটি যয়ীফ হলেও সকল সাহাবায়ে কেরাম রা. এ হাদিস দুটোর উপর আমল করেছেন। যা কথিত আহলে হাদিসের শায়খরাও বলে থাকেন যে, সাহাবায়ে কেরাম ২০ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন। সুতরাং হাদিস দুটো সাহাবায়ে কেরাম রা. মানতে পারলেও কথিত এ শায়খরা মানতে পারলেন না। কারণ কি? জাতি জানতে চায়।

জবাব:৪

কোনো হাদিস যদি দুর্বলও হয়, আর সে হাদিসের উপর যদি উম্মতের ঐক্যমত্বের আমল থাকে, তাহলে আমল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার দ্বারা উক্ত হাদীস সহীহ এর মান পায়। আর উপরোক্ত হাদিস দুটির উপর সকল মুসলমানের আমল প্রমাণিত। যা ইবনে তাইমিয়া রহ. উল্লেখ্য করে বলেন,

ثبت من سنة الخلفاء الراشدين وعمل المسلمين

অর্থাৎ (তারাবীহের নামাজ ২০ রাকাত) এটি খুলাফায়ে রাশেদীন এবং সকল মুসলমানের আমল দ্বারা প্রমাণিত।
সূত্র: আল-ফাতাওয়া আল কুবরা খ. ২ পৃ. ২৫০

সুতরাং হাদিস দুটি যয়ীফ হলেও তার উপর আমল করাও হাদিস বিশারদদের উসূল থেকেই প্রমাণিত। অতএব নবীজি সা. যে ২০ রাকাত তারাবিহ পড়েছেন এটাই হাদিস থেকে প্রমাণিত হলো।

Check Also

ইমাম সাহেবের হুজরায় যেতে পারবে কি না?

إن خرج من غير عذر ساعة فسد اعتكافه অর্থাৎ কোনো প্রয়োজন ছাড়া যদি ইতিকাফকারী ব্যক্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.