পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে একজন কোরবানী দিলে সবার থেকে আদায় হবে কি?

এক পরিবারের পক্ষ থেকে একজন কোরবানী দিলে আদায় হবে না।
বরং যারা নেসাবের মালিক সবাইকে অালাদা আলাদা কোরবানী দিতে হবে।
কোরবানীর ব্যপারে প্রত্যেককে হুকুম করা হয়েছে।
আল্লাহ তা’আলা বলেন-

فصل لربك وانحر

অর্থাৎ আপনি আপনার রবের জন্য সালাত আদায় করুন এবং কোরবানী করুন।
সুরা কাউসার-আয়াত-২

এখানে নামাজ যেমন প্রত্যেকের জন্য হুকুম করা হয়েছে,
তেমনি কোরবানীও প্রত্যেক সামার্থবানদের জন্য হুকুম করা হয়েছে।
অতএব নেসাবের মালিক সবাইকে কোরবানী দিতে হবে।
পরিবারের থেকে একজন করলে আদায় হবে না।

রাসুলুল্লাহ সঃ বলেন-

عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من كان له سعة ولم يضح فلا يقربن مصلانًا

অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোরবানি দিতে সক্ষম অর্থাৎ নেসাবের পরিমাণ মালের মালিক সে যদি কোরবানি না দেয় তাহলে সে যেন আমাদের ঈদগাহেই না আসে।
সূত্রঃ জামে সগীর হাদিস: ৮৯০৪ ইবনে মাযা-২১২৩ মুসনাদে আহমাদ-৮২৭৩ অাত-তামহীদ-খ: ২৩ পৃ: ১৯০ অাল-ইযতিযকার- খ:৪ পৃ: ২২৮

এখানে সামর্থবান সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। পুরো পরিবারবর্গ ধমকানো হয়নি। এখান থেকে আরেকটি বিষয় বোঝা যায়, পরিবারের মধ্যে যেই সামর্থবান হবে, তাকে কোরবানী দিতেই হবে। তা না হলে সকল পরিবারকে ধমকানো হতো।

সুৎরাং উল্লেখিত আয়াত এবং হাদিসসহ অারো অসংখ্য আয়াত এবং হাদিস সমুহ দ্বারা প্রমাণিত হয়,যে প্রত্যেকের উপর কোরবানি ওয়াজীব।

একটি অভিযোগ:

কিন্তু এ ব্যাপারে আরেকটি হাদিস রয়েছে-

عن مخنف بن سليم قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم على كلِّ أهلِ بيتٍ أُضحيَةٌ

অর্থাৎ মিখনাফ ইবনে সুলাইম রাযিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, (প্রতি বছর) প্রত্যেক পরিবারের উপর একটি করে কোরবানী জরুরী।
সূত্রঃ সুনানে আবু দাউদ হাদিস: ২৭৮৮ তিরমিযি-১৫১৮ নাসাঈ-৪২২৪ ইবনে মাযা-৩১২৬ আহমাদ-২০৭৩১

এ হাদিসে তো পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কোরবানীর কথা বলা হচ্ছে?

জবাব:

এখানে প্রত্যেক পরিবারের জন্য একটা কোরবানী ওয়াজীব বলা হয়েছে। কিন্তু এ হাদিসের প্রকাশ্য অর্থ অার অায়াতের মাঝে কিছুটা বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।
সুতরাং যেহেতু উল্লেখিত কোরআনের আয়াত এবং অসংখ্য হাদীসের দ্বারা এটা বোঝা যায় যে প্রত্যেকের উপর কুরবানী ওয়াজিব।
সুতরাং এই হাদীসটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।
কারণ আয়াতের সাথে হাদিসের বৈপরিত্ব দেখা দিলে হাদিসটির ব্যাখ্যা করতে হয়।

আর সেজন্যই উলামায়ে কেরাম হাদিসটির ব্যাখ্যা করেছেন যে, হাদীসটি এমন পরিবারের উপরে প্রযোজ্য যেই পরিবারের মূল কর্তা থাকেন একজন এবং পুরো পরিবারের সমস্ত সম্পত্তির মালিক থাকেন তিনি।
যিনি ব্যতীত পরিবারের অন্য সদস্যগণ কেউ নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হন না।
সুতরাং এমন পরিবারের উপর শুধু কর্তার উপর কোরবানী ওয়াজিব হবে। যেহেতু তিনিই একমাত্র নেসাবের মালিক।
তবে অন্য কেউ যদি নেসাবের মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের উপরও কোরবানি দিতে হবে এটাই কোরআন এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায়।

যেমন যদি কারো উপর যাকাত ওয়াজীব হয়, তাহলে একই পরিবারের একাধিক লোকের উপর যদি ওয়াজিব হয় তাহলে তাদের উপর যাকাত ওয়াজীব যারা নেসাবের মালিক।
এক্ষেত্রে একজন যাকাত দিলে বাকিদের থেকে আদায় হবে না।
যেমন পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে একজন নামাজ আদায় করলে সবার থেকে আদায় হবে না।
একজন হজ্ব করলে সবার থেকে আদায় হবে না।
একজন রোজা রাখলে সবার থেকে আদায় হবে না।
যার উপর ফরজ বা ওয়াজীব তারই আদায় করতে হবে।
তেমনি নেসাবের মালিক যেই হোক তার উপরেই কোরবানী ওয়াজিব।
চাই তারা একই পরিবারের হোক অথবা ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের হোক।

 

লেখকঃ

মুফতী রিজওয়ান রফিকী

পরিচালক: মাদরাসা মারকাযুন নূর বোর্ড বাজার,গাজীপুর।

Check Also

মহিলারা কুরবানীর পশু যবাহ করতে পারবে?

  মুসলিম মহিলারা কুরবানীর পশু যবাহ করতে পারবে। যদি তারা যবাহের নিয়ম ভালোভাবে জানে। তবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.