Home > হিজবুত তাওহীদ > কবিরা গুনাহের হিসাব লাগবে না: হেযবুত তওহীদ

কবিরা গুনাহের হিসাব লাগবে না: হেযবুত তওহীদ

কবিরা গুনাহের হিসাব লাগবে না: হেযবুত তওহীদ

প্রিয় পাঠক! হেযবুত তওহীদ নামক এ কুফরী সংগঠন ইসলাম ধর্মটি নিয়ে যতসব কুরআন-হাদিস বিরুধী মনগড়া বক্তব্য দিয়েই চলেছে। কিয়ামতের ময়দানে এমন ভয়নক পরিস্থিতি তৈরি হবে যখন অন্যান্য নবিগণ পর্যন্ত ইয়া নাফসী ইয়া নাফসী করতে থাকবেন। বান্দা নিজের ছোট বড় সকল গুনাহের জন্য জবাবদিহি করা ছাড়া কেউ নিস্তার পাবে না। অথচ হেযবুত তওহীদ নামক এ কুৃফরী সংগঠণের দাবি হলো, তাওহীদে অবিচল থাকলে যে গুনাহই করুক না কেন কোনো সমস্যা নেই সে জান্নাতে চলে যাবে। এমনকি কবীরা গুনাহ করলেও সে জাহান্নামে যাবে না, বরং সেও হিসাব ছাড়াই যাবে। চলুন তাদের মতবাদ কি সেটা দেখা যাক।

হেযবুত তওহীদের দাবি:

হেযবুত তওহীদের দাবিগুলো তাদের বই থেকেই দেখুন। তারা লিখেছে,

তওহীদে থাকলে গুনাহ করলেও সমস্যা নেই:

‘এই একটি শর্ত (তওহীদ) পালন করলে কোনো গুনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না।‘’
সূত্র: আকিদা পৃ:৭

তওহীদে থাকলেই ব্যক্তিগত সকল গুনাহ মাফ:

‘মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনে ভুল-ভ্রান্তি ও গুনাহ করবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু যদি তারা তওহীদের স্বীকৃতি দিয়ে হেদায়েতে অটল থাকে তাহলে তাদের ভয় নেই, ব্যক্তিগত কোন গুনাহই তাদেরকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।’
সূত্র: তওহীদ জান্নাতের চাবি-১১

তওহীদ থাকলেই পৃথিবী ভর্তি গুনাহও মাফ:

‘সেরাতুল মুস্তাকীমে অর্থাৎ তওহিদের যে ব্যক্তি অটল থাকবে, বিচ্যুত হবে না, পৃথিবী ভর্তি গোনাহও তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না।’
সূত্র: তওহীদ জান্নাতের চাবি পৃ:১৩ এসলামের প্রকৃত রুপরেখা পৃ: ৪৪ তাকওয়া ও হেদায়াহপৃ: ৪

তওহীদ থাকলে কবিরা গুনাহও মাফ:

‘তওহীদে যিনি অবিচলরতার মহাপাপও (গুনাহে কবীরা) হিসাবে ধরা হবে না।’
সূত্র: আকিদা পৃ:৭

‘এমনকি চুরি ও ব্যভিচারের মত কবিরা গুনাহকারীও জান্নাতে যাবে যদি সে সাচ্চা, সত্য সত্যই বিশ্বাস করে যে এলাহ,বিধানদাতা, আল্লাহর ছাড়া আর কেউ নেই।”
সূত্র: শ্রেণীহীন সমাজ সাম্যবাদ প্রকৃত ইসলাম পৃষ্ঠা-৭১

‘প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কেন তওহীদের গুরুত্ব প্রচার করছি? এই যে কোর’আনের আয়াত ও হাদীসগুলো উল্লেখ করা হলো, যেগুলোতে দেখা যাচ্ছে কেবল তওহীদের স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে ছোট ছোট অপরাধ তো বটেই, এমনকি চুরি, ব্যভিচার, হত্যা সমস্ত অপরাধকেই ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।’
তওহীদ জান্নাতের চাবি-১৫

‘এই একটি শর্ত (তওহীদ) পালন করলে কোনো গুনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না;এমনকি মহানবীর উল্লেখিত ব্যভিচার ও চুরির মত কবিরা গোনাহও না।’
সূত্র: আকীদা-৭

‘মৃত্যুদণ্ডের পরে ইসলামের সবচেয়ে কঠিন দন্ড হচ্ছে চুরি আর ব্যভিচারের যারা এই দুটো জঘন্য অপরাধও করবে তাদেরকেও আল্লাহ জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন না, যদি সে একমাত্র আল্লাহকেই তার হুকুমদাতা হিসাবে বিশ্বাস ও মান্য করে।’
সূত্র: প্রিয় দেশবাসী পৃষ্ঠা-৬৫

প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত কথা দ্বারা তারা দাবি করে বসেছেন যে, তাওহীদে থাকলে ছগিরা-কবিরা গুনাহ এমনকি হত্যা,যিনা,চুরির মত গুনাহের কারণেও সে জাহান্নামে যাবে না। চলুন দেখি ইসলাম কি বলে।

ইসলাম কি বলে?

কিয়ামতে সগীরা গুনাহেরও হিসাব দিতে হবে:

তাওহীদে বিশ্বাসী হওয়ার পরও গুনাহগারদেরকে কিয়ামতে হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। এমনকি সগীরাগুনাহেরও হিসাব দিতে হবে। এ সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত এবং হাদিস রয়েছে। কয়েকটি দলিল নিন্মে তুলে ধরলাম। মহান আল্লাহ বলেন,

وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا

অর্থ: আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।
সুরা কাহাফ, আয়াত: ৪৯

অপর আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন,

يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ

অর্থ: সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।
সুরা যিলযাল, আয়াত: ৬-৮

হাদিস শরীফে এসেছে,

عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لها يا عائشةُ إِيّاكِ و مُحقَّراتِ الذُّنوبِ فإنَّ لها مِنَ اللهِ طالِبًا

অর্থ: হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আয়েশা! ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও। কারণ সেগুলোর জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে।
সূত্র: জামে সগীর হাদিস-২৯০১ ইবনে মাযাহ-৪২৪৩ মুসনাদে আহমাদ-২৪৪১৫ (হাদিস: সহিহ)

প্রিয় পাঠক! একবার ভেবে দেখুন তো। হযরত আয়েশা রাঃ কি তাওহীদে অবিচল ছিলেন না? নিশ্চয় ছিলেন। তারপরও নবীজি সা. তাঁকে কেন ছোট ছোট গোনাহ থেকেও বাঁচতে
বলেছেন? যেখানে নবীজি সা. দাবি করছেন সগীরা বা ছোট গুনাহেরও হিসাব দিতে হবে,সেখানে হেযবুত তওহীদ দাবি করে বসেছে ‘কবিরা গুনাহেরও হিসাব দিতে হবে না। এটা কত্তবড় গোমরাহী এবং কুফরী বক্তব্য একটু ভাবুন তো।
সুতরাং উপরোক্ত আয়াতগুলো ও হাদিস থেকে স্পষ্ট হলো যে, ছোট বড় যেকোনো গুনাহই হোক না কেন কিয়ামতে তার হিসাব দিতেই হবে।

কোন সগীরা গুনাহের হিসাব দিতে হবে না?

অবশ্য যাদের কবিরা গুনাহ নেই,তাদের সগীরা গুনাহ কেয়ামতে মাফ করে দেয়া হবে। মহান রব বলেন-

إِن تَجْتَنِبُواْ كَبَآئِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلاً كَرِيمًا

অর্থ: যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।
সুরা নিসা, আয়াত: ৩১

সুতরাং বুঝা গেলো, কবীরা গুনাহ না থাকলে সগীরা গুনাহ ক্ষমাযোগ্য। কিন্তু কবীরা গুনাহ তওবা ছাড়া ক্ষমা করা হবে না, বরং কবীরাগুনাহ নিয়ে কবরে গেলে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে। যার প্রমাণ অসংখ্য আয়াতে এবং হাদিসে এসেছে। চলুন এখানে কয়েকটি আয়াত এবং হাদিস দেখা যাক।

কিয়ামতে কবীরা গুনাহেরও হিসাব দিতে হবে:

পবিত্র কুরআন শরীফে মহান রব বলেন-

وَٱلَّذِینَ لَا یَدۡعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ وَلَا یَقۡتُلُونَ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِی حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَا یَزۡنُونَۚ وَمَن یَفۡعَلۡ ذَ ٰ⁠لِكَ یَلۡقَ أَثَامࣰا یُضَـٰعَفۡ لَهُ ٱلۡعَذَابُ یَوۡمَ ٱلۡقِیَـٰمَةِ وَیَخۡلُدۡ فِیهِۦ مُهَانًا

অর্থ:এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। সুরা ফুরকান আয়াত৬৮-৬৯

কিন্তু এ জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য কি করতে হবে সে কথাও আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন সাথে সাথেই।

إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلࣰا صَـٰلِحࣰا فَأُو۟لَـٰۤىِٕكَ یُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَیِّـَٔاتِهِمۡ حَسَنَـٰتࣲۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورࣰا رَّحِیمࣰا

অর্থ: কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে ফিরে আসার স্থান আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
করবে। সুরা ফুরকান আয়াত-৭০

পাঠক! দেখুন উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা ক্ষমা পাওয়ার জন্য ৩ টি শর্ত দিয়েছেন।
১. তওবা ২.ঈমান ৩. সৎকর্ম।

তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম শুধু তওহীদে বিস্বাস থাকলেই জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং তওহীদে ঈমানের পাশাপাশি আরো দুটি কাজ করতে হবে।১. গুনাহ থেকে তওবা ২. সৎকাজ।

অপর আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন,

مَا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ

অর্থ: সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।
সূত্র: সুরা ক্ব-ফ, আয়াত: ১৮

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন,

يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُّحْضَرًا وَمَا عَمِلَتْ مِن سُوَءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ أَمَدًا بَعِيدًا وَيُحَذِّرُكُمُ اللّهُ نَفْسَهُ وَاللّهُ رَؤُوفُ بِالْعِبَادِ

অর্থ: সেদিন প্রত্যেকেই যা কিছু সে ভাল কাজ করেছে; চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ করেছে তাও, ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার এবং এসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দুরের হতো! আল্লাহ তাঁর নিজের সম্পর্কে তোমাদের সাবধান করছেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। সুরা আলে ইমরান আয়াত-৩০

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

يُنَبَّأُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ بَلِ الْإِنسَانُ عَلَى نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ وَلَوْ أَلْقَى مَعَاذِيرَهُ

অর্থ: সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে যা সামনে প্রেরণ করেছে ও পশ্চাতে ছেড়ে দিয়েছে। বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুমান। যদিও সে তার অজুহাত পেশ করতে চাইবে।
সুরা কিয়ামাহ আয়াত-১৩-১৫

শয়তানেরর কি ঈমান ছিলো না?

প্রিয় পাঠক, আগে ইবলিসের পরিচয় জেনে নেয়া যাক। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন,

كَانَ إِبْلِيسُ اسْمُهُ عَزَازِيلُ وَكَانَ مِنْ أَشْرَافِ الْمَلَائِكَةِ

অর্থাৎ  ইবলিসের নাম ছিলো ‘আযাযিল’ এবং সে ফিরিস্তাদের মধ্যে সবচে সম্মানিত ছিলো।
সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর খ. ১ পৃ. ৩৫৮

বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রহ. বলেন,

كان ابليس رئيس ملائكة سماء الدنيا

অর্থাৎ ইবলিস দুনিয়ার আসমানের ফিরিস্তাদের নেতা ছিলো।
সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর খ. ১ পৃ. ৩৫৮

কিন্তু এতদ্বসত্বেও আযাযিল ইবলিসে পরিনত হলো কেন? চলুন সেটার প্রমাণ পবিত্র কুরআন থেকে দেখে নেওয়া যাক।
মহান রব বলেন,

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ

অর্থ: যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল।
সুরা কাহাফ, আয়াত: ৫০

অপর আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلاَئِكَةِ اسْجُدُواْ لآدَمَ فَسَجَدُواْ إِلاَّ إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ

অর্থ: এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।
সুরা বাকারা, আয়াত: ৩৪

প্রিয় দ্বীনি ভাই, এখানে একটি বিষয় খুব ভাবুন, ইবলিসের আল্লাহর একাত্ববাদে বিশ্বাস নিশ্চয় ছিলো।  শুধু বিশ্বাসই ছিলো না, বরং ফিরিস্তাদের মধ্যে সবচে সম্মানিত ছিলো। কিন্তু সে আল্লাহর কাছ থেকে বিতাড়িত হলো শুধু আল্লাহর বিধানের লঙ্ঘন ও অহংকারের কারণে। আর আল্লাহর বিধান অমান্য করা বা অহংকার করা উভয়টি কিন্তু কবীরা গুনাহ। আর এ কবীরাগুনাহের কারণে কিন্তু ইবলিস বিতাড়িত হয়েছিলো।

গুনাহগারকে দুনিয়াতেও শাস্তি দেয়া হয়:

فَلَمَّا نَسُواْ مَا ذُكِّرُواْ بِهِ أَنجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُواْ بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُواْ يَفْسُقُونَ

অর্থ: অতঃপর যখন তারা সেসব বিষয় ভুলে গেল, যা তাদেরকে বোঝানো হয়েছিল, তখন আমি সেসব লোককে মুক্তি দান করলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করত। আর পাকড়াও করলাম, গোনাহগারদেরকে নিকৃষ্ট আযাবের মাধ্যমে তাদের না-ফরমানীর দরুন। (সুরা আরাফ আয়াত-১৬৫)

গুনাহের কারণেই দুনিয়াতে গজব নামে:

ظَهَرَ ٱلۡفَسَادُ فِی ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ بِمَا كَسَبَتۡ أَیۡدِی ٱلنَّاسِ لِیُذِیقَهُم بَعۡضَ ٱلَّذِی عَمِلُوا۟ لَعَلَّهُمۡ یَرۡجِعُونَ

অর্থ: স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।
সুরা রুম আয়াত-৪১

হত্যার গুনাহ:

হেযবুত তওহীদের দাবি ছিলো,

‘এই একটি শর্ত (তওহীদ) পালন করলে কোনো গুনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না;এমনকি মহানবীর উল্লেখিত ব্যভিচার ও চুরির মত কবিরা গোনাহও না।’
সূত্র: আকীদা পৃ.৭

হত্যা:

অথচ হত্যাকারীদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا

অর্থ: যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।
সুরা নিসা, আয়াত: ৯৩

চুরি:

চোরদের ব্যাপারে মহান রব বলেন,

وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

অর্থ: চোর পুরুষ হোক বা স্ত্রী হোক উভয়ের হাত কেটে দাও। এটা তাঁদের কর্মফল এবং আল্লাহর নিকট থেকে শিক্ষামূলক শাস্তিবিধান। আর আমার সর্বজয়ী ও প্রজ্ঞাময়।
সূরা আল-মায়িদা : ৩৮

চোরদের উপর নবিজির স: অভিশাপ:

عَنْ أبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قال قال رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم لَعَنَ اللهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ البَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ وَيَسْرِقُ الحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, চোরের উপর আল্লাহর লা‘নত হোক, যখন সে একটি হেলমেট চুরি করে এবং এ জন্য তার হাত কাটা হয় এবং সে একটি রশি চুরি করে এ জন্য তার হাত কাটা হয়।
সূত্র: সহিহ বুখারী, হাদিস: ৬৭৮৩

যিনা-ব্যভিচারের গুনাহ:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

অর্থ: তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।
সুরা ইসরা, আয়াত: ৩২

কুরআন শরীফে মহান রব বলেন-

وَٱلَّذِینَ لَا یَدۡعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ وَلَا یَقۡتُلُونَ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِی حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَا یَزۡنُونَۚ وَمَن یَفۡعَلۡ ذَ ٰ⁠لِكَ یَلۡقَ أَثَامࣰا یُضَـٰعَفۡ لَهُ ٱلۡعَذَابُ یَوۡمَ ٱلۡقِیَـٰمَةِ وَیَخۡلُدۡ فِیهِۦ مُهَانًا

অর্থ:এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। সুরা ফুরকান আয়াত৬৮-৬৯

قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُواْ بِاللّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللّهِ مَا لاَ تَعْلَمُونَ

অর্থ: আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না।
সুরা আরাফ আয়াত: ৩৩

যিনা,মদ্যপান,চুরি,ডাকাতির সময় ঈমান থাকে না:

وَعَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلا يَشْرَبُ الخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلا يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيهَا أبْصَارَهُمْ حِينَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যভিচারী মু’মিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোন মদ্যপায়ী মু’মিন অবস্থায় মদ পান করে না। কোন চোর মু’মিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন লুটতরাজকারী মু’মিন অবস্থায় এরূপ লুটতরাজ করে না যে, যখন সে লুটতরাজ করে তখন তার প্রতি লোকজন চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে।
সূত্র: সহীহ বুখারী হাদিস-২৪৭৫ মুসলিম-৫৭

সুদ.

উপরন্তু আল্লাহ তা’য়ালা ঈমানদারদের ভেতর যারা সুদখোর তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ فَإِن لَّمْ تَفْعَلُواْ فَأْذَنُواْ بِحَرْبٍ مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لاَ تَظْلِمُونَ وَلاَ تُظْلَمُونَ

অর্থ: হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।
সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৮-২৭৯

এরপরও কি এ কথা বলার সুযোগ আছে যে, ঈমান থাকলেই আর কোন গুনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফিরাতে পারবে না?

নবিজি সা. হত্যা,চুরিকে হারাম ঘোষণা করেছেন:

وَعَنْ أبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأمْوَالَكُمْ وَأعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ

অর্থ: হযরত আবু বকরা রা: থেকে বর্ণিত, নবিজি স: বলেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-মাল ও তোমাদের ইজ্জত-সম্মানে হস্তক্ষেপ তোমাদের উপর হারাম।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস-৪৪০৬ মুসলিম-১৬৭৯

উপরোক্ত আয়াত এবং হাদিসগুলো থেকে প্রমাণ হলো যে, হত্যা,চুরি,ডাকাতি,ব্যাভিচার,সুদ,মদপান ইত্যাদী হারাম করা হয়েছে। যারা এসব কাজে লিপ্ত হবে এমনকি রাসুল সা. এর অবাধ্য হবে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,

وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ

অর্থ: যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। (সুরা নিসা আয়াত-১৪)

প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত আয়াত এবং হাদিসগুলো থাকার পরও যারা বলেন, “তাওহীদে থাকলে চুরি,যিনা,হত্যা করলেও জান্নাত নিশ্চিত” তারা কি আদৌ মুসলিম থাকতে পারে?

একটি অভিযোগ:

‘তওহীদে থাকলেই জাহান্নাম হারাম বা জান্নাতে চলে যাবে’ এ কথাটি বলতে গিয়ে তারা যে দলীল পেশ করে থাকেন তা হলো-

عن أبي ذر الغفاري قال أَتَيْتُ النبيَّ ﷺ وعليه ثَوْبٌ أبْيَضُ وهو نائِمٌ ثُمَّ أتَيْتُهُ وقَدِ اسْتَيْقَظَ فَقالَ ما مِن عَبْدٍ قالَ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ ثُمَّ ماتَ على ذلكَ إلّا دَخَلَ الجَنَّةَ قلت وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ؟ قالَ وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ قلت وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ قال وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ قُلتُ وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ قال وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ

অর্থাৎ হযরত আবু যর গিফারী রাঃ বলেন আমি নবি সঃ এর কাছে আসলাম দেখলাম তিনি সাদা কাপড় শরীর মোবারকের উপরে দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন।
পরে আবার এসে জাগ্রত দেখলাম। নবি সঃ বললেন যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে সে মৃত্যুর পর জান্নাতে যাবে।
আবু যর রাঃ বললেন যদি সে যিনা ব্যভিচার করে তবুও? নবি সঃ বললেন হ্যাঁ যদি যিনা ব্যাভিচার করে তবও।
আবু যর রাঃ বললেন যদি সে যিনা ব্যভিচার করে তবুও? নবি সঃ বললেন হ্যাঁ যদি যিনা ব্যাভিচার করে তবও।
আবু যর রাঃ বললেন যদি সে যিনা ব্যভিচার করে তবুও? নবি সঃ বললেন হ্যাঁ যদি যিনা ব্যাভিচার করে তবুও।
সূত্রঃ বুখারী-৫৮২৭ মুসলিম-৯৪ সুনানে কুবরা নাসাঈ-১০৯৬৩ আহমাদ-২৭৪৯১

উক্ত হাদিস দ্বারা তো বুঝা যাচ্ছে তওহীদ থাকলেই কবিরা গুনাহ হলেও জান্নাত নিশ্চিত।

জবাব:

প্রিয় পাঠক! এটা হলো হেযবুত তওহীদের বড় ভ্রষ্টতা ও মুর্খতা যে, তারা একটি হাদিস দেখেই ফতাওয়া দিয়ে দিলেন। অথচ তাদের জানা থাকা দরকার নবিজি স: থেকে প্রায় ১০ লাখ হাদিস রয়েছে। এই একটি হাদিস দেখেই ফতাওয়া দিলে উপরোল্লিখিত আয়াত-হাদিসসহ আরো অগনিত আয়াত হাদিস যে বাদ দিতে হবে, সেটার কিন্তু খেয়াল তারা করলেন না। এ ক্ষেত্রে তিনটি জবাব লক্ষনীয়।

১. দুনিয়া থেকেই তওবা করে গেলে আখেরাতে ক্ষমা পাবে। মহান আল্লাহ বলেন,

إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلࣰا صَـٰلِحࣰا فَأُو۟لَـٰۤىِٕكَ یُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَیِّـَٔاتِهِمۡ حَسَنَـٰتࣲۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورࣰا رَّحِیمࣰا

অর্থ: কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে ফিরে আসার স্থান আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
করবে। সুরা ফুরকান আয়াত-৭০

২. তওবা করে না গেলেও আল্লাহ ইচ্ছা করলে মুমিনদের কাউকে শুরুতেই মাফ করতে পারেন। কারণ কুরআন শরীফে এসেছে,

أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَـٰوَ ٰ⁠تِ وَٱلۡأَرۡضِ یُعَذِّبُ مَن یَشَاۤءُ وَیَغۡفِرُ لِمَن یَشَاۤءُۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَیۡءࣲ قَدِیرࣱ

অর্থ: তুমি কি জান না যে আল্লাহর নিমিত্তেই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। (সুরা মায়িদা আয়াত-৪০)

৩. উপরোক্ত হাদিসটি ব্যখ্যা সাপেক্ষ।অর্থাৎ হাদিসে যে বলা হচ্ছে- যিনা ব্যাভিচার করলেও জান্নাতে যাবে। এর অর্থ হলো ‘গুনাহের কারণে জাহান্নামে যাবে। আর তওহীদের কারণে একদিন সে আবার জান্নাতে যাবে। আর এ কথাটি আমার বানানো জবাব নয়, বরং নবিজি স: এর আরেকটি হাদিসে রয়েছে।

عَنْ أَنَسٍ عن النبي صلي الله عليه وسلم قال يَخْرُجُ مِنَ النّارِ مَن قالَ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ، وفي قَلْبِهِ وزْنُ شَعِيرَةٍ مِن خَيْرٍ، ويَخْرُجُ مِنَ النّارِ مَن قالَ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ، وفي قَلْبِهِ وزْنُ بُرَّةٍ مِن خَيْرٍ، ويَخْرُجُ مِنَ النّارِ مَن قالَ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ، وفي قَلْبِهِ وزْنُ ذَرَّةٍ مِن خَيْرٍ

অর্থাৎ হযরত আনাস রাঃ নবি সঃ থেকে বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাহ বলেছে এবং অন্তরে যব পরিমান নেকি থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং তাকেও বের করা হবে যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে এবং আমল নামায় গম পরিমান নেক রয়েছে এবং তাকেও বের করা হবে যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে এবং অন্তরে অনুপরিমান নেকি রয়েছে।
সূত্রঃ বুখারী হাদিস-৪৪ মুসলিম-১৯৩

প্রিয় পাঠক! উক্ত হাদিসে বলা হলো তওহীদ থাকলেও জাহান্নামে যাবে। কিন্তু শাস্তি ভোগ করে একদিন ঈমানের কারণে বের করা হবে। কারণ বেঈমানদের কোন মুক্তি নেই। নবিজি স: বলেন-

عن أبي هريرة عن النبي صلي الله عليه وسلم قال يَلْقى إبْراهِيمُ أباهُ، فيَقولُ: يا رَبِّ إنَّكَ وعَدْتَنِي أنْ لا تُخْزِيَنِي يَومَ يُبْعَثُونَ، فيَقولُ اللَّهُ: إنِّي حَرَّمْتُ الجَنَّةَ على الكافِرِينَ

অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন নবি সঃ বলেছেন (কেয়ামতের দিন) ইবরাহীম আঃ তাঁর বাবা (আযরের) সাথে দেখা করবেন। অতঃপর আল্লাহ তা’য়ালাকে বলবেন হে আল্লাহ! আপনি কি আমার সাথে ওয়াদা করেননি যে, আমাকে কেয়ামতের দিন অপমানিত করবেন না? (অর্থাত বাবাকে আসামী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার মত অপমান আমাকে করবেন না।)তখন আল্লাহ তা’য়ালা বলবেন আমি কাফেরদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি।
সূত্রঃ বুখারী হাদিস-৪৭৬৯

অর্থাৎ বেঈমানদের কোন মুক্তি হবে না। তবে ঈমানদারগণ শাস্তি ভোগ করে একদিন জাহান্নাম থেকে মুক্ত হয়ে জান্নাতে যাবে। সে কথাই নবিজি স: বলেছেন যে, যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লালাহ বলবে সে জান্নাতে যাবে। সে যিনা করুক বা চুরি করুক।একদিন না একদিন জান্নাতে যাবে। এ কথাটি নিয়ে হেযবুত তওহীদে তাদের সদস্যদের অন্তরে কৌশলে গুনাহের ভয় উঠিয়ে সবাইকে জাহান্নামের দিকে ধাক্কা দিচ্ছে।

স্ববিরোধী বক্তব্য:

আর এ কথাটি তারা স্বীকার করতে বাধ্য। কারণ চোর চুরি করলেও নিশানা রেখে যায়। এমনটিই করেছে এ কুফরী সংগঠন হেযবুত তওহীদ। কারণ তারা এক জায়গায় তাদের মতের বিপরীত কথা লিখেই ফেলেছে।

‘মানুষ শুধু দেহসর্বস্ব নয়, সে দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে গঠিত একটি সামাজিক জীব। শুধু ইহকাল নয়, তার পরকালও আছে। মানুষের আত্মারই তার পরিচালক, তাই তাকে অবশ্যই এই শিক্ষা দিতে হবে যে তার প্রত্যেকটি কাজ ও চিন্তা প্রত্যক্ষ করছেন এবং হিসাব রাখছেন একজন সর্বশ্রেষ্ঠ, ক্ষমতাবান স্রষ্টা। প্রতিটি মানুষকে একদিন যাবতীয় কর্মের হিসাব দিতে হবে এবং জবাবদিহি করতে হবে, তার জন্য পুরস্কার ও কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।’
সূত্র: গণমাধ্যমের করণীয় পৃষ্ঠা-৪১

সামষ্টিক জিবনেও মানতে হবে:

যারা তাঁর সার্বভৌমত্বকে স্বীকার কোরে নিয়ে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে পাঠানো আইন-কানুন, আদেশ-নিষেধকে তাদের সমষ্ঠিগত জীবনে প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগ কোরবে, তাদের তিনি গ্রহণ কোরবেন, ব্যক্তিগত সমস্ত অপরাধ, গোনাহ মাফ কোরে তাদের জান্নাতে স্থান দেবেন।
সূত্র: দাজ্জাল পৃষ্ঠা-১২

সুতরাং প্রমাণ হলো, কিয়ামতে শুধু তাওহীদে ঈমান থাকলেই জান্নাতে যাওয়া যাবে না। অবশ্যই গুনাহের জন্য জাহান্নামে যেতে হবে। তবে আল্লাহ যদি কাউকে দয়া করে ক্ষমা করে দেন, সেটা তাঁর দয়া। কিন্তু স্বাভাবিক নিয়ম হলো তাকে অবশ্যই জাহান্নামে যেতে হবে। শাস্তি শেষে বা আল্লাহ যখন চান তখন মুমিনদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।

 

Check Also

উম্মতের বয়স ৬০/৭০ বছর।

প্রিয় পাঠক, আমি আগাগোড়াই বলে আসছি, হেযবুত তওহীদ একটি ভ্রান্ত দল। তাদের এ ভ্রান্তির পেছনে …

৭ comments

    • মুফতি সাহেবর নিকট আবেদন ৷

      নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময় মসজিদের ফ্যান,লাইট ব্যবহার করে নফল নামাজ পড়া বা জিকির করা বা তিলাওয়াত করা এবং নিজ প্রয়োজনে মসজিদের জিনিস ব্যবহার করা কি জায়েজ?
      মেহেরবানী করে উত্তরটা জানালে অনেক উপকৃত হব।

  1. তাসনিফ সাফফান সাদি

    মুহতারাম! I love u.আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন।আর আপনি এদের বিরুদ্ধে লিখে যান।ইসলামই বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।

    • মুহতারাম আসসালামুয়ালাইকুম করুণা পরিস্থিতিতে যদি ঈদের নামাজ জামাতে পড়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে বাসায় কি পড়া যাবে যদি পড়া যায় খুতবা না পড়লে কি চলবে যদি খুতবা না থাকে তাহলে কি করব ঐ অবস্থায় কি পড়া যাবে দেশের বাইরে থেকে বলছি অনুগ্রহ করে জানাবেন

      • মুহতারাম আসসালামুয়ালাইকুম করুণা পরিস্থিতিতে যদি ঈদের নামাজ জামাতে পড়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে বাসায় কি পড়া যাবে যদি পড়া যায় খুতবা না পড়লে কি চলবে যদি খুতবা না থাকে তাহলে কি করব ঐ অবস্থায় কি পড়া যাবে দেশের বাইরে থেকে বলছি অনুগ্রহ করে জানাবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.