কবিরা গুনাহের হিসাব লাগবে না: হেযবুত তওহীদ

প্রিয় পাঠক! হেযবুত তওহীদ নামক এ কুফরী সংগঠন ইসলাম ধর্মটি নিয়ে যতসব কুরআন-হাদিস বিরুধী মনগড়া বক্তব্য দিয়েই চলেছে। কিয়ামতের ময়দানে এমন ভয়নক পরিস্থিতি তৈরি হবে যখন অন্যান্য নবিগণ পর্যন্ত ইয়া নাফসী ইয়া নাফসী করতে থাকবেন। বান্দা নিজের ছোট বড় সকল গুনাহের জন্য জবাবদিহি করা ছাড়া কেউ নিস্তার পাবে না।

অথচ হেযবুত তওহীদ কত সহজভাবে ইসলামকে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি হলো-
(১) তওহীদে থাকলেই নিশ্চিত জান্নাত:
(২) তওহীদে থাকলেই ব্যক্তিগত সকল গুনাহ মাফ:
(৩) তওহীদ থাকলেই পৃথিবী ভর্তি গুনাহও মাফ:
(৪) তওহীদ থাকলে কবিরা গুনাহও মাফ:
(৫) তওহীদ থাকলে চুরি ডাকাতী,হত্যার গুনাহও মাফ:

এ কথাগুলো হেযবুত তওহীদ তাদের বইয়েগুলোতে লিখেছেন। তাদের এ কথাগুলোর ভেতর মূল দাবি হচ্ছে দুটি।
ক. তাওহীদে ঈমাণ থাকলেই চলবে আমল করা না করলেও অসুবিধা নেই।
খ. তাওহীদে ঈমাণ থাকলেই চলবে কোন গুনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফিরাতে পারবে না।
চলুন প্রত্যেকটি কথার দলিল ভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

হেযবুত তওহীদের দাবি:

এবাদত করুক আর গুনাহ করুক তাওহীদে থাকলেই সে জান্নাতী:

যদি প্রশ্ন করা হয় জাহান্নামের কোন প্রকারের আজাবের স্পর্শ ব্যতিরেকে একজন মানুষ খুব সহজেই জান্নাতে যাবে কি করে? এর উত্তর হবে একমাত্র তাওহীদ গ্রহণের মাধ্যমে।
সূত্র: প্রিয় দেশবাসী পৃ:৬৪

জান্নাতে যাওয়ার জন্য দুটি শর্ত এক. আল্লাহর তাওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং দুই. রসুলের পৃথিবীতে আগমনের উদ্দেশ্য অর্থাৎ সমস্ত পৃথিবীময় ন্যায়, শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক সংগ্রাম করে যাওয়া। ব্যস এই দুইটি শর্ত যারা পূরণ করতে পারবেন তারাই মুমিন, তারাই সেই জান্নাতি ফেরকা তাতে সন্দেহ নেই।
সূত্র: প্রিয় দেশবাসী পৃ:১১২

“আল্লাহ ঘোষণা দিয়ে দিলেন- আমার তাওহীদকে, আমার সার্বভৌমত্বকে যে বা যারা স্বীকার কোরে নেবে, তা থেকে বিচ্যুত হবে না তারা কত এবাদত কোরেছে, তারা কত গোনাহ কোরেছে, কিছুই আমি দেখবো না, তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবো, তারা ব্যভিচার ও চুরি করলেও।”
সূত্র: দাজ্জাল পৃষ্ঠা-১৫

“শত নির্যাতন নিপীড়ন বিদ্রূপ অপমান উপেক্ষা করে, খেয়ে না খেয়ে, গাছের লতা-পাতা খেয়ে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে। এই সময় যেসব সাহাবী ইন্তেকাল করেন তারা ইসলাম বলতে কি পেয়েছিলেন? তার নামায-রোযা হজ্ব-যাকাত ঈদ কোরবানি কিছুই পেয়েছিলেন কি? তারা পেয়েছেন শুধুমাত্র তাওহীদ এবং বলার অপেক্ষা রাখেনা তাওহীদই তাদের সফলকাম হয়ে জান্নাতে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট ছিল।”
সূত্র: তওহীদ জান্নাতের চাবি-১০।

ইসলাম কি বলে?

ঈমানের পাশাপাশি আমলের প্রয়োজনীয়তা:

প্রিয় পাঠক! এ কথাটি স্পষ্ট যে, ইসলামের মূল বিষয় হলো শাহাদাতাইন। অর্থাৎ আল্লাহ তা’য়ালার একত্ববাদ ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শেষ নবি হবার স্বীকৃতি প্রদান করা।
আল্লাহর একাত্ববাদে বিস্বাস করাকে “তওহীদ” বলে।
জানার বিষয় হলো- শুধু এ তওহীদে বিস্বাস থাকলেই কি জান্নাতে যাওয়া যাবে? নাকি আল্লাহর আদেশ নিষেধও মেনে আমলও করতে হবে?

মনে রাখতে হবে, শুধু আল্লাহর উপর ঈমান আনলেই জান্নাতে যাওয়া যাবে এ কথা পবিত্র কুরআন ও হাদিস বিরোধী কথা। কারণ মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআন শরিফে এবং নবিজি স: পবিত্র হাদিসে যেখানেই ঈমানের কথা বলেছেন সাথে সাথে আমলের কথাও বলেছেন। কয়েকটি উদহরণ পেশ করছি। মহান আল্লাহ বলেন,

وَالَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أُولَـئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

অর্থ: পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে। (সুরা বাকারা আয়াত-৮২)

وَعَدَ اللّهُ الَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ

অর্থ: যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহান প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। (সুরা মায়িদা আয়াত-৯)

وَأُدْخِلَ الَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ تَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلاَمٌ

অর্থ: এবং যারা বিশ্বাস স্থাপণ করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে তাদেরকে এমন উদ্যানে প্রবেশ করানো হবে, যার পাদদেশ দিয়ে নির্ঝরিনী সমূহ প্রবাহিত হবে তারা তাতে পালনকর্তার নির্দেশে অনন্তকাল থাকবে। যেখানে তাদের সম্ভাষণ হবে সালাম। (সুরা ইবরাহীম আয়াত-২৩)

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا ‘

অর্থ: নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। (সুরা কাহাফ আয়াত-১০৭)

প্রিয় পাঠক! শুধু তাওহীদের উপর ঈমান আনলেই জান্নাতে যাওয়া যাবে এ কথা পবিত্র কুরআন ও হাদিস বিরোধী কথা। কারণ ঈমান হচ্ছে ইবাদতের সমন্বয়ে। পবিত্র কুরআন শরীফে মহান রব বলেন-

وَٱلَّذِینَ لَا یَدۡعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ وَلَا یَقۡتُلُونَ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِی حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَا یَزۡنُونَۚ وَمَن یَفۡعَلۡ ذَ ٰ⁠لِكَ یَلۡقَ أَثَامࣰا یُضَـٰعَفۡ لَهُ ٱلۡعَذَابُ یَوۡمَ ٱلۡقِیَـٰمَةِ وَیَخۡلُدۡ فِیهِۦ مُهَانًا

অর্থ:এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। সুরা ফুরকান আয়াত৬৮-৬৯

কিন্তু এ জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য কি করতে হবে সে কথাও আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন সাথে সাথেই।

إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلࣰا صَـٰلِحࣰا فَأُو۟لَـٰۤىِٕكَ یُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَیِّـَٔاتِهِمۡ حَسَنَـٰتࣲۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورࣰا رَّحِیمࣰا

অর্থ: কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে ফিরে আসার স্থান আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
করবে। সুরা ফুরকান আয়াত-৭০

পাঠক! দেখুন উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা ক্ষমা পাওয়ার জন্য ৩ টি শর্ত দিয়েছেন।
১. তওবা ২.ঈমান ৩. সৎকর্ম।

তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম শুধু তওহীদে বিস্বাস থাকলেই জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং তওহীদে ঈমানের পাশাপাশি আরো দুটি কাজ করতে হবে।১. গুনাহ থেকে তওবা ২. সৎকাজ।

এ রকম অসংখ্য আয়াত পবিত্র কুুরআন শরীফে এসেছে। পাশাপাশি পবিত্র হাদিসসমূহ তালাশ করলেও দেখা যাবে, সেখানেও ইবাদতকে ঈমানের সমন্বয়ক হিসাবে উল্লেখ্য করা হয়েছে। যেমন-

عن عبدالله بن عمر ان النبي صلي الله عليه وسلم قال بُنِيَ الإسْلامُ على خَمْسٍ،شَهادَةِ أنْ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ، وأنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورَسولُهُ، وإقامِ الصَّلاةِ، وإيتاءِ الزَّكاةِ، وحَجِّ البَيْتِ، وصَوْمِ رَمَضانَ

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রদি. বলেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তথা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ তথা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তায়ালার রাসুল—এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। নামায কায়েম করা। যাকাত দেয়া, হজ পালন করা এবং রমাযান মাসের রোযা রাখা।
সূত্র: বুখারি হাদিস-৮ মুসলিম হাদিস-১৬

প্রিয় পাঠক! এই হাদিসের দিকে গভীর মনোযোগ দিলে বুঝতে পারবেন যে, হাদিসে বর্ণিত ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির মাত্র ১টি হলো ‘তাওহিদ’, বাকি চারটি হলো ইবাদত। যদি শুধু তাওহীদের স্বীকৃতি দানের দ্বারাই মানুষ জান্নাতে যেতে পারতো, তবে চার চারটি ইবাদত ইসলামের ভিত্তি হতো না।

আরেকটি হাদিসের দিকে দৃষ্টিপাত করুন।

عن جابر بن عبدالله ان النبي صلي الله عليه وسلم قال  بين العَبْدِ وبين الكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاةِ

অর্থাৎ হযরত জাবের রা: থেকে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, ঈমানদার এবং কাফেরদের মধ্যে পার্থক্যকারী আমল হল নামায।
সূত্র: আবু দাউদ হাদিস-৪৬৭৮ নাসাঈ-৪৬৪ তিরমিযি-২৬২০ ইবনে মাযা-১০৭৮ (হাদিস : সহিহ)

প্রিয় পাঠক! এই হাদিসসহ উপরোক্ত আয়াত এবং হাদিসগুলো দিয়ে আমরা বুঝতে পারলাম যে, গতানুগতিক শুধু তাওহিদের স্বীকৃতি দিলেই জান্নাতে যাওয়া যাবে না, বরং আমলও করতে হবে।

জান্নাতে যাবার জন্য গুনাহ পরিত্যাগ করা:

হেযবুত তওহীদের দাবি:

হেযবুত তওহীদ এটাও দাবি করেছেন যে, তওহীদে থাকলেই জান্নাতে যাওয়া যাবে। ছগিরা কবিরা কোন গুনাহই তাকে জান্নাতে যেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। তারা লিখেছেন,

তওহীদে থাকলেই নিশ্চিত জান্নাত:

‘এই একটি শর্ত (তওহীদ) পালন করলে কোনো গুনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না।‘’
সূত্র: আকিদা পৃ:৭

তওহীদে থাকলেই ব্যক্তিগত সকল গুনাহ মাফ:

‘মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনে ভুল-ভ্রান্তি ও গুনাহ করবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু যদি তারা তওহীদের স্বীকৃতি দিয়ে হেদায়েতে অটল থাকে তাহলে তাদের ভয় নেই, ব্যক্তিগত কোন গুনাহই তাদেরকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।’
সূত্র: তওহীদ জান্নাতের চাবি-১১

তওহীদ থাকলেই পৃথিবী ভর্তি গুনাহও মাফ:

‘সেরাতুল মুস্তাকীমে অর্থাৎ তওহিদের যে ব্যক্তি অটল থাকবে, বিচ্যুত হবে না, পৃথিবী ভর্তি গোনাহও তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না।’
সূত্র: তওহীদ জান্নাতের চাবি পৃ:১৩ এসলামের প্রকৃত রুপরেখা পৃ: ৪৪ তাকওয়া ও হেদায়াহপৃ: ৪

তওহীদ থাকলে কবিরা গুনাহও মাফ:

‘তওহীদে যিনি অবিচলরতার মহাপাপও (গুনাহে কবীরা) হিসাবে ধরা হবে না।
সূত্র: আকিদা পৃ:৭

ইসলাম কি বলে?

প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত কথা দ্বারা তারা দাবি করে বসেছেন যে, তাওহীদে থাকলে ছগিরা-কবিরা গুনাহ এমনকি হত্যা,যিনা,চুরির মত গুনাহের কারণেও সে জাহান্নামে যাবে না। চলুন দেখি ইসলাম কি বলে।

গুনাহগার ও জান্নাত:

তাওহীদে বিশ্বাসী হওয়ার পরও গুনাহগারদেরকে কিয়ামতে হিসাবের কাঠগড়ায় দাড়াতেই হবে। এ সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত এবং হাদিস রয়েছে। কয়েকটি দলিল নিন্মে তুলে ধরলাম। মহান আল্লাহ বলেন,

يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُّحْضَرًا وَمَا عَمِلَتْ مِن سُوَءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ أَمَدًا بَعِيدًا وَيُحَذِّرُكُمُ اللّهُ نَفْسَهُ وَاللّهُ رَؤُوفُ بِالْعِبَادِ

অর্থ: সেদিন প্রত্যেকেই যা কিছু সে ভাল কাজ করেছে; চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ করেছে তাও, ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার এবং এসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দুরের হতো! আল্লাহ তাঁর নিজের সম্পর্কে তোমাদের সাবধান করছেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। সুরা আলে ইমরান আয়াত-৩০

يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ

অর্থ: সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। সুরা যিলযাল আয়াত-৬-৮

وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا

অর্থ: আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না। (সুরা কাহাফ আয়াত-৪৯)

يُنَبَّأُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ بَلِ الْإِنسَانُ عَلَى نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ وَلَوْ أَلْقَى مَعَاذِيرَهُ

অর্থ: সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে যা সামনে প্রেরণ করেছে ও পশ্চাতে ছেড়ে দিয়েছে। বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুমান।যদিও সে তার অজুহাত পেশ করতে চাইবে।
সুরা কিয়ামাহ আয়াত-১৩-১৫

يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ فَمَا لَهُ مِن قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ

অর্থ: যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে,সেদিন তার কোন শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না। সুরা ত্বরিক আয়াত-৯-১০

عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لها يا عائشةُ إِيّاكِ و مُحقَّراتِ الذُّنوبِ فإنَّ لها مِنَ اللهِ طالِبًا

অর্থ: হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আয়েশা! ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও। কারণ সেগুলোর জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে।
সূত্র: জামে সগীর হাদিস-২৯০১ ইবনে মাযাহ-৪২৪৩ মুসনাদে আহমাদ-২৪৪১৫ (হাদিস: সহিহ)

প্রিয় পাঠক! একবার ভেবে দেখুন তো।
হযরত আয়েশা রাঃ কি তাওহীদে অবিচল ছিলেন না? তারপরও নবিজি স: তাঁকে কেন ছোট ছোট গোনাহ থেকেও বাঁচতে
বলেছেন? যেখানে নবিজি স: দাবি করছেন সগীরা বা ছোট গুনাহেরও হিসাব দিতে হবে,সেখানে হেযবুত তওহীদ দাবি করে বসেছে ‘কবিরা গুনাহেরও হিসাব দিতে হবে না। এটা কত্তবড় গোমরাহী একটু ভাবুন তো।

সুতরাং উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট হলো, ছোট বড় যেকোনো গুনাহই হোক না কেন কিয়ামতে তার হিসাব দিতেই হবে।

নবিজি স: গুনাহের প্রতি উম্মতকে ঘৃণা সৃষ্টি করিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন,

وَاعْلَمُوا أَنَّ فِيكُمْ رَسُولَ اللَّهِ لَوْ يُطِيعُكُمْ فِي كَثِيرٍ مِّنَ الْأَمْرِ لَعَنِتُّمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ

অর্থ: তোমরা জেনে রাখ তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল রয়েছেন। তিনি যদি অনেক বিষয়ে তোমাদের আবদার মেনে নেন, তবে তোমরাই কষ্ট পাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ঈমানের মহব্বত সৃষ্টি করে দিয়েছেন এবং তা হৃদয়গ্রাহী করে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কুফর, পাপাচার ও নাফরমানীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী। (সুরা হুজুরাত আয়াত-৭)

একটি গুনাহগার সম্প্রদায়কে দুনিয়াতেই শাস্তি:

فَلَمَّا نَسُواْ مَا ذُكِّرُواْ بِهِ أَنجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُواْ بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُواْ يَفْسُقُونَ

অর্থ: অতঃপর যখন তারা সেসব বিষয় ভুলে গেল, যা তাদেরকে বোঝানো হয়েছিল, তখন আমি সেসব লোককে মুক্তি দান করলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করত। আর পাকড়াও করলাম, গোনাহগারদেরকে নিকৃষ্ট আযাবের মাধ্যমে তাদের না-ফরমানীর দরুন। (সুরা আরাফ আয়াত-১৬৫)

গুনাহের কারণেই দুনিয়াতে গজব নামে:

ظَهَرَ ٱلۡفَسَادُ فِی ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ بِمَا كَسَبَتۡ أَیۡدِی ٱلنَّاسِ لِیُذِیقَهُم بَعۡضَ ٱلَّذِی عَمِلُوا۟ لَعَلَّهُمۡ یَرۡجِعُونَ

অর্থ: স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।
সুরা রুম আয়াত-৪১

উপরন্তু আল্লাহ তা’য়ালা ঈমানদারদের ভেতর যারা সুদখোর তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ فَإِن لَّمْ تَفْعَلُواْ فَأْذَنُواْ بِحَرْبٍ مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لاَ تَظْلِمُونَ وَلاَ تُظْلَمُونَ

অর্থ: হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না। (সুরা বাকারা আয়াত-২৭৮-২৭৯

এরপরও কি এ কথা বলার সুযোগ আছে যে, ঈমান থাকলেই আর কোন গুনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফিরাতে পারবে না?

অবশ্য যাদের কবিরা গুনাহ নেই,তাদের সগীরা গুনাহ কেয়ামতে মাফ করে দেয়া হবে। মহান রব বলেন-

إِن تَجْتَنِبُواْ كَبَآئِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلاً كَرِيمًا

অর্থ: যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার। সুরা নিসা আয়াত-৩১

তওহীদ থাকলে চুরি,হত্যার ও ব্যভিচারের গুনাহও মাফ:

”প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কেন তওহীদের গুরুত্ব প্রচার করছি? এই যে কোর’আনের আয়াত ও হাদীসগুলো উল্লেখ করা হলো, যেগুলোতে দেখা যাচ্ছে কেবল তওহীদের স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে ছোট ছোট অপরাধ তো বটেই, এমনকি চুরি, ব্যভিচার, হত্যা সমস্ত অপরাধকেই ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।”
তওহীদ জান্নাতের চাবি-১৫

”এই একটি শর্ত (তওহীদ) পালন করলে কোনো গুনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না;এমনকি মহানবীর উল্লেখিত ব্যভিচার ও চুরির মত কবিরা গোনাহও না।”
সূত্র: আকিদা পৃ:৭

“এমনকি চুরি ও ব্যভিচারের মত কবিরা গুনাহকারীও জান্নাতে যাবে যদি সে সাচ্চা, সত্য সত্যই বিশ্বাস করে যে এলাহ,বিধানদাতা, আল্লাহর ছাড়া আর কেউ নেই।”
সূত্র: শ্রেণীহীন সমাজ সাম্যবাদ প্রকৃত ইসলাম পৃষ্ঠা-৭১

“মৃত্যুদণ্ডের পরে ইসলামের সবচেয়ে কঠিন দন্ড হচ্ছে চুরি আর ব্যভিচারের যারা এই দুটো জঘন্য অপরাধও করবে তাদেরকেও আল্লাহ জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন না, যদি সে একমাত্র আল্লাহকেই তার হুকুমদাতা হিসাবে বিশ্বাস ও মান্য করে।”
সূত্র: প্রিয় দেশবাসী পৃষ্ঠা-৬৫

হত্যার গুনাহ:
হত্যাকারীদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا

অর্থ: যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।(সুরা নিসা আয়াত-৯৩

চুরির গুনাহ:
চোরদের ব্যাপরে মহান রব বলেন,

وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

অর্থ: চোর পুরুষ হোক বা স্ত্রী হোক উভয়ের হাত কেটে দাও। এটা তাঁদের কর্মফল এবং আল্লাহর নিকট থেকে শিক্ষামূলক শাস্তিবিধান। আর আমার সর্বজয়ী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা আল-মায়িদা : ৩৮)

চোরদের উপর নবিজির স: অভিশাপ:

عَنْ أبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قال قال رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم لَعَنَ اللهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ البَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ وَيَسْرِقُ الحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, চোরের উপর আল্লাহর লা‘নত হোক, যখন সে একটি হেলমেট চুরি করে এবং এ জন্য তার হাত কাটা হয় এবং সে একটি রশি চুরি করে এ জন্য তার হাত কাটা হয়।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস-৬৭৮৩

যিনা-ব্যভিচারের গুনাহ:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

অর্থ: তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। (সুরা ইসরা আয়াত-৩২)

ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

অর্থ: আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না। (সুরা আরাফ আয়াত-৩৩)

যিনা,মদ্যপান,চুরি,ডাকাতির সময় ঈমান থাকে না:

وَعَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلا يَشْرَبُ الخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلا يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيهَا أبْصَارَهُمْ حِينَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যভিচারী মু’মিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোন মদ্যপায়ী মু’মিন অবস্থায় মদ পান করে না। কোন চোর মু’মিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন লুটতরাজকারী মু’মিন অবস্থায় এরূপ লুটতরাজ করে না যে, যখন সে লুটতরাজ করে তখন তার প্রতি লোকজন চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে।
সূত্র: সহীহ বুখারী হাদিস-২৪৭৫ মুসলিম-৫৭

নবিজি স:হত্যা,চুরিকে হারাম ঘোষণা করেছেন:

وَعَنْ أبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأمْوَالَكُمْ وَأعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ

অর্থ: হযরত আবু বকরা রা: থেকে বর্ণিত, নবিজি স: বলেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-মাল ও তোমাদের ইজ্জত-সম্মানে হস্তক্ষেপ তোমাদের উপর হারাম।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস-৪৪০৬ মুসলিম-১৬৭৯

আল্লাহ ও রসুলের স: হুকুমের অবাধ্য হলে জাহান্নাম:

وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ

অর্থ: যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। (সুরা নিসা আয়াত-১৪)

প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত আয়াত এবং হাদিসগুলো থাকার পরও যারা বলেন, “তাওহীদে থাকলে চুরি,যিনা,হত্যা করলেও জান্নাত নিশ্চিত” তারা কি আদৌ মুসলিম থাকতে পারে?

একটি অভিযোগ:

‘তওহীদে থাকলেই জাহান্নাম হারাম বা জান্নাতে চলে যাবে’ এ কথাটি বলতে গিয়ে তারা যে দলীল পেশ করে থাকেন তা হলো-

عن أبي ذر الغفاري قال أَتَيْتُ النبيَّ ﷺ وعليه ثَوْبٌ أبْيَضُ وهو نائِمٌ ثُمَّ أتَيْتُهُ وقَدِ اسْتَيْقَظَ فَقالَ ما مِن عَبْدٍ قالَ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ ثُمَّ ماتَ على ذلكَ إلّا دَخَلَ الجَنَّةَ قلت وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ؟ قالَ وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ قلت وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ قال وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ قُلتُ وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ قال وإنْ زَنى وإنْ سَرَقَ

অর্থাৎ হযরত আবু যর গিফারী রাঃ বলেন আমি নবি সঃ এর কাছে আসলাম দেখলাম তিনি সাদা কাপড় শরীর মোবারকের উপরে দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন।
পরে আবার এসে জাগ্রত দেখলাম। নবি সঃ বললেন যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে সে মৃত্যুর পর জান্নাতে যাবে।
আবু যর রাঃ বললেন যদি সে যিনা ব্যভিচার করে তবুও? নবি সঃ বললেন হ্যাঁ যদি যিনা ব্যাভিচার করে তবও।
আবু যর রাঃ বললেন যদি সে যিনা ব্যভিচার করে তবুও? নবি সঃ বললেন হ্যাঁ যদি যিনা ব্যাভিচার করে তবও।
আবু যর রাঃ বললেন যদি সে যিনা ব্যভিচার করে তবুও? নবি সঃ বললেন হ্যাঁ যদি যিনা ব্যাভিচার করে তবুও।
সূত্রঃ বুখারী-৫৮২৭ মুসলিম-৯৪ সুনানে কুবরা নাসাঈ-১০৯৬৩ আহমাদ-২৭৪৯১

উক্ত হাদিস দ্বারা তো বুঝা যাচ্ছে তওহীদ থাকলেই কবিরা গুনাহ হলেও জান্নাত নিশ্চিত।

জবাব:

প্রিয় পাঠক! এটা হলো হেযবুত তওহীদের বড় ভ্রষ্টতা ও মুর্খতা যে, তারা একটি হাদিস দেখেই ফতাওয়া দিয়ে দিলেন। অথচ তাদের জানা থাকা দরকার নবিজি স: থেকে প্রায় ১০ লাখ হাদিস রয়েছে। এই একটি হাদিস দেখেই ফতাওয়া দিলে উপরোল্লিখিত আয়াত-হাদিসসহ আরো অগনিত আয়াত হাদিস যে বাদ দিতে হবে, সেটার কিন্তু খেয়াল তারা করলেন না। এ ক্ষেত্রে তিনটি জবাব লক্ষনীয়।

১. দুনিয়া থেকেই তওবা করে গেলে আখেরাতে ক্ষমা পাবে। মহান আল্লাহ বলেন,

إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلࣰا صَـٰلِحࣰا فَأُو۟لَـٰۤىِٕكَ یُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَیِّـَٔاتِهِمۡ حَسَنَـٰتࣲۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورࣰا رَّحِیمࣰا

অর্থ: কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে ফিরে আসার স্থান আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
করবে। সুরা ফুরকান আয়াত-৭০

২. তওবা করে না গেলেও আল্লাহ ইচ্ছা করলে মুমিনদের কাউকে শুরুতেই মাফ করতে পারেন। কারণ কুরআন শরীফে এসেছে,

أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَـٰوَ ٰ⁠تِ وَٱلۡأَرۡضِ یُعَذِّبُ مَن یَشَاۤءُ وَیَغۡفِرُ لِمَن یَشَاۤءُۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَیۡءࣲ قَدِیرࣱ

অর্থ: তুমি কি জান না যে আল্লাহর নিমিত্তেই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। (সুরা মায়িদা আয়াত-৪০)

৩. উপরোক্ত হাদিসটি ব্যখ্যা সাপেক্ষ।অর্থাৎ হাদিসে যে বলা হচ্ছে- যিনা ব্যাভিচার করলেও জান্নাতে যাবে। এর অর্থ হলো ‘গুনাহের কারণে জাহান্নামে যাবে। আর তওহীদের কারণে একদিন সে আবার জান্নাতে যাবে। আর এ কথাটি আমার বানানো জবাব নয়, বরং নবিজি স: এর আরেকটি হাদিসে রয়েছে।

عَنْ أَنَسٍ عن النبي صلي الله عليه وسلم قال يَخْرُجُ مِنَ النّارِ مَن قالَ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ، وفي قَلْبِهِ وزْنُ شَعِيرَةٍ مِن خَيْرٍ، ويَخْرُجُ مِنَ النّارِ مَن قالَ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ، وفي قَلْبِهِ وزْنُ بُرَّةٍ مِن خَيْرٍ، ويَخْرُجُ مِنَ النّارِ مَن قالَ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ، وفي قَلْبِهِ وزْنُ ذَرَّةٍ مِن خَيْرٍ

অর্থাৎ হযরত আনাস রাঃ নবি সঃ থেকে বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাহ বলেছে এবং অন্তরে যব পরিমান নেকি থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং তাকেও বের করা হবে যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে এবং আমল নামায় গম পরিমান নেক রয়েছে এবং তাকেও বের করা হবে যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে এবং অন্তরে অনুপরিমান নেকি রয়েছে।
সূত্রঃ বুখারী হাদিস-৪৪ মুসলিম-১৯৩

প্রিয় পাঠক! উক্ত হাদিসে বলা হলো তওহীদ থাকলেও জাহান্নামে যাবে। কিন্তু শাস্তি ভোগ করে একদিন ঈমানের কারণে বের করা হবে। কারণ বেঈমানদের কোন মুক্তি নেই। নবিজি স: বলেন-

عن أبي هريرة عن النبي صلي الله عليه وسلم قال يَلْقى إبْراهِيمُ أباهُ، فيَقولُ: يا رَبِّ إنَّكَ وعَدْتَنِي أنْ لا تُخْزِيَنِي يَومَ يُبْعَثُونَ، فيَقولُ اللَّهُ: إنِّي حَرَّمْتُ الجَنَّةَ على الكافِرِينَ

অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন নবি সঃ বলেছেন (কেয়ামতের দিন) ইবরাহীম আঃ তাঁর বাবা (আযরের) সাথে দেখা করবেন। অতঃপর আল্লাহ তা’য়ালাকে বলবেন হে আল্লাহ! আপনি কি আমার সাথে ওয়াদা করেননি যে, আমাকে কেয়ামতের দিন অপমানিত করবেন না? (অর্থাত বাবাকে আসামী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার মত অপমান আমাকে করবেন না।)তখন আল্লাহ তা’য়ালা বলবেন আমি কাফেরদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি।
সূত্রঃ বুখারী হাদিস-৪৭৬৯

অর্থাৎ বেঈমানদের কোন মুক্তি হবে না। তবে ঈমানদারগণ শাস্তি ভোগ করে একদিন জাহান্নাম থেকে মুক্ত হয়ে জান্নাতে যাবে। সে কথাই নবিজি স: বলেছেন যে, যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লালাহ বলবে সে জান্নাতে যাবে। সে যিনা করুক বা চুরি করুক।একদিন না একদিন জান্নাতে যাবে। এ কথাটি নিয়ে হেযবুত তওহীদে তাদের সদস্যদের অন্তরে কৌশলে গুনাহের ভয় উঠিয়ে সবাইকে জাহান্নামের দিকে ধাক্কা দিচ্ছে।
তাদের থেকে আমরা সর্বদা দূরে থাকার চেষ্টা করবো।

 

Check Also

দিবস পালন

  ইসলামে দুই ঈদ ব্যাতিত কোনো দিবস পালন করা বৈধ নয়। কিন্তু এ মহাসত্যকে অস্বীকার …

7 comments

    • আশিকুল ইসলাম

      মুফতি সাহেবর নিকট আবেদন ৷

      নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময় মসজিদের ফ্যান,লাইট ব্যবহার করে নফল নামাজ পড়া বা জিকির করা বা তিলাওয়াত করা এবং নিজ প্রয়োজনে মসজিদের জিনিস ব্যবহার করা কি জায়েজ?
      মেহেরবানী করে উত্তরটা জানালে অনেক উপকৃত হব।

  1. তাসনিফ সাফফান সাদি

    মুহতারাম! I love u.আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন।আর আপনি এদের বিরুদ্ধে লিখে যান।ইসলামই বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।

    • Sadike hasan saidul

      মুহতারাম আসসালামুয়ালাইকুম করুণা পরিস্থিতিতে যদি ঈদের নামাজ জামাতে পড়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে বাসায় কি পড়া যাবে যদি পড়া যায় খুতবা না পড়লে কি চলবে যদি খুতবা না থাকে তাহলে কি করব ঐ অবস্থায় কি পড়া যাবে দেশের বাইরে থেকে বলছি অনুগ্রহ করে জানাবেন

      • Sadike hasan saidul

        মুহতারাম আসসালামুয়ালাইকুম করুণা পরিস্থিতিতে যদি ঈদের নামাজ জামাতে পড়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে বাসায় কি পড়া যাবে যদি পড়া যায় খুতবা না পড়লে কি চলবে যদি খুতবা না থাকে তাহলে কি করব ঐ অবস্থায় কি পড়া যাবে দেশের বাইরে থেকে বলছি অনুগ্রহ করে জানাবেন

  2. Today must not borrow from tomorrow.

Leave a Reply

Your email address will not be published.