ইসলাম ধর্মকে সংস্কার করতে হবে:

 

প্রিয় পাঠক! শুরুতেই আপনাদের জানিয়ে রাখি বর্তমানে ইসলাম বিদ্বেষীরা কুরআনের আয়াত গুলো পরিবর্তন করার হাজারও চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। কোন ভাবেই সফল হতে না পেরে অবশেষে কুরআনের ধর্ম সংস্কার করার নাম দিয়ে অনেক কার্যক্রম শুরু করেছে। যেমন আমাদের দেশেই আছে ‘আহলে কুরআন’ ‘কুরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ ইত্যাদী। তাদের মূল দাবি এটাই যে, আগের যুগের ব্যখ্যা তাফসীর এখনকার যুগে আর চলবে না, সুতরাং ইসলাম সংস্কার করতে হবে। আর এ একই সুরে কথা হেযবুত তওহীদও। হেযবুত তওহীদের দাবি অনুযায়ী যেহেতু ইসলাম তার সঠিকরুপে নেই, সেহেতু ইসলাম ধর্মকে সংস্কার কর যুগোপযোগী করে তুলতে হবে।

হেযবুত তওহীদের দাবি:

হেযবুত তওহীদ তাদের বইগুলোতে লিখেছে,

“যে ইসলাম আজ নানা প্রকার রূপ নিয়ে আমাদের ১১৬ কোটি মুসলমানের দ্বারা চর্চিত হচ্ছে তা কোনোভাবেই বর্তমান জ্ঞান-বিজ্ঞান ও চিন্তা-চেতনার যুগের উপযোগী নয়।”
সূত্র: ধর্ম ব্যবসার ফাঁদে পৃষ্ঠা-১১৫

“যুগের চাহিদা মেটানো ধর্মের বৈশিষ্ট্য।”
সূত্র: ইসলাম কেন আবেদন হারাচ্ছে পৃষ্ঠা-২৭

“ইসলামের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা গুলো কোর’আনের মূলনীতি বজায় রেখে বর্তমান যুগের আলোকে সংস্কার করতে হবে।”
সূত্র: ইসলাম কেন আবেদন হারাচ্ছে পৃষ্ঠা-২৭

“প্রচলিত বিকৃত ইসলাম দিয়ে অপরাধহীন, অবিচারহীন পবিত্র সমাজ গঠন করার চিন্তাও হাস্যকর।”
সূত্রঃ জঙ্গিবাদ সংকট পৃষ্ঠা-৪৯

প্রিয় পাঠক! মূলত এ কথাগুলো একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। কারণ যখন তারা ইসলাস সংস্কারের কথা বলে, ইসলামের বিধিবিধানে হাত দেয়ার সুযোগ করে নিতে পারবে, তখন তারা তাদের নিজস্ব মতবাদকে ইসলামের নামে চালিয়ে দিতে পারবে, বানাতে পারবে ধর্মের নামে অথর্ম। যেমনটি করেছিল পূর্ববর্তী ধর্মের অনুসারী তথা ইহুদী-খ্রিষ্টানরা।

ইসলাম কি বলে?

এক.
মনে রাখতে হবে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এমন কোন বিষয় নেই যা এ ধর্মে বর্ণিত হয়নি। মহান আল্লাহ বলেন,

مَا فَرَّطْنَا فِيْ الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ

অর্থ: আমি কুরআনে কোন বিষয়ই লিপিবদ্ধ করতে ছাড়িনি। সূরা আন‘আম আয়াত-৩৮

দুই.
মহান আল্লাহ আরও বলেন,

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ

অর্থ: আর আমি তোমার উপরে প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ কুরআন নাযিল করেছি।
সূরা নাহল আয়াত-৮৯

তিন.
রঈসুল মুফাসসিরিন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: বলেন,

عن ابن عباس رضي الله عنه قال لوْ ضَاعَ لِيْ عِقَالُ بَعِيْرٍ لَوَجَدْتُهُ فِيْ كِتَابِ اللهِ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: বলেন, আমার উট বাঁধার একটি দড়িও যদি হারিয়ে যায়, তাহ’লে আমি তা আল্লাহর কিতাবের মধ্যে খুঁজে পাব’।
সূত্র: তাফসীরে রুহুল মাআনী খ:২৭ পৃ:৫৮

চার.
উপরন্তু ইসলাম এমন একটি চুড়ান্ত ধর্ম যা কেয়ামতের আগ পর্যন্ত সর্বকালের, সর্বযুগের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। যা মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন,

اَلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْإِسْلاَمَ دِيْنًا

অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।
সূরা মায়েদা আয়াত-৩

সুতরাং যে দ্বীন ইসলামকে মহান আল্লাহ ১৪০০ বছর আগেই পূর্ণাঙ্গ করেছেন, সে দ্বীনকে সংস্কার করার মত সাহস করা কতবড় বিপদজনক বিষয় তা পাঠকমহল একটু ভেবে দেখুন। এমন হিম্মত বা সাহস কি কোন মুসলিম করতে পারে? নিশ্চয় না।

পাঁচ.
আল্লাহর দ্বীন ইসলাম অপরিবর্তনশীল এটা মহাসত্য কথা। আর আল্লাহ তা’য়ালা ষড়যন্ত্রকারীদের মুখ থেকেই অনেক সময় এ সত্যকথাগুলো তাদের অজান্তেই বের করে দেন। তেমনি হয়েছে হেযবুত তওহীদের বেলায়ও। তারা লিখছে,

“মুক্তির পথ তো রসুল দেখিয়েই গেছেন আর শেষ বিধানও আল্লাহর দয়ায় অবিকৃত ছিল এবং আজও আছে।”
সূত্র: ইসলাম কেন আবেদন হারাচ্ছে পৃষ্ঠা-৯

তারা আরও স্পষ্ট করে তারা তাদের অজান্তেই লিখেছে,

“কাজেই এর (ইসলামের) মধ্যে এমন কোন আইন কানুন নিয়ম আল্লাহ দিলেন না যা পৃথিবীর এক জায়গায় জন্য ঠিক অন্য জায়গার জন্য অঠিক, পালন করা মুশকিল বা অচল। এমনও দিলেন না যা আজ ঠিক আগামীতে কঠিন বা অচল। এক কথায় স্থান বা কালের প্রভাবাধীন নয়।”
সূত্র: শ্রেণীহীন সমাজ সাম্যবাদ প্রকৃত ইসলাম পৃষ্ঠা-৬৪

পাশাপাশি তারা আরও লিখে বসেছেন,

“এই দিনের একটি নাম হচ্ছে দীনুল ফেতরার অর্থাৎ প্রাকৃতিক দিন কারণ প্রাকৃতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল করে আল্লাহ এই জীবনব্যবস্থাটি প্রণয়ন করেছেন।আগুন-পানি আলো-বাতাস অক্সিজেন ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদান গুলো যেমন পৃথিবীর সকল মানব জাতির জন্য অবশ্য প্রয়োজন এবং সবার উপযোগী তেমনি এই জীবন ব্যবস্থাও পৃথিবীর সর্বত্র প্রযোজ্য, প্রয়োগযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিদায়ক।”
সূত্র: শ্রেণীহীন সমাজ সাম্যবাদ প্রকৃত ইসলাম পৃষ্ঠা-৭২

প্রিয় পাঠক! তারা নিজেরাই যখন এমন দাবি করলেন যে, ইসলাম পৃথিবীর সর্বত্র প্রযোজ্য, প্রয়োগযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিদায়ক”। এরপরও কি “ইসলাম ধর্ম সংস্কার করতে হবে” এমন কথা বলা কোন মুসলিমের জন্য সুযোগ রয়েছে? হ্যাঁ! থাকে যারা মুসলিম নাম ধারণ করে ইসলামকে ধ্বংশ করার মিশনে নেমেছে তাদের জন্য।

যুগে যুগে এভাবেই মিথ্যা বিলিন হয়ে যায়,সত্য হয় বিকশিত। মহান রব বলেন,

يُرِيدُونَ لِيُطْفِؤُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

অর্থ: তারা মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।
সুরা সফ আয়াত- ৮

 

Check Also

দিবস পালন

  ইসলামে দুই ঈদ ব্যাতিত কোনো দিবস পালন করা বৈধ নয়। কিন্তু এ মহাসত্যকে অস্বীকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.