মাহে রমাযান

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
সূরা বাকারা: ১৮৩

 

আসমানী কিতাবগুলো নাজিলের তারিখ

عن جابر بن عبد الله قال : أنزل الله صحف إبراهيم أول ليلة من رمضان، وأنزل التوراة على موسى لست خلون من رمضان، وأنزل الزبور على داود لاثنتي عشرة خلت من رمضان، وأنزل الإنجيل على عيسى لثماني عشرة خلت من رمضان، وأنزل الفرقان على محمد لأربع وعشرين خلت من رمضان .
সূত্র: দুররে মানসুর খ. ২ পৃ. ২৩১

তিন ভাগে বিভক্ত

وَهوَ شَهْرٌ أوَّلُهُ رحمةٌ، وأوسطُهُ مغفرةٌ، وآخرُهُ عتقٌ منَ النّارِ،
সূত্র: সহিহ ইবনে খুযাইমা খ. ৩ পৃ. ৩৪১

রমাযানের নামাজ

مَن قامَ رَمَضانَ إيمانًا واحْتِسابًا، غُفِرَ له ما تَقَدَّمَ مِن ذَنْبِهِ
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ৩৭

 

সিজদার ফযিলত

وليس عبدٌ مؤمنٌ يصلِّي في ليلةٍ فيها إلا كتب اللهُ له ألفًا وخمسمائةِ حسنةٍ بكلِّ سجدةٍ وبنى له بيتًا في الجنَّةِ من ياقوتةٍ حمراءَ لها ستون ألفَ بابٍ لكلِّ بابٍ منها قصرٌ من ذهب موَشَّحٌ بياقوتةٍ حمراءَ
সূ্ত্র: শুয়াবুল ঈমান (বাইহাকী) ৩৬০৩

وكان له بكلِّ سجدةٍ سجدَها في شهرِ رمضانَ بليلٍ أو نهارٍ شجرةٌ يسيرُ الراكبُ في ظلِّها خمسَمائةِ عامٍ
সূ্ত্র: শুয়াবুল ঈমান (বাইহাকী) ৩৬০৩

রোযার ফযিলত

مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ لَقِيَ اللهَ بِهِ، وَإِنْ صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ، إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ، وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ. قال الهيثمي: رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ.
মুজামে কাবীর, ৯৫৭৪

مَن صامَ رَمَضانَ إيمانًا واحْتِسابًا غُفِرَ له ما تَقَدَّمَ مِن ذَنْبِهِ،
সহিহ বুখারী: ২০১৪

واستغفر له كلَّ يومٍ سبعون ألفَ ملكٍ
সূ্ত্র: শুয়াবুল ঈমান (বাইহাকী) ৩৬০৩

الصَّلَواتُ الخَمْسُ، والْجُمْعَةُ إلى الجُمْعَةِ، وَرَمَضانُ إلى رَمَضانَ، مُكَفِّراتٌ ما بيْنَهُنَّ إِذا اجْتَنَبَ الكَبائِرَ
সূত্র: সহিহ মুসলিম: ২৩৩

كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعمِائَة ضِعْفٍ، قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي .
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫১

لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫১

الصَّوْمُ جُنَّةٌ
সুনানে তিরমিযি, হাদীস নং ২৬১৬

সবরের প্রতিদান জান্নাত

وَهوَ شَهْرُ الصَّبرِ، والصَّبرُ ثوابُهُ الجنَّةُ،
সূত্র: সহিহ ইবনে খুযাইমা খ. ৩ পৃ. ৩৪১

 

নফল ফরজের মত

مَن تقرَّبَ فيهِ بخصلةٍ منَ الخيرِ، كانَ كَمن أدّى فريضةً فيما سواهُ،
সূত্র: সহিহ ইবনে খুযাইমা খ. ৩ পৃ. ৩৪১

ফরজ ৭০ গুন

ومن أدّى فيهِ فريضةً كانَ كمن أدّى سبعينَ فريضةً فيما سواهُ
সূত্র: সহিহ ইবনে খুযাইমা খ. ৩ পৃ. ৩৪১

 

৫টি স্পেশাল পুরস্কার

وأخرج ابن مردويه ، والأصبهاني في “الترغيب”، عن أنس قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ” إنما سمي رمضان؛ لأن رمضان يرمض الذنوب

প্রথমত

٢- [عن جابر بن عبدالله:] أُعطِيَتْ أمَّتي في شهرِ رمضانَ خمسًا لم يُعطَهنَّ نبيٌّ قبلي

أمّا واحدةٌ فإنَّه إذا كان أوَّلُ ليلةٍ من شهرِ رمضانَ نظر اللهُ عزَّ وجلَّ إليهم ومن نظر اللهُ إليه لم يعذِّبْه أبدًا
সূ্ত্র: শুয়াবুল ঈমান (বাইহাকী) ৩৬০৩

জান্নাতের দরজা খোলা

وغلقت أبواب النار فلم يفتح منها باب ، وفتحت أبواب الجنة فلم يغلق منها باب ، وينادى مناد كل ليلة : يا باغي الخير أقبل ويا باغي الشر أقصر ،
সূত্র: সহিহ ইবনে হিব্বান হাদিস: ৩৪৩৫

وتُسَلْسَلُ فيه الشياطينُ
সূত্র: নাসাঈ হাদিস: ২১০৩ আহমাদ: ১৩৪৭৪

আসমানের দরজা খোলা

إذا كان أولُ ليلةٍ من رمضانَ فُتحت أبوابُ السماءِ فلا يغلقُ منها بابٌ حتى تكونَ آخرُ ليلةٍ من رمضانَ
সূত্র: শুয়াবুল ঈমান (বাইহাকী) হাদিস: ৩৬৩৫

রিজিক বৃদ্ধি

وشَهْرٌ يزدادُ فيهِ رزقُ المؤمنِ،
সূত্র: সহিহ ইবনে খুযাইমা খ. ৩ পৃ. ৩৪১

 

দ্বিতীয়

الثّانيةُ فإنَّ خلوفَ أفواهِهم حين يُمسون أطيبُ عند اللهِ من ريحِ المسكِ

ولَخُلُوفُ فَمِ الصّائِمِ أطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِن رِيحِ المِسْكِ
সহিহ বুখারী: ৫৯২৭

 

তৃতীয়

وأمّا الثّالثةُ فإنَّ الملائكةَ تستغفِرُ لهم في كلِّ يومٍ وليلةٍ

واستغفر له كلَّ يومٍ سبعون ألفَ ملكٍ
সূত্র: শুয়াবুল ঈমান হাদিস: ৩৬৩৫

 

চতুর্থ

وأمّا الرّابعةُ فإنَّ اللهَ عزَّ وجلَّ يأمُرُ جنَّتَه فيقولُ لها استعدِّي وتزيَّني لعبادي أوْشَك أن يستريحوا من تعبِ الدُّنيا إلى داري وكرامتي

পঞ্চম

وأمّا الخامسةُ فإنَّه إذا كان آخرُ ليلةٍ غفر اللهُ لهم جميعًا فقال رجلٌ من القومِ أهي ليلةُ القدرِ فقال لا ألم ترَ إلى العمّالِ يعملون فإذا فرغوا من أعمالِهم وُفُّوا أجورَهم

 

জাহান্নাম থেকে মুক্তি

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن لله في كل ليلة من رمضان ستمائة ألف عتيق من النار، فإذا كان آخر ليلة أعتق بعدد من مضى
সূত্র: আততারগীব ওযাত তারহীব: ১৭৬৮

তিন ব্যক্তির উপর অভিসাপ

٦- [عن مالك بن الحويرث:] صعِد رسولُ اللهِ ﷺ المنبرَ فلمّا رقِي عَتبةً قال: (آمينَ) ثمَّ رقي عتبةً أخرى فقال: (آمينَ) ثمَّ رقي عتبةً ثالثةً فقال: (آمينَ) ثمَّ قال: (أتاني جبريلُ فقال: يا محمَّدُ مَن أدرَك رمضانَ فلم يُغفَرْ له فأبعَده اللهُ قُلْتُ: آمينَ قال: ومَن أدرَك والديه أو أحدَهما فدخَل النّارَ فأبعَده اللهُ قُلْتُ: آمينَ فقال: ومَن ذُكِرْتَ عندَه فلم يُصَلِّ عليكَ فأبعَده اللهُ، قُلْ: آمينَ، فقُلْتُ: آمينَ)
সূত্র: সহিহ ইবনে হিব্বান হাদিস: ৪০৯

 

রমাযানের উমরা

فَعُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَقْضِي حَجَّةً ‏.‏ أَوْ حَجَّةً مَعِي
সহিহ মুসলিম হাদিস: ১২৫৬

ইফতার করালে

مَن فطَّرَ فيهِ صائمًا كانَ مَغفرةً لذنوبِهِ وعِتقَ رقبتِهِ منَ النّارِ، وَكانَ لَهُ مثلُ أجرِهِ من غيرِ أن يُنتَقصَ من أجرِهِ شيءٌ، قالوا: ليسَ كلُّنا نجِدُ ما يفطِّرُ الصّائمَ، فقالَ: يُعطي اللَّهُ هذا الثَّوابَ من فطَّرَ صائمًا على تَمرَةٍ أو شَرْبَةِ ماءٍ أو مَذْقَةِ لَبنٍ
সূত্র: সহিহ ইবনে খুযাইমা খ. ৩ পৃ. ৩৪১

 

পানি পান করানো

ومَن أشبعَ فيهِ صائمًا سقاهُ اللَّهُ من حَوضي شربةً لا يَظمأُ حتّى يدخُلَ الجنَّةَ
সূত্র: সহিহ ইবনে খুযাইমা খ. ৩ পৃ. ৩৪১

 

অধিনস্তদের কাজ কমিয়ে দেয়া

مَن خفَّفَ عن مَملوكِهِ غَفرَ اللَّهُ لَهُ، وأعتقَهُ منَ النّارِ،
সূত্র: সহিহ ইবনে খুযাইমা খ. ৩ পৃ. ৩৪১

ইফতারের আগে পরে ৩টি দোয়া।

মনে রাখতে হবে, রোযাদার ইফতার সময় কোন দোয়া করলে, সে দোয়া মহান রব ফিরিয়ে দেন না। এজন্য ইফতারির সময় খুব বেশি দোয়া,ইস্তেগফার করা উচিৎ।

১. ইফতারি সামনে রেখে দোয়া:

اللهمَّ إني أسألكَ برحمتكَ التي وَسِعَتْ كلَّ شيٍء أن تغفرَ لي ذنوبي

সূত্র: ইবনে মাজা হাদিস-৩৪৫ তুহফাতুল মুহতাজ খ:২ পৃ:৯৭

 

. আর ইফতার গ্রহণের সময়ের দোয়া,

اللهم لك صمت وعلى رزقك أفطرت
সূত্র: আবু দাউদ হাদীস-২৩৫৮

৩. ইফতারের পরের দোয়া:

ذهب الظَّمَأُ وابْتَلَّتِ العُرُوقُ وثَبَتَ الأَجْرُ إنْ شاءَ اللَّهُ
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ হাদিস-২৩৫৭ দারাকুতনী খ:২ পৃ:৪০১,
মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১৫৭৬

নবিজি স: কি দিয়ে ইফতার করতেন?

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال قال النبي صلي الله عليه. وسلم مَنْ وجدَ تمرًا فلْيُفطِرْ عليهِ ومَنْ لا فلْيُفطِرْعلى الماءِ فإنَّه طَهورٌ
সূত্র: জামে সগীর হাদিস-৯০৫৫ তিরমিযী-৬৫৮ আহমাদ-১৬২৪২

 

রোযা ভাঙ্গবে না

স্বপ্নদোষ হলে রোযা নষ্ট হবে কি?

عن أبي سعيد الخدري قال قال النبي صلي الله عليه وسلم ثلاثٌ لا يُفطرْنَ الصائمَ الحجامةُ والقيءُ والاحتلامُ
সূত্র: তিরমিযি হাদিস-৭১৯ নাসবুর রায়াহ খ:২ পৃ:৪৪৬ দারেকুতনী খ:২ পৃ:১৮৩

রোযা রেখে এনজিওগ্রাম করার বিধান:

এনজিওগ্রামের কারণে রোযা নষ্ট হবে না। এ যন্ত্রটি ব্যবহারের সময় কোন ঔষধ লাগানো থাকলেও রোযা নষ্ট হবে না। কারণ এতে খাদ্যনালী দিয়ে কোন কিছু পেটে প্রবেশ করে না। আর মূলত কোরআন শরীফে রোযাদারের জন্য খাদ্য আহার করা নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,

وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْل

(সূরা বাকারা আয়াত-১৮৭)

 

 

রোযা রেখে ডায়াবেটিস পরীক্ষা:

ডায়াবেটিসের ‍সুগার মাপার জন্য হাতে সুচ ঢুকিয়ে যে একফোটা রক্ত নেওয়া হয়, এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ

সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

রোজা অবস্থায় মস্তিষ্ক অপারেশন:

রোযা রেখে মস্তিষ্ক অপারেশন করালে, রোযা নষ্ট হবে না। যদিও অপারেশনে কোনো তরল ঔষধ ব্যবহার করা হয়। কেননা মস্তিষ্ক থেকে গলা পর্যন্ত সরাসরি কোনো নালিপথ নেই। তাই মস্তিষ্কে কোনো কিছু দিলে তা গলায় পৌঁছে না। আর মূলত কোরআন শরীফে রোযাদারের জন্য খাদ্য আহার করা নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,

وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْل
(সূরা বাকারা আয়াত-১৮৭)

রোযা রেখে আলট্রাসনোগ্রাম করা যাবে

আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ঔষধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার সবই চামড়া বা স্কীনের উপরে থাকে, ভেতরে প্রবেশ করে না। তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোযা নষ্ট হবে না।কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

 

রোযা অবস্থায় চোখে সুরমা দেয়া যাবে?

রোযা অবস্থায় চোখে সুরমা ব্যবহার করতে কোন সম্যা নেই। হাদীস শরীফে এসেছে যে,

عن عائشة أم المؤمنين اكتَحلَ رَسولُ اللَّهِ صلّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ وَهوَ صائمٌ
সূত্র: ইবনে মাজা হাদিস-১৬৭৮ (হাদিস সহীহ) ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৩ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ:৩৯৫

গোসল ফরজ অবস্থায় সাহরী করা যাবে কি?

নবিজি স: দু’জন সহধর্মিণী আম্মাজান আয়েশা রা: ও উম্মে সালামা রা: থেকে বর্ণিত,

أنَّ رَسولَ اللَّهِ ﷺ كانَ يُدْرِكُهُ الفَجْرُ وهو جُنُبٌ مِن أهْلِهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ ويَصُومُ
সূত্র: বুখারী হাদিস-১৯২৫ ইবনে হিব্বান-৩৪৯৬

বি:দ্র: তবে গোসল না করে যেহেতু পবিত্র হওয়া যায় না, অতএব ফজরের ওয়াক্ত চলে যাবার আগেই গোসল করে নামাজ পড়ে নিতে হবে।

 

 

শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোযা নষ্ট হবে?

রোযা অবস্থায় শরীর থেকে বক্ত বের হল, রোযা নষ্ট হবে না। চাই ইচ্ছা করে বের করুক বা অনিচ্ছায়, অল্প হোক বা বেশি। কারণ রাসুল স: রোযা অবস্থায় হিজামা করিয়ে রক্ত বের করেছেন। হাদিসে এসেছে,

عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم احتجم وهو محرم واحتجم وهو صائم
সূত্র: বুখারী হাদিস-১৯৩৮

 

রোযাদার গোসলে সাবান ব্যবহার করতে পারবে।

রোযা রেখে গোসলের সময সাবান শ্যাম্পু ব্যবহার করতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ সাবান বা শ্যাম্পু শরীরের উপরে পরিস্কার করে, ভেতরে প্রবেশ করে না।ফলে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

 

রোযার নিয়ত করেও স্ত্রী সহবাস জায়েয

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ
সুরা বাকারা আয়াত-১৮৭

 

রোযা রেখে ব্লাড (রক্ত) দেয়া জায়েয কি না?

রোযা রেখে রক্ত দেয়া জায়েয। তবে ব্যক্তি যদি এমন দুর্বল হয় যে, রক্ত দিলে তাঁর রোযার ক্ষতি হবে বা রোযা ভাঙ্গতে হবে, তবে তার জন্য রক্ত দেয়া মাকরুহ।

হাদিস শরীফে এসেছে,
عن أبي سعيد الخدري قال قال النبي صلي الله عليه وسلم ثلاثٌ لا يُفطرْنَ الصائمَ الحجامةُ والقيءُ والاحتلامُ
সূত্র: তিরমিযি হাদিস-৭১৯ নাসবুর রায়াহ খ:২ পৃ:৪৪৬ দারেকুতনী খ:২ পৃ:১৮৩

 

গর্ভবতী ও দুগ্ধপানকারিনী নারীর জন্য রোযা:

যদি কোন মহিলার পেটে বাচ্চা থাকে অথবা কোলে বাচ্চা থাকে, যাকে দুধ পান করাতে হয় এমন মহিলার রোজা রাখলে যদি তার নিজের স্বাস্থ্য অথবা সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে অথবা তার জন্যে রোজা রাখাটা কষ্টকর হয়, এমন নারীর জন্য রোজা না-রাখা জায়েয আছে। তবে পরে অবশ্যই এ রোযাগুলোর কাযা করতে হবে। নবিজি স: বলেন,

إن اللهَ وضع عن المسافرِ الصوم وشطرَ الصلاةِ وعن الحامل أو المرضع الصومَ أو الصيامَ

সূত্র: তিরমিযী হাদিস-৭১৫ ইবনে মাজা-১৬৬৭ মুসনাদে আহমাদ-১৯০৬৯ (হাদিস: হাসান)
ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া খ:৩ পৃ:৪০৪

 

সাহরি না খেতে পারলে রোযার বিধান কি?

রোযা হওয়ার জন্য সাহরী শর্ত নয়। যেমন ওযু না থাকলে নামাজ হয় না,বিষয়টি এমন নয় যে, রোযার জন্য সাহরী করতেই হবে। সাহরী না খেতে পারলেও রোযা রাখতে হবে। তবে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব বা সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

تسحروا فإن في السحور بركة
সহীহ মুসলিম হাদিস-১০৯৫ বুখারী-১৯২৩

 

রোযা রেখে ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে রোযা হবে?

যদি রোযাদার রোযার কথা মনে না থাকায় ভুলে কিছু খেয়ে নেয়, তাহলে তার রোযা নষ্ট হবে না। হাদীস শরীফে এসেছে-

من نسي وهو صائم فأكل أو شرب فليتم صومه، فإنما أطعمه الله وسقاه
সহীহ মুসলিম: ১১৫৫

তবে সে যে রোযা এ কথা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

 

রোযা নষ্ট হবে

নাকে ঔষধ দিলে রোযা নষ্ট হবে?

নাকে ঔষধ বা পানি দিলে সাধারণত তা গলার ভেতরে চলে যায়, ফলে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং পরে কাযা করে নিতে হবে। কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

পায়ুপথে ডুশ দিলে রোযা নষ্ট হবে।

পায়ুপথে বা মলদ্বারের ভেতর ওষুধ বা পানি ইত্যাদি প্রবেশ করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে এবং পরে সেটা কাযা করতে হবে। কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহারের বিধান:

যেহেতু ইনহিলারের মাধ্যমে ঔষধ সে রাস্তা দিয়েই প্রবেশ করে,যে রাস্তা দিয়ে খাদ্য গ্রহণ করা হয় ফলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। যদি কেউ এমন অসুস্থ হয় যে, তাকে ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়,তার জন্য রোযা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে যদি কেউ রোযা থেকে ইনহেলার নেয়,তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। পরে কাযা করতে হবে।কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

কানে ঔষধ বা তেল দিলে রোযা হবে না?

কানে ঔষধ বা তেল দিলে সাধারণত তা গলার ভেতরে চলে যায়, ফলে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং পরে কাযা করে নিতে হবে। কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

 

হস্তমৈথুন করলে রোযা নষ্ট হবে।

রোযা রেখে হস্তমৈথুন করার ফলে বীর্যপাত হলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি বীর্যপাত না হয়, তাহলে রোযা নষ্ট হবে না। কারন বীর্যপাত হওয়ার অর্থ হলো কাম উত্তেজনার চূড়ান্ত স্বাদ গ্রহণ করা। যা হাদিসে নিষেধ। হযরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত নবিজি স: বলেন,

والَّذِي نَفْسِي بيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصّائِمِ أطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ تَعالى مِن رِيحِ المِسْكِ. يَتْرُكُ طَعامَهُ وشَرابَهُ وشَهْوَتَهُ مِن أجْلِي
সূত্র: বুখারী হাদিস-১৮৯৪ মুসলিম-১১৫১

এজন্য ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন,

الصَّائِمُ إذَا عَالَجَ ذَكَرَهُ حَتَّى أَمْنَى يَجِبُ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ
সূত্র: আলবাহরুর রায়েক খ: 2 পৃ: 475 ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ:১ পৃ:২০৫

হস্তমৈথুন করা ইসলামে পরিস্কার হারাম।

 

শর্ত সাপেক্ষে রোযা

অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহারে রোযা নষ্ট হবে?

অক্সিজেন মাস্কে যদি কোন ঔষধ বা অন্য কিছু ব্যবহ্নত না করা হয় এবং শুধু বাতাস ভিতরে প্রবেশ করে, তাহলে এর দ্বারা রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত,
وإنما الفطر مما دخل وليس مما خرج
সূত্র: মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক হাদীস নং-৬৫৮

নেবুলাইজারে রোযা নষ্ট হবে?

মূলত নেবুলাইজারের মাধ্যমে শ্বাষকষ্ট দূর করার জন্য ঔষধ তরল বা বাষ্প আকারে ভিতরে প্রবেশ করানো হয়ে থাকে। ফলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। (তবে যদি শুধু বাতাস ভিতরে প্রবেশ করায় তাহলে রোযা নষ্ট হবে না।) কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

 

রোযা অবস্থায় অক্সিজেন ব্যবহারের বিধান:

রোযা অবস্থায় ঔষধ মিশ্রিত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। তবে বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোযা নষ্ট হবে না। কারণ রোযাদারের জন্য খাদ্য আহার করা নিষেধ। মহান আল্লাহ বলেন,

وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْل
(সূরা বাকারা আয়াত-১৮৭)

রোযা অবস্থায় এন্ডোস্কপি করার বিধান:

রোযা রেখে এন্ডোস্কপি করানো করার সময় যদি নলের ভিতর দিয়ে পানি বা কোনো ঔষধ ভিতরে প্রবেশ করানো হয়, তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। পরে কাযা করতে হবে। আর ঔষধ বা পানি যদি না যায়,তাহলে নষ্ট হবে না। কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

পেটে ঔষধ লাগালে রোযা নষ্ট হবে?

পেটের ক্ষতস্থানে ঔষধ লাগালে যদি পেটের ভেতর ঔষধ চলে যায়,তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। বিশেষ কারণে এমনটি করলে পরে কাযা করে নেবে। কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪

রোযা অবস্থায় স্ত্রী চুম্বন বা স্পর্শ করা যাবে কি?

রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ করলে যদি বীর্যপাত না হয়, তাহলে রোযা নষ্ট হবে না। হাদিস শরীফে এসেছে,

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال أن رجلا سأل النبي ﷺ عن المبًاشرة للصائم فرخص له وأتاه آخر فسأله فنهاه فإذا الذي رخص له شيخ والذي نهاه شاب
সূত্র: আবু দাউদ হাদিস-২৩৮৭ সুনানে কুবরা (বাইহাকী) খ:৪ পৃ:২৩১ (হাদিস:সহিহ)

 

রোযা মাকরুহ হবে

রোযা অবস্থায় টুথব্রাশ করা মাকরুহ।

রোযাদারের জন্য টুথব্রাশ করা মাকরুহ। কারণ টুথব্রাশ করলে পেস্ট বা মাজনের কিছু গলার ভেতরে চলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আর যদি গলার ভেতর চলে যায়, তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ হাদিসে এসেছে,

عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭ রদ্দুল মুহতার খ:২ পৃ: ৪০২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ: ১ পৃ: ২০৪ ইমদাদুল ফাতাওয়া খ: ২ পৃ:১৪১ জাওয়াহিরুল ফিকহ খ: ৩ পৃ:৫১৮

এ ক্ষেত্রে দাঁত পরিস্কার রাখতে ইফতারের সময় থেকে নিয়ে সাহরীর শেষ সময় পর্যন্ত দীর্ঘ এ সময়টিতে দাঁত ব্রাশ করে নেবো এবং দিনের বেলায় মিসওয়াক করে নেবো।

Check Also

ইতিকাফের ফযিলত عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من اعتكف إيمانا واحتسابا …

Leave a Reply

Your email address will not be published.