ভাস্কর্য আল্লাহ হারাম করেননি। হেযবুত তওহীদ

প্রিয় মুসলিম ভাই! আপনারা অবশ্য জেনে থাকবেন যে, কোন প্রাণীর চিত্রাঙ্কন করা বা ভাস্কার্য বা মূর্তি বানানো ইসলামে পরিস্কার হারাম।
যে ব্যাপারে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে।এতদ্বসত্বেও সে আয়াত এবং হাদিস গুলোর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে হেযবুত তওহীদ চিত্রাঙ্কন করা ও ভাস্কার্য বানানোকে করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি যুক্তি পেশ করতে দ্বীধাবোধ করেনি।
চলুন আগে দেখি তাদের দাবী কি?

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
“যে কোন জিনিস হারাম কিনা তা জানার জন্য আমাদেরকে আল্লাহর কেতাব দেখতে হবে।কোরআনে যা কিছু নিষিদ্ধ করা হোয়েছে সেগুলি ছাড়া আর সবই বৈধ।এখন কোরআনে দেখুন গান,বাদ্যযন্ত্র,চলচিত্র,নাট্যকলা,অভিনয়,নৃত্য,চিত্রাঙ্কন, ভাষ্কর্য নির্মাণ ইত্যাদি আল্লাহ হারাম কোরেছেন কিনা? যদি না কোরে থাকেন তাহলে এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ।আল্লাহ যেটিকে বৈধ কোরেছেন সেটিকে কোন আলেম,মুফতি,ফকীহ ,মোফাসসের হারাম করার অধিকার রাখেন না।
সূত্রঃ আসুন সিস্টেমটাকেই পাল্টাই-পৃঃ১২

উক্ত বইয়ে তারা চিত্রাঙ্কন ও ভাষ্কার্য সম্পর্কে কুরআন শরীফে কোন আয়াত নেই বলে দাবী করেন।
পাশাপাশি কুরআনে যেটা হারাম করা হয়নি সেটা হালাল বলে দাবী করে বিশ্বনবি সঃ হাদিসের মাধ্যমে যা হারাম করেছেন, সে গুলোকেও অস্বীকার করলেন।
এ সম্পর্কে অন্য অধ্যায়ে লেখা যাবে যে হাদিসের মাধ্যমে কোন বিষয় হালাল-হারাম হয় কিনা?
এখানে ঐ সম্পর্কে আলোচনা না করে চলুন দেখি পবিত্র কুরআন শরীফে চিত্রাঙ্কন ও ভাষ্কার্য সম্পর্কে কোন আয়াত আছে কিনা দেখা যাক।

প্রথমে জেনে রাখা উচিত ভাষ্কার্য কাকে বলে?
মূর্তি আর ভাষ্কার্য কি একই জিনিষ নাকি আলাদা?
বাংলা অভিধানে ধাতব বা মর্মর মূর্তি নির্মান শিল্পকে ভাষ্কার্য বলা হয়।
আরো বিস্তারিত দেখতে বাংলা অভিধান গুলো এবং উইকিপিডিয়া দেখতে পারেন।

অতএব পাঠক! আমরা বুঝতে পারলাম ভাষ্কার্য বা মূর্তি এক ও অভিন্ন জিনিষ।
চলুন ভাষ্কার্য মূর্তি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের আয়াত কি বলছে দেখে আসি-

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ وَ اجْتَنِبُوْا قَوْلَ الزُّوْرِۙ
অর্থৎ তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্তু অর্থাৎ মূর্তিসমূহ (ভাষ্কার্য সমূহ) এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।
সূরা হজ্জ আয়াত-৩০

পবিত্র হাদিস শরীফে বিশ্বনবী সঃ বলেন-
أَرْسَلَنِي بصِلَةِ الأرْحَامِ وَكَسْرِ الأوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لا يُشْرَكُ به شيءٌ
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখার, মূর্তি বা ভাষ্কার্যসমূহ ভেঙ্গে ফেলার এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে।
সূত্রঃ সহীহ মুসলিম হাদিস- ৮৩২
বায়হাকী খঃ২ পৃঃ৪৫৪

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
قالَ النبيُّ ﷺ: إنَّ مِن أشَدِّ النّاسِ عَذابًا يَومَ القِيامَةِ الَّذِينَ يُصَوِّرُونَ هذِه الصُّوَرَ.
অর্থাৎ প্রতিকৃতি তৈরিকারী (ভাস্কর, চিত্রকর) শ্রেণী হল ওইসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে কিয়ামত-দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।
সূত্রঃ সহীহ বুখারী হাদিসক-৬১০৯
মুসলিম হাদিস-২১০৭
মাজমাউয যাওয়ায়েদ খঃ৫ পৃঃ২৩২
নাসাঈ হাদিস-৫৩৭৯

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন মহান আল্লাহ বলেন-
قالَ اللَّهُ عزَّ وجلَّ: ومَن أظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ خَلْقًا كَخَلْقِي؟ فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً، أوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةً، أوْ لِيَخْلُقُوا شَعِيرَةً

অর্থাত প্রতিকৃতি নির্মাতা (ভাস্কর, চিত্রকদের)
চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে?
সূত্রঃ মুসলিম হাদিসঃ২১১১
বুখারী হাদিস-৫৯৫৩
মুসনাদে আহমাদ হাদিস-৭১৬৬
ইবনে হিব্বান হাদিস-৫৭৫৯

لَعَنَ الواشِمَةَ والمُسْتَوْشِمَةَ، وآكِلَ الرِّبا، ومُوكِلَهُ، ولَعَنَ المُصَوِّرَ
অর্থাৎ আউন ইবনে আবু জুহাইফা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদ ভক্ষণকারী ও সুদ প্রদানকারী, উল্কি অঙ্কণকারী ও উল্কি গ্রহণকারী এবং প্রতিকৃতি প্রস্ত্ততকারীদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) উপর লানত করেছেন।
সূত্রঃ সহীহ বুখারী হাদিস- ২২৩৮
ইবনে হিব্বান হাদিস-৫৮৫২

عن أبي طلحة زيد بن سهل الأنصاري عن النبي صلي الله عليه وسلم قال لا تَدْخُلُ المَلائِكَةُ بَيْتًا فيه كَلْبٌ ولا صُورَةٌ
অর্থাৎ হযরত আবু তালহা যায়েদ ইবনে সাহল আনসারী রাঃ বলেন নবি সঃ থেকে বর্ণিত যে ঘরে কুকুর এবং ছবি থাকে সে ঘরে (রহমতের) ফিরিস্তা প্রবেশ করেননা।
সূত্রঃ বুখারী হাদিস-৩৩২২
মুসলিম হাদিস-২১০৬

প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত কুরআন শরীফের আয়াত এবং হাদিম দ্বারা স্পষ্ট হলো যে,কোন প্রাণীর ছবি অঙ্কন পরিস্কার হারাম। যেখানে ছবি আকানো হারাম সেখানে ভাষ্কার্য তো আরো মানাত্মক গুনাহের কাজ।
কিন্তু এত আয়াত-হাদিসকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা সেগুলোকে হালাল করতে চায় তারা কিভাবে মুসলিম থাকে সেটা পাঠকের চেতনায় ছেড়ে দিলাম।

Check Also

দিবস পালন

  ইসলামে দুই ঈদ ব্যাতিত কোনো দিবস পালন করা বৈধ নয়। কিন্তু এ মহাসত্যকে অস্বীকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.