রোযাদারের নাকে,কানে,চোখে ড্রপ।

রোযাদারের জন্য চোখে,নাকে,কানে ড্রপ দেওয়া কি জায়েয?

যদি নাকে, কানে ও চোখে ড্রপের মাধ্যমে ওষুধ দিলে তা খাদ্যনালীতে চলে যায়। তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। যদি না যায়, তাহলে ভাঙ্গবে না। কারণ রোযা অবস্থায় পেটে কিছু প্রবেশ করলে রোযা নষ্ট হয়ে যায়।
عنِ ابنِ عبّاسٍ رَضِي اللَّهُ عنهُما قال إنما الفِطرُ مما دخلَ وليسَ مما خرجَ
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রোযা নষ্ট হয় শরীরে কিছু প্রবেশ করলে, শরীর থেকে কিছু বের হলে নয়।
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-৮৫১২ আল মাজমু (নববী) খ:৬ পৃ:৩১৭

তবে চোখে কিছু ব্যবহার করলে সাধারণত তা খাদ্যনালীতে পৌঁছে না।হাদীস শরীফে এসেছে যে,
عن عائشة أم المؤمنين اكتَحلَ رَسولُ اللَّهِ صلّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ وَهوَ صائمٌ
অর্থাৎ হযরত আয়েশা রা. বলেন নবিজি স: রোযা অবস্থায় চোখে সুরমা ব্যবহার করতেন।
সূত্র: ইবনে মাজা হাদিস-১৬৭৮ (হাদিস সহীহ)

এ হাদিস দ্বারা বুঝা যায় চোখে কিছু ব্যবহার করলে, সাধারণত তা খাদ্যনালিতে পৌছায় না। তাই ফুক্বাহায়ে কেরামগণ লিখেছেন যে, চোখে ওষুধ দিলে রোযা ভাঙ্গবে না। তবে চোখের ওষুধও যদি খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে,তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। তবে নাক ও কানে কোন তরল পদার্থ দিলে সাধারণত খাদ্যনালীতে দ্রুত পৌঁছে যায়, সেজন্য ফুকহায়ে কেরাম লিখেছেন নাকে,কানে তেল বা তরল পদার্থ ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই রোযা অবস্থায় এসব ওষুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই সতর্কতা।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত আরো দেখুন-

রদ্দুল মুহতার খ:৩ পৃ:৩৭৬
ফতাওয়া হিন্দিয়া খ:১ পৃ:২০৩-৪
কিতাবুল আছল খ: ২ পৃ:১৭১
আলমুহীতুল বুরহানী খ: ৩ পৃ: ৩৪৮
বাদায়েউস সানায়ে খ: ২ পৃ: ২৪৪
খুলাসাতুল ফাতাওয়া খ: ১ পৃ: ২৫৩
আলবাহরুর রায়েক খ: ২ পৃ:২৭৮
তাবয়ীনুল হাকায়েক খ:২ পৃ:১৮১

উত্তর প্রদানে-

মুফতী রিজওয়ান রফিকী

পরিচালক- মাদরাসা মারকাযুন নূর বোর্ড বাজার,গাজীপুর।

Check Also

ইমাম সাহেবের হুজরায় যেতে পারবে কি না?

إن خرج من غير عذر ساعة فسد اعتكافه অর্থাৎ কোনো প্রয়োজন ছাড়া যদি ইতিকাফকারী ব্যক্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.