যেকোন ধর্ম মানলেই শান্তি আসবে: হেযবুত তওহীদ।

প্রিয় পাঠক! বর্তমানে ইসলাম ব্যতিত কোন ধর্মই আল্লাহর ধর্ম নয়। সব ধর্ম বিকৃত এবং তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো বিকৃত। বর্তমানে অমুসলিমদের হাতে যে ধর্মগ্রন্থ গুলো আছে সব তাদের মনগড়া বানানো। ফলে তাদের ব্যক্তিজীবন থেকে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন সর্বত্র দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।

পক্ষান্তরে ইসলাম এমন একটি অবিকৃত ধর্ম যেটা পূর্নাঙ্গরুপে পালন করলে ব্যক্তিগত জিবন থেকে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন সর্বত্র শান্তির বন্যা বয়ে যাবে। বাস্তবেও হচ্ছে তাই, পৃথিবীর যে দেশে যতটুকু ইসলাম কার্যকর রয়েছে, সেখানে তারা ততটুকু শান্তির স্বাদ পাচ্ছে। আবার যারা একেবারেই ইসলাম বাদ দদিয়ে দিয়েছে, তারা অশান্তি অনলে জ্বলছে। তাই বর্তমানে ইসলাম বাদ দিয়ে ভিন্নধর্ম মেনে কোন ক্ষেত্রেই শান্তি আসছে না এবং শান্তির আশাও করা যায় না। কিন্তু এ চিরসত্যের বিরোধিতা করে বসলেন হেযবুত তওহীদ।

হেযবুত তওহীদের দাবি:

তারা দাবি করে বসলেন, “অমুসলিমরাও তাদের ধর্ম মেনে দুনিয়াতে শান্তি পাচ্ছে এবং পাবে।” এ প্রসঙ্গে তারা লিখেছেন,

আল্লাহর নাজেলকৃত ধর্মগ্রন্থগুলো এখনো মানুষের কাছে আছে যেগুলো স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বাক্ষর বহন করছে। মানুষ সেগুলো ভক্তির সঙ্গে পড়ছে, জানছে, বিচার-বিশ্লেষণ করছে। সেগুলোর মধ্যে সত্য খুঁজে পাচ্ছে, যা তাদের হৃদয়কে প্রশান্তিতে ভরে তুলছে তাদের আত্মার গভীরে প্রভাব ফেলছে।”
সূত্র: আক্রান্ত দেশ আক্রান্ত ইসলাম পৃ:১৯

অর্থাৎ সকল ধর্মের মানুষ এখনও তাদের ধর্মগ্রন্থ থেকে সত্য এবং শান্তি খুজে পাচ্ছে। উপরন্তু তারা আরও লিখেছেন,

“আমরা কাউকে ইসলাম হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান বা ইহুদী ইত্যাদি কোন বিশেষ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করছি না। আমাদের কথা হচ্ছে যার যার ধর্ম বিশ্বাস তার তার কাছে। আমরা যদি শান্তিতে জীবন যাপন করতে চাই, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিময় জীবন উপহার দিতে চাই তার জন্য আমাদেরকে সকল প্রকার কলহ-বিবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
সূত্র: মহাসত্যের আহ্বান পৃষ্ঠা-১০৫

অর্থাৎ শান্তিময় দুনিয়া গঠন করতে হলে ইসলামে আসা জরুরি নয়। বরং অন্য সকল ধর্ম পালন করে ঐক্যবদ্ধ হলেই শান্তি পাওয়া যাবে।

ইসলাম কি বলে?

আমাদের এ কথার জবাব মহান আল্লাহই দিয়েছেন ১৪০০ বছর আগেই। মহান রব বলেন,

وَمَنۡ أَعۡرَضَ عَن ذِكۡرِی فَإِنَّ لَهُ مَعِیشَةࣰ ضَنكࣰا وَنَحۡشُرُهُ یَوۡمَ ٱلۡقِیَـٰمَةِ أَعۡمَىٰ قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرۡتَنِیۤ أَعۡمَىٰ وَقَدۡ كُنتُ بَصِیرࣰا قَالَ كَذَ ٰ⁠لِكَ أَتَتۡكَ ءَایَـٰتُنَا فَنَسِیتَهَاۖ وَكَذَ ٰ⁠لِكَ ٱلۡیَوۡمَ تُنسَىٰ

অর্থ: এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।
সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম।
আল্লাহ বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব।
সুরা ত্ব-হা আয়াত-১২৩-১২৬

এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝা গেল, সংকীর্ণ জীবন তথা ইহকাল ও পরকালের অশান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে একমাত্র আল্লাহর স্বরণ তথা পবিত্র কুরআনের অনুযায়ী চলতে হবে। অর্থাৎ দো’জাহানে শান্তি পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হলো কুরআনের বিধান তথা ইসলাম গ্রহণ করা। কারণ কুরআনই আল্লাহর একমাত্র গ্রন্থ যা বিকৃত হয়নি। পক্ষান্তরে আল্লাহর নাযিলকৃত অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ বিকৃত হওয়ার ব্যাপারে খোদ হেযবুত তওহীদই লিখেছেন,

“পূর্ববর্তী কেতাবগুলো ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।”
সূত্র: ইসলাম কেন আবেদন হারাচ্ছে পৃষ্ঠা-৬

“সকল প্রাচীন আঞ্চলিক দীনগুলিকে অনুপযুক্ত ঘোষণা দিয়ে মহান আল্লাহ ১৪০০ বছর আগে শেষ দীন এসলামের মহাগ্রন্থ আল-কোর’আন নাযেল করলেন এবং সেটা যেন কেউ বিকৃত না করতে পারে তার দায়িত্ব স্রষ্টা নিজেই নিলেন। সেই মহাগ্রন্থ আজও অবিকৃত অবস্থায় আমাদের মধ্যে রোয়েছে।”
সূত্র: এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব পৃ:৫৬

অর্থাৎ কুরআন ব্যতিত আল্লাহর নাযিলকৃত কোন ধর্মগ্রন্থই অবিকৃত নেই। সুতরাং অবিকৃত কুরআনের মতবাদ তথা ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ভিন্ন ধর্মে থাকাবস্থায় শান্তুি পাওয়া যাবে বলে হেযবুত তওহীদ যে দাবি করলেন, সেটা সরাসরি আল্লাহর কুরআনের বিরোধী কথা। কারণ এখন দোজাহানে শান্তি পেতে হলে একমাত্র কুরআনের মতবাদ তথা ইসলামই মানতে হবে। আর এ চিরসত্য যেমন বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতা সাক্ষী তেমনি এ মহাসত্য হেযবুত তওহীদের মুখ থেকেই বের হয়ে গেছে।তারা লিখেছেন,

“ধর্মব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে ধর্মের প্রকৃত রূপ হারিয়ে যাওয়ায় বিকৃত ধর্মগুলো মানুষের জন্য শান্তিদায়ক নয়।”
সূত্র: ধর্ম বিশ্বাস পৃষ্ঠা-৪

সুতরাং প্রমাণ হলো বিকৃত ধর্মগুলো দিয়ে পৃথিবী শান্তিময় হচ্ছে না এবং হবেও না। শান্তিময় জিবনগঠণে অবিকৃত কুরআনের ধর্ম তথা ইসলামেই আসতে হবে।

 

Check Also

দিবস পালন

  ইসলামে দুই ঈদ ব্যাতিত কোনো দিবস পালন করা বৈধ নয়। কিন্তু এ মহাসত্যকে অস্বীকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.