ভাই-বোন ও আপনজনকে যাকাত দেয়া যাবে কি না?

যাকাত, ফিতরা, মান্নতের টাকা বা সম্পদ প্রথমত নিজের ভাই ও বোন। অতপর ভাতিজা-ভাতিজী। অতপর চাচা-চাচি।অতপর চাচাতো ভাই,বোন। অতপর ফুফু-ফুফা। অতপর ফুফাতো ভাই-বোন অতপর মামা-মামি অতপর মামাতো ভাই-বোন অতপর খালা-খালু। অতপর খালাত ভাই-বোনকে দেয়া উত্তম।

তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, তারা বালেগ এবং গরীব-মিসকিন হতে হবে। তবে যদি তাদের কেউ যাকাত প্রদানকারীর অধিনস্ত হয় অর্থাৎ তাদের ভরণ-পোষণের দায়ীত্ব যাকাত প্রদানকারীর উপর থাকে, তাহলে ভরণ-পোষণ হিসাবে দিলে যাকাত,ফিতরা বা মান্নত আদায় হবে না। তবে ভরণ পোষণের টাকা না দিয়ে অতিরিক্ত হিসাবে তাদেরকে টাকার মালিক বানিয়ে দিলে আদায় হয়ে যাবে।
কারণ হাদিস শরীফে এসেছে,

عن سلمان بن عامر الضبى عن النبي صلي الله عليه وسلم قال الصَّدقةُ على المسكينِ صدقةٌ وهي على ذي الرَّحمِ اثنتانِ: صدقةٌ وصِلةٌ

অর্থাৎ হযরত সালমান ইবনে আমের আদ দাব্বী রা: থেকে বর্ণিত নবিজি স: বলেন, মিসকীনকে যাকাত দেওয়া সদকা। আর আত্মীয়কে দেওয়ায় দুটি (আমল) সদকা ও আত্মীয়তার হক আদায়”।
সূত্র: সহিহ ইবনে হিব্বান হাদিস-৩৩৪৪ জামে সগীর-৫১২৮ ইবনে খুযাইমা-২০৬৭ তিরমিযি-৬৫৮ মুসনাদে আহমাদ-১৭৮৮০ দারেমী-২০৬৭ (হাদিস-সহিহ)

উপরন্তু আরেকটি হাদিসে এসেছে,

عن عطاء عن ابن عباس قال لا بأس أن تجعل زكاتك فى ذوى قرابتك ما لم يكونوا فى عيالك

অর্থাৎ আতা র: হযরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণনা করে বলেন, তোমার যাকাত নিকট আত্বীয়দের দিতে কোনো সমস্যা নেই যদি তারা তোমার পরিবারের অন্তর্ভূক্ত না হয় ৷
সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদিস-১০৬২৬

হানাফী মাযহাবের ফাতাওয়া:

এ হাদিস গুলো সামনে রেখে হানাফী মাযহাবের ফতাওয়া হলো,

ফাতাওয়ায়ে শামী: 

ولو دفع زكاته إلى من نفقته واجبة عليه من الأقارب جاز إذا لم يحسبها من النفقة

অর্থাৎ যদি কেউ তার যাকাত ( সম্পদ, টাকা পয়সা) এমন নিকটবর্তী কোনো আত্বীয়কে দেয় যার ভরণ পোষণ তার ওপর আবশ্যক, যদি প্রদত্ব টাকা পয়সা ভরণ-পোষণ বাবদ হিসাব করে না দেয়, তাহলে যাকাত আদায় হবে ৷
সূত্র: রদ্দুল মুহতার খ: ৩ পৃ:২৯৩

ফতোয়ায় হিন্দিয়া:

والأفضل فى الزكاة والفطر والنذور الصرف أولا إلى الإخوة والأخوات ثم إلى أولادهم ثم إلى الأعمام والعمات ثم إلى أولادهم ثم إلى الأخوال والخلات ثم إلى أولادهم

অর্থাৎ যাকাত, ফিতরা, মান্নত (এর টাকা-পয়সা বা সম্পদ) দেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তম হলো- নিজের ভাই ও বোন। অতপর ভাতিজা-ভাতিজী। অতপর চাচা-চাচি।অতপর চাচাতো ভাই,বোন। অতপর ফুফু-ফুফা। অতপর ফুফাতো ভাই-বোন অতপর মামা-মামি অতপর মামাতো ভাই-বোনকে দেয়া উত্তম।
সূত্র: ফতোয়ায় হিনদিয়া খ: ১ পৃ: ২৯০

 

লেখক:

মুফতী রিজওয়ান রফিকী  

পরিচালক- মাদরাসা মারকাযুন নূর বোর্ড বাজার,গাজীপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.