Home > হিজবুত তাওহীদ > ব্যক্তিগত জিবনে ওয়াহদানিয়্যাত বা তাওহীদ মানা শিরক:

ব্যক্তিগত জিবনে ওয়াহদানিয়্যাত বা তাওহীদ মানা শিরক:

প্রিয় পাঠক, ইসলামের মূল স্তম্ভ হলো, ‘তাওহীদ’ তথা আল্লাহর একাত্ববাদে বিশ্বাস করা। এই বিশ্বাস দায়েমীমী তথা সর্বক্ষণের জন্য ফরজ। এক মূহুর্তের জন্য তাওহীদ থেকে বিচ্যূৎ হওয়ার সুযোগ নেই। মুমিন হতে গেলে  সর্বপ্রথম নিজের ব্যক্তিগত জিবনে ওয়াহদানিয়াত বা তাওহীদের বিশ্বাস করতে হবে। কিন্তু হেযবুত তওহীদের দাবি হলো, ব্যক্তিগত জিবনে তাওহীদ মানা শিরক।

হেযবুত তওহীদের দাবি:

আজকের ব্যক্তিগত জীবনের ওয়াহদানিয়াত নয়, পূর্ণ জীবনের ওয়াহদানিয়াত, ব্যক্তিগত ও জাতীয় উভয় জীবনের ওয়াহদানিয়াত। শুধু ব্যক্তিগত জীবনের ওয়াহদানিয়াত হোচ্ছে শেরেক। আজ পৃথিবীর অতি মুসলিমরা নামাজে,রোজায়, হজ্বে, তাহাজ্জুদে, তারাবিতে, দাড়িতে, টুপি-পাগড়িতে, পায়জামায়, কোর্তায় নিখুঁত। শুধু একটি মাত্র ব্যাপারে তারা নেই, সেটা হলো, তাওহীদ, ওয়াহদানিয়াত। যে আংশিক অর্থাৎ ব্যক্তিগত ওয়াহদানিয়াত ঐ অতি মুসলিমদের মধ্যে আছে, তা আল্লাহ আজও যেমন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান কোরে রেখেছেন, হাশরের দিনও তেমনই ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান কোরবেন।
সূত্র: এ ইসলাম ইসলামই নয়, পৃ. ১৮৬-১৮৭

অর্থাৎ তাদের দাবি হলো, ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর একাত্ববাদ তথা তাওহীদে বিশ্বাস করা শিরক।

ইসলাম কি বলে?

সামষ্টিকজিবনে ওয়াহদানিয়্যাত প্রতিষ্ঠা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বটে। কিন্তু একজন মানুষ ঈমান আনতে গেলে সর্বপ্রথম নিজের মধ্যে তাওহীদের বিশ্বাস আনতে হবে। সেটাও যদি শিরক হয়, তাহলে মানুষ মুসলমান হওয়ার কোনো সুযোগ কি করে থাকে? কি হাস্যকর কথা। কোনো সুস্থ মানুষ কি এসব বলতে পারে?

উপরন্তু ব্যক্তিগতজীবনে যারা ওয়াহদানিয়্যাত বা তাওহীদে বিশ্বাস আনে, তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,

بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِندَ رَبِّهِ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ

অর্থ: হাঁ, যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও বটে তার জন্য তার পালনকর্তার কাছে পুরস্কার বয়েছে। তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
সূরা বাকারা, আয়াত: ১১২

এ আয়াতে ব্যক্তিজিবনে তাওহীদের বিশ্বাস ও নেক আমলের কথা বলা হয়েছে এবং এমন লোকদের জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। যদি ব্যক্তিজিবনে তাওহীদের বিশ্বাস শিরক হয় তাহলে এ আয়াতের অর্থ কি?

অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন,

أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا

অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো।
সূরা তাহরীম, আয়াত: ৬

এ আয়াতে প্রথম নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে বলা হয়েছে। উপরন্তু হাদিস শরীফে এসেছে,

مَا مِنْ أَحَدٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ إِلاَّ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ ‏

অর্থাৎ যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, ’আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’ তার জন্য আল্লাহ তা’আলা জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।
সূত্র: সহিহ বুখারী, হাদিস: ১২

এ হাদিসেও ব্যক্তিগত জিবনে তাওহীদের বিশ্বাসের কথা বলে জাহান্নাম হারাম হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

আরেকটি হাদিসে এসেছে, হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

سَتَكُونُ فِتَنٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ خَيْرٌ مِنْ الْمَاشِي وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنْ السَّاعِي مَنْ تَشَرَّفَ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ فَمَنْ وَجَدَ مَلْجَأً أَوْ مَعَاذًا فَلْيَعُذْ بِهِ

অর্থ: শীঘ্রই ফিতনা দেখা দেবে। তখন উপবিষ্ট ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে ভাল (ফিতনামুক্ত) থাকবে, দাঁড়ানো ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে ভাল থাকবে, চলমান ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে ভাল থাকবে। যে ব্যক্তি সে ফিতনার দিকে তাকাবে, ফিতনা তাকে ঘিরে ধরবে। কাজেই তখন কেউ যদি কোথাও কোন নিরাপদ আশ্রয়স্থল কিংবা আত্মরক্ষার ঠিকানা পায়, তাহলে সে যেন সেখানে আশ্রয় নেয়।
সূত্র: সহিহ বুখারী, হাদিস: ৭০৮২

অপর হাদিসে এসেছে,

يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ

অর্থ: সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চুড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা থেকে বাঁচতে সে তার দ্বীন নিয়ে পালিয়ে যাবে।
সূত্র: সহিহ বুখারী, হাদিস: ১৯

সুতরাং এ দু’টি হাদিস দ্বারা এটা প্রমাণ হলো যে, সামষ্টিকজিবনে যখন অনৈসলামিক কার্যক্রম ব্যাপক হবে, তখন ঈমানদাররা তাঁদের ঈমান নিয়ে কোনো নিরাপত আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ নবীজি সা. নিজে দিয়েছেন। এখন এ লোকটার তাওহীদের বিশ্বাসও কি শিরক হবে? কতবড় বিভ্রান্তি!

উপরন্তু নবীজি সা. যখন কালেমার দাওয়াত নিয়ে দুনিয়াতে আগমন করেন, তখন কি তিনি সামষ্টিকজিবনে তাওহীদের বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করে তারপর ব্যক্তিগত জিবনে তাওহীদে বিশ্বাস এনেছিলেন? নিশ্চয় না। বরং সাহাবাদের ব্যাপারে হেযবুত তওহীদ নিজেরাই লিখেছে,

‘শত নির্যাতন নিপীড়ন বিদ্রূপ অপমান উপেক্ষা করে, খেয়ে না খেয়ে, গাছের লতা-পাতা খেয়ে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে। এই সময় যেসব সাহাবী ইন্তেকাল করেন তারা ইসলাম বলতে কি পেয়েছিলেন? তার নামায-রোযা হজ্ব-যাকাত ঈদ কোরবানি কিছুই পেয়েছিলেন কি? তারা পেয়েছেন শুধুমাত্র তাওহীদ এবং বলার অপেক্ষা রাখেনা তাওহীদই তাদের সফলকাম হয়ে জান্নাতে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট ছিল।’
সূত্র: তওহীদ জান্নাতের চাবি-১০

সুতরাং বুঝা গেলো, তাদের এ দাবি, ‘শুধু ব্যক্তিগত জিবনের ওয়াহদানিয়াত হচ্ছে শেরক’ এটা পরিস্কার কুফরী মন্তব্য।

Check Also

উম্মতের বয়স ৬০/৭০ বছর।

প্রিয় পাঠক, আমি আগাগোড়াই বলে আসছি, হেযবুত তওহীদ একটি ভ্রান্ত দল। তাদের এ ভ্রান্তির পেছনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.