বাদ্যযন্ত্র হারাম।

যেকোনো অডিও রেকর্ডিং ও এডিট করার সময় তাল ঠিক রাখার জন্য instrument তথা বাজনা ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়,বর্তমানে ইসলামী সংগীতের ভেতরেও সুক্ষভাবে instrument (বাদ্যযন্ত্র) ব্যবহার করা হচ্ছে। যখন অডিও এডিট করা হয়, তখন সব ইন্সট্রুমেন্ট ফেলে দেওয়া হয় না। কিছু ইন্সট্রুমেন্ট রেখে দেওয়া হয়। বিশেষ করে, প্যাড এবং বেজ গীটার এর ব্যবহার বেশি পরিলক্ষিত হয়। যেটা সাধারণ মানুষের তেমন বোঝার উপায় নেই। এ ধরণের কাজ পরিস্কার হারাম তথা কবীরা গুনাহের অন্তুর্ভূক্ত। এ বিষয়টি বোঝার জন্য আগে জানা দরকার বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে ইসলামের সিদ্ধান্ত কি। চলুন সর্বপ্রথম কয়েকটি দলীল জেনে নেয়া যাক।

আল্লাহ তা’আলার সিদ্ধান্ত:

মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ

অর্থাৎ একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে لهو الحديث অনর্থক কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।
সূরা লুকমান আয়াত: ৬

উক্ত আয়াতে لهو الحديث এর ব্যাখ্যায় বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মুজাহিদ রহ. বলেন,

اللهو الطبل

অর্থাৎ لهو الحديث হলো, ঢোল-তবলা।
সূত্র: তাফসীরে তাবারী খ. ২০ পৃ. ১৩০

উক্ত আয়াতের তাফসীরে বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন,

وَقَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ أُنْزِلَتْ هذه الآية ‘وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْم’ فِي الْغِنَاءِ وَالْمَزَامِيرِ

অর্থাৎ এই আয়াতটি নাযিল হয়েছে গান এবং বাঁশির ব্যাপারে।
সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর খ. ৩ পৃ. ৪৫১

নবীজি সা. এর সিদ্ধান্ত:

১. হাদিস শরীফে এসেছে,

عن أبي أمامة الباهلي قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم إنَّ اللهَ بَعَثَني رَحمةً للعالمينَ وهُدًى للعالمينَ وأمَرَني ربِّي بمَحقِ المَعازفِ والمَزاميرِ والأَوْثانِ والصُّلُبِ وأمْرِ الجاهليَّةِ

অর্থাৎ আবু উমামা বাহিলী রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন নবী সঃ বলেছেন যে,মহান আল্লাহ আমাকে বিশ্ববাসির জন্য রহমত এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি বাদ্যযন্ত্র এবং মূর্তি,ক্রুশ এবং জাহিলী যুগের কর্ম ধংশ করে দিই।
সূত্রঃ মুসনাদে আহমাদ হাদিস-২২৩০৭ তয়ালিসি হাদিস-১২৩০ তবরানী হাদিস-৭৮০৩

২. হাদিস শরীফে এসেছে,

عن سهل بن سعد الساعدي قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم سيكونُ في آخرِ الزَّمانِ خسفٌ وقذفٌ ومسخٌ قيل ومتى ذلك يا رسولَ اللهِ قال إذا ظهَرَتِ المعازفُ والقَيْناتُ واستُحِلَّتِ الخمرُ

অর্থাত নবী সঃ বলেন অদূর ভবিষ্যতে শেষ যামানায় মানুষের চেহারা বিকৃতি,ভূমিধ্বস হবে।
সাহাবা রাঃ বললেন হে রাসুল সঃ সেটা কখন হবে? নবি সঃ বললেন যখন বাদ্যযন্ত্র এবং নর্তকী বেশি বেড়ে যাবে এবং মদকে হালাল মনে করা হবে।
সূত্রঃ মাজমাউয যাওয়ায়েদ খঃ৮ পৃঃ১৩

৩. নবীজি সা. বলেন,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى أُمَّتِي الْخَمْرَ وَالْمَيْسِرَ وَالْمِزْرَ وَالْكُوبَةَ وَالْقِنِّينَ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অবশ্যই আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য মদ, জুয়া, ঢোল-তবলা এবং বীণা-জাতীয় বাদ্যযন্ত্রকে হারাম করেছেন।
সূত্র: মুসনাদে আহমাদ হাদিস: ৬৫৪৭ সুনানে আবু দাউদ হাদিস: ৩৬৯৬

৪. হযরত আবু মালেক আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ

অর্থঃ আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।
সূত্র: সহীহ বুখারী হাদিস: ৫৫৯০ তাহযিবুস সুনান খ. ১০ পৃ. ১৫৩ ফতহুল গফফার খ. ৪ পৃ. ১৮৯১

৫. হাদিস শরিফে আরও এসেছে, হযরত আবু মালেক আশআরী রা. নবীজি সা. থেকে বর্ণনা করেন,

لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا يُعْزَفُ عَلَى رُءُوسِهِمْ بِالْمَعَازِفِ وَالْمُغَنِّيَاتِ يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ

অর্থঃ আমার উম্মাতের কতক লোক মদের ভিন্নতর নামকরণ করে তা পান করবে। (তাদের পাপসক্ত অবস্থায়) তাদের সামনে বাদ্যবাজনা চলবে এবং গায়িকা নারীরা গীত পরিবেশন করবে। আল্লাহ তা‘আলা এদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দিবেন এবং তাদের কতককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করবেন।
সূত্র: সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস: ৬৭৫৮ সুনানে বায়হাকী খ. ১০ পৃ. ২২১ সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪০২০

৬. নবীজি সা. বলেন,

عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَيَكُوْنَنَّ فِـيْ هذِهِ الأُمَّةِ خَسْفٌ وَقَذْفٌ وَمَسْخٌ وَذلِكَ إِذَا شَرِبُوا الْـخُمُوْرَ وَاتَّـخَذُوا الْقَيْنَاتِ وَضَرَبُوا بِالْمَعَازِفِ

অর্থ; হযরত আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অবশ্যই আমার উম্মতের মাঝে (কিছু লোককে) মাটি ধসিয়ে, পাথর বর্ষণ করে এবং আকার বিকৃত করে (ধ্বংস করা) হবে। আর এ শাস্তি তখন আসবে, যখন তারা মদ পান করবে, নর্তকী রাখবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে।
সূত্র:

৭. হাদিস শরীফে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بن عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَمَنُ الْخَمْرِ حَرَامٌ وَمَهْرُ الْبَغِيِّ حَرَامٌ وَثَمَنُ الْكَلْبِ حَرَامٌ وَالْكُوبَةُ حَرَامٌ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মদের মূল্য হারাম, ব্যভিচারের উপার্জন হারাম, কুকুরের মূল্য হারাম, তবলা হারাম।
সূত্র: তাবরানী হাদিস: ১২৪৩৫

৮. হাদিস শরীফে এসেছে,

عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا تَصْحَبُ الْمَلَائِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا جَرَسٌ

উম্মে হাবীবাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফিরিশতা সেই কাফেলার সঙ্গী হন না; যে কাফেলায় ঘন্টার শব্দ থাকে।
সূত্র: মুসনাদে আহমাদ: ২৬৭৭১

৯. হাদিস শরীফে এসেছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ الْجَرَسُ مَزَامِيرُ الشَّيْطَانِ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঘন্টা বা ঘুঙুর হল শয়তানের বাঁশি।
সূত্র: সহিহ মুসলিম হাদিস: ২১১৪, আবূ দাঊদ ২৫৫৬, আহমাদ ২/৩৬৬, ৩৭২, বাইহাকী ৫/২৫৩)

১০. হাদিস শরীফে এসেছে,

وعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَوْتَانِ مَلْعُونَانِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ : مِزْمَارٌ عِنْدَ نِعْمَةٍ وَرَنَّةٌ عِنْدَ مُصِيبَةٍ

আনাস বিন মালেক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইহ-পরকালে দুটি শব্দ-ধ্বনি অভিশপ্ত; সুখ ও খুশীর সময় বাঁশীর শব্দ এবং মসীবত, শোক ও কষ্টের সময় হা-হুতাশ ধ্বনি।
সূত্র: মুসনাদে বাযযার, হাদিস: ৭৫১৩,

সুতরাং instrument তথা বাজনা ব্যবহার করে তাল ঠিক রেখে এডিট করা বা গানের মধ্যে এড করে দেওয়া হারাম হওয়ার বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

সাহাবায়ে কেরামের রা. অভিমত:

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: الدُّفُّ حَرَامٌ وَالْمَعَازِفُ حَرَامٌ وَالْكُوبَةُ حَرَامٌ وَالْمِزْمَارُ حَرَامٌ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ঢোলক হারাম, বাদ্যযন্ত্র হারাম, তবলা হারাম এবং বাঁশীও হারাম।
বাইহাকী ২০৭৮৯)

তাবেয়ীদের অভিমত:

১. হযরত হাসান বসরীর রহ. অভিমত:

عَنِ الْحَسَنِ قَالَ : لَيْسَ الدُّفُوْفُ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِيْنَ فِيْ شَيْءٍ وَأَصْحَابُ عَبْدِ اللهِ كَانُوا يُشَقِّقُوْنَهَا

হাসান বাসরী (রঃ) বলেন, ঢোলক মুসলিমদের ব্যবহার্য নয়। আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদের সহচরগণ ঢোলক দেখলে ভেঙ্গে ফেলতেন।

২. বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রহ. এর অভিমত:

عَنْ نَافِعٍ، قَالَ: سَمِعَ ابْنُ عُمَرَ، مِزْمَارًا قَالَ: فَوَضَعَ إِصْبَعَيْهِ عَلَى أُذُنَيْهِ، وَنَأَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَقَالَ لِي: يَا نَافِعُ هَلْ تَسْمَعُ شَيْئًا؟ قَالَ: فَقُلْتُ: لَا، قَالَ: فَرَفَعَ إِصْبَعَيْهِ مِنْ أُذُنَيْهِ، وَقَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعَ مِثْلَ هَذَا فَصَنَعَ مِثْلَ هَذَا

অর্থ: একদা হযরত ইবনু উমার রা. বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শুনতে পেয়ে উভয় কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে রাস্তা থেকে সরে গিয়ে আমাকে বললেন, হে নাফি‘! তুমি কি কিছু শুনতে পাচ্ছো? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি কান থেকে হাত তুলে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি এ ধরণের শব্দ শুনে এরূপ করেছিলেন।
সূত্র. মুসনাদে আহমদ হাদীস: ৪৫৩৫ সুনানে আবু দাউদ: ৪৯২৪ সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৯০১

সকল উম্মতের ইজমা:

আরবের সালাফীদের প্রশিদ্ধ আলেম শায়খ বিন বায রহ. বলেন,

إن الغناء إذا انضم إليه آلات المعازف، كالطبل والمزمار والعود وأشباه ذلك، حرم بالإجماع

অর্থাৎ বাদ্যযন্ত্র যেমন তবলা, বাঁশি, গিটার আরও যা আছে এগুলো যেকোনো গানের সাথে যদি
সংমিশ্রণ ঘটে, তাহলে সকল উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্তানুযায়ী এটা হারাম।
সূত্র: মাজমুউ ফাতাওয়া (বিন বায) খ. ৩ পৃ. ৩৯৩

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন,

مذهب الأئمة الأربعة أن آلات اللهو كلها حرام

অর্থাৎ চার মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো সব ধরণের বাজনা হারাম।।
সূত্র: মাজমুউ ফাতাওয়া (ইবনে তাইমিয়া) খ. পৃ.৭ ২৬৫

এ ছাড়াও ইমাম কুরতুবী রহ. তাঁর কিতাবুয যাওয়াযের এর ভেতর এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে লিখেছেন।

সুপ্রিয় পাঠক! এমন প্রমাণ যদি দিতে থাকি, তাহলে ভুরিভুরি প্রমাণ দেয়া যাবে কোরআন-হাদিস, তাবেয়ীদের আছার থেকে এবং ইমামদের মতামত থেকে। সুতরাং এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, ইসলামী শরীয়াতে বাজনাসমেত যেকোনো গান পরিস্কার হারাম করা হয়েছে।

উপরস্তু ইসলামী নাশিদের সাথে বাজনা সংযোজনা করা তো ডাবল কবীরা গুনাহ। কারণ এক তো বাজনার কবীরা গুনাহ, পাশাপাশি ভালোরকম সাথে খারাপের মিশ্রন। মহান রব বলেন-

وَلَا تَلۡبِسُوا۟ ٱلۡحَقَّ بِٱلۡبَاطِلِ

অর্থাৎ তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করে দিও না।
সুরা বাকারা আয়াত: ৪২

সুতরাং সাধারণ গানের সাথে instrument বা বাজনা ব্যবহার করার দ্বারা যতবড় গুনাহ হবে, তারচে বড় গুনাহ হবে ইসলামী নাশিদের সাথে বাজনা-মিউজিক ব্যবহার করলে।

সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, ইসলামী শরীয়তে বাজনাসমেত যেকোনো গান হারাম, হারাম এবং হারাম। সুতরাং শয়তানের এ যন্ত্র ইসলাম প্রিয় ধার্মিক মুসলমানদের মধ্যে যারা ইসলামী সংগীতের মাঝে সংযোজন করে পাবলিশ করছে, তারাও মুসলমানের বেশ ধরে শয়তানের দায়ীত্ব পালন করছেন বলে আমি মনে করি। এ ধরণের কাজের সাথে যে বা যারাই জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে জনসম্মুখে জবাবদিহি করার জন্য বাধ্য করা উচিৎ। আল্লাহ তা’আলা এ জঘন্যতম ভাইরাস থেকে মুসলিম উম্মাহকে হিফাযত করুন। আমীন!

Check Also

সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি ও ইসলাম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহহ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম নাহমাদুহু ওয়া নুসল্লি আলা রাসুলিহিল কারীম। সম্মানিত সভাপতি, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.