বমি হলে রোযা নষ্ট হবে কি না?

বমি হলে রোযা নষ্ট হবে কি না?

রোযা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত ভাবে যদি বমি হয়ে যায়,তাহলে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। তবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে করে,তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। হাদিস শরীফে এসেছে,
عن أبي هريرة قال قال النبي صلي الله عليه وسلم مَن ذرعَه القيءُ فلا قضاءَ عليه، ومَن استقاءَ فعليه القضاءُ
অর্থাৎ যে ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃত ভাবে বমি এসে যায়, তাকে উক্ত রোযা কাযা করতে হবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করল, তাকে সে রোযা কাযা করতে হবে।
সূত্র: আবু দাউদ হাদিস-২৩৮০ তিরমিযি-৭২০ ইবনে মাজা-১৬৭৬ মাজমুউল ফাতাওয়া (বিন বায) খ:১৫ পৃ:২৬৫ (হাদিস সহীহ)

উপরন্তু হাদিস শরীফে এসেছে,
عن أبي سعيد الخدري قال قال النبي صلي الله عليه وسلم ثلاثٌ لا يُفطرْنَ الصائمَ الحجامةُ والقيءُ والاحتلامُ
অর্থাৎ হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা: বলেন, নবিজি স: বলেছেন, তিনটি বস্তুর কারণে রোযা পালনকারীর রোযা ভঙ্গ হবে না। (১) শিঙা লাগালে (২) (অনিচ্ছাকৃতভাবে) বমি হলে (৩) স্বপ্ন দোষ হলে।
সূত্র: তিরমিযি হাদিস-৭১৯ নাসবুর রায়াহ খ:২ পৃ:৪৪৬ দারেকুতনী খ:২ পৃ:১৮৩

সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোযা নষ্ট হবে এবং পরে কাযা করতে হবে।কিন্তু অনিচ্ছাকৃত বমি হলে রোযা ভাঙ্গবে না।

বাকি মুখে বমি চলে আসার পর  ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে রোযা ভেঙ্গে যাবে। যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।

সূত্র: আলবাহরুর রায়েক খ: ২ পৃ:২৭৪ আদ্দুররুল মুখতার খ:২ পৃ:৪১৫

উত্তর প্রদানে-

মুফতী রিজওয়ান রফিকী

পরিচালক- মাদরাসা মারকাযুন নূর বোর্ডবাজার,গাজীপুর।

Check Also

ইমাম সাহেবের হুজরায় যেতে পারবে কি না?

إن خرج من غير عذر ساعة فسد اعتكافه অর্থাৎ কোনো প্রয়োজন ছাড়া যদি ইতিকাফকারী ব্যক্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.