নবি স. আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পূর্ণ করতে পারেননি।

প্রিয় পাঠক! সকল মুসলিম এ ব্যাপারে একমত যে আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ সা. আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পরিপূর্ণ করে গেছেন এবং এ ব্যাপারে কুরআন-হাদিসে অসংখ্য প্রমাণাদি রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানের কুফরী সংগঠণ হেযবুত তওহীদ একটি জঘন্য দাবি করে বসলেন যে, নবি স: আল্লাহ কর্তৃক দেয়া দায়ীত্ব পূর্ণ করে যেতে পারেননি। নাউযুবিল্লাহ। বিষয়টি তারা তাদের বইগুলোর ভেতর অসংখ্য জায়গায় লিখেছেন।

হেযবুত তওহীদের দাবি:

ক. নবীজি সা. এর দায়িত্ব পুরো মানবজাতি।

“তাঁর আল্লাহ প্রদত্ত উপাধিটি কি লক্ষ্য করুন- রাহমাতাল্লিল আলামিন, সমস্ত বিশ্বজাহানের জন্য রহমত স্বরূপ। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বিশ্বের সমস্ত মানুষকে সুখ শান্তিময়,শোষণ-অবিচারহীন একটি জীবন উপহার দেওয়ায়ই তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য।”
সূত্র: প্রিয় দেশবাসী পৃষ্ঠা-৫৪

“পূর্ববর্তীদের (নবীদের) দায়িত্ব ছিল তাদের যার যার সমাজ, গোত্র, জাতির মধ্যে সীমিত, আর এই শেষ নবীর দায়িত্ব হলো সমস্ত পৃথিবীর।”
সূত্র: ইসলামের প্রকৃত সালাহ পৃষ্ঠা-১০।

‘’পৃথিবীতে, মানবজাতির মধ্যে আল্লাহর রাসূলকে প্রেরণের উদ্দেশ্য একটি নয়, দুইটি। একটি রসুলের মাধ্যমে হেদায়াহ পথপ্রদর্শনসহ দীন পাঠানো, দ্বিতীয়টি সেই হেদায়াহ ও দীনকে সমগ্র মানব জীবনে প্রতিষ্ঠা করা।’’
সূত্র: সলামের প্রকৃত রুপরেখা-৪৬

খ. নবীজির সা. দায়িত্ব পূর্ণ করা অসম্ভব।

“এই বিশাল দায়িত্ব যে এক জীবনে পালন করার প্রশ্নই আসে না তা তিনি এ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তিনিও জানেন, আর যার উপর অর্পণ করেছেন তিনিও জানেন।”
সূত্র: শ্রেণীহীন সমাজ সাম্যবাদ প্রকৃত ইসলাম পৃষ্ঠা-১৩৩

“এই বিশাল দায়িত্ব সমস্ত পৃথিবীময় এই শেষ জীবন বিধান প্রতিষ্ঠিা করা এক জীবনে অসম্ভব। বিশ্বনবী তার নবী জীবনের তেইশ বছরে সমস্ত আরব উপদ্বীপে এই শেষ জীবন বিধান প্রতিষ্ঠিা করলেন- ইসলামের শেষ সংস্করণ মানব জীবনের একটি অংশে প্রতিষ্ঠিা হলো। কিন্তু তার উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পূর্ণ না, তার দায়িত্ব সমস্ত পৃথিবী সম্পুর্ণ মানব জাতি। এর আগে কোন নবীর উপর সম্পুর্ণ মানব্জাতির দায়িত্ব অর্পিত হয়নি। যতদিন সম্পূর্ণ মানব জাতির উপর এই শেষ জীবন বিধান জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা না হবে ততদিন মানুষ জাতি আজকের মতোই অশান্তি, যুদ্ধবিগ্রহ, অবিচারের মধ্যে ডুবে থাকবে- শান্তি,ইসলাম আসবে না এবং বিশ্বনবীর উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্বও পূর্ণ হবে না।”
সূত্র: শ্রেণীহীন সমাজ সাম্যবাদ প্রকৃত ইসলাম পৃষ্ঠা-১১৫

গ. নবীজি সা. দায়িত্ব পূর্ণ করতে পারেননি।

 “যখন আল্লাহ রাসুল (দঃ) এই দুনিয়া থেকে চোলে গেলেন তখন ওই দায়িত্ব স্বভাবতঃই এসে পোড়লো তাঁর গঠন করা জাতিটির ওপর অর্থাৎ উম্মতে মোহাম্মদীর ওপর, কারণ রসূলের ওপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব তখনও পূর্ণ হয়নি। শুধু আরব দেশটাকে আল্লাহর আইনের শাসনের মধ্যে আনা হোয়েছে। বাকি পৃথিবী মানুষের তৈরি আইনের অধীনে চলছে।”
সূত্র: এসলাম শুধু নাম থাকবে পৃষ্ঠা-১০৪-১০৫

“বিশ্বনবীর উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্বকে যারা মাঝপথে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, তারা আল্লাহর দেওয়া বিশ্বনবীর উপাধি, ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ কেও পূর্ণ হতে দেননি।”
সূত্র: আকিদা পৃ:১৯।

ঘ. নবিজি তাঁর অসমাপ্ত দায়ীত্ব পুর্ণ করার দায়ীত্ব দিলেন সাহাবাদের:

“আল্লাহর রাসূল আংশিকভাবে তার দায়িত্বপূর্ণ করে চলে গেলেন এবং তার বাকি কাজ পূর্ণ করার ভার দিয়ে গেলেন তাঁর সৃষ্ট জাতির উপর, তার উম্মাহর উপর।”
সূত্র: শ্রেণীহীন সমাজ সাম্যবাদ প্রকৃত ইসলাম পৃষ্ঠা-১১৫

“(মোহাম্মদ স:) তাঁর সৃষ্ট জাতিকে গভীরভাবে উপলব্ধি কোরিয়া গেলেন যে তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার দায়িত্ব তাঁর (দ:) পরে তাদের ওপর সম্পূর্ণভাবে অর্পিত হবে।”
সূত্র: শ্রেণীহীন সমাজ সাম্যবাদ প্রকৃত ইসলাম পৃষ্ঠা-১৪৮

“যতদিন ওই দায়িত্বপূর্ণ করা না হবে ততদিন তার উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব অপূর্ণ, অসমাপ্ত থেকে যাবে। তাই তিনি এমন একটি জাতি সৃষ্টি করলেন পৃথিবী থেকে তাঁর চলে যাওয়ার পরও সে জাতি তার উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পূর্ণ করার জন্য তাঁরই মত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এই জাতি হলো তাঁর উম্মাহ, উম্মতে মুহাম্মাদী -মোহাম্মাদের জাতি।”
সূত্র: আকিদা পৃষ্ঠা-১২ এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব পৃ:৭৫

ঙ. নবিজির অসমাপ্ত কাজ করার জন্য সাহাবারা মেহনত করেছেন:

“এই শেষজনের দায়িত্ব হলো এত বিরাট যে এক জিবনে তা পূর্ণ করে যাওয়া অসম্ভব। অথচ যতদিন ওই দায়িত্বপূর্ণ করা না হবে ততদিন তার উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব অপূর্ণ, অসমাপ্ত থেকে যাবে। তাই তিনি এমন একটি জাতি সৃষ্টি করলেন পৃথিবী থেকে তাঁর চলে যাওয়ার পরও সে জাতি তার উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পূর্ণ করার জন্য তাঁরই মত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এই জাতি হলো তাঁর উম্মাহ, উম্মতে মুহাম্মাদী -মোহাম্মাদের জাতি।”
সূত্র: আকিদা পৃষ্ঠা-১২ এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব পৃ:৭৫

“তাঁদের প্রাণপ্রিয় নেতার অসমাপ্ত কাজ পূর্ণ করতে দেশ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েছিলেন।”
সূত্র: বিকৃত সুফিবাদ-১০

“ঐ উম্মাহ বিশ্বনবীর (দ:) ওফাতের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পার্থিব সবকিছু কোরবান করে তাঁদের নেতার উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পূর্ণ কোরতে আবু বকরের রা: হুকুমে তাঁদের দেশ থেকে বের হোয়ে পড়েছিলেন।”
সূত্র: এসলাম শুধু নাম থাকবে পৃষ্ঠা-২৬

চ. সাবাহারাও পূর্ণ করতে ব্যার্থ হয়েছিলেন।

“অর্ধেক পৃথিবীতে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার পরপরই ঐ জাতি করলো সর্বনাশা কাজ। হঠাৎ তারা ভুলে গেল তাদের উপর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের (দ:) অর্পিত দায়িত্ব। তারা সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠার জেহাদ ত্যাগ করল যে কাজ করার জন্য এই জাতিটিকে সৃষ্টি করা হয়েছিল।”
সূত্র: এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব পৃ:৭৯

“রাসুল চলে যাওয়ার পরে জাতির খলিফাগণ এ উম্মাহর হাল ধরলেন তখন তারাই হলেন জাতির এমাম। এই খেলাফতের ধারাবাহিকতার সূত্র কখনো ছিন্ন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাই হলো। ৩০ বছরের মধ্যে জাতির আকীদায় বিকৃতি প্রবেশ করায় ইসলামের প্রকৃত খেলাফত লুপ্ত হয়ে গেল। জন্ম হল রাজতন্ত্রের। এ জাতির নেতারা সাম্রাজ্য বিস্তার ও পাশবিক ভোগবিলাসে লিপ্ত হয়ে জাহিলিয়াতে রাজা-বাদশাদের মতো জীবন যাপন করতে লাগল। সেই থেকে গত ১৩০০ বছরে জাতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বহীন।”
সূত্র: এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব পৃ:৩৮

“শেষ নবীর সমগ্র মানব জাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন অর্থাৎ তার নবুয়াত সমস্ত পৃথিবী পরিব্যপ্ত। তার উম্মাহর ব্যর্থতার জন্য তাঁর নবুওয়াত সমস্ত মানবজাতিকে এর অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। যদিও সেটাই ছিলো উম্মতে মোহাম্মদীর উপর অর্পিত সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ দায়িত্ব।”
সূত্র: শোষণের হাতিয়ার পৃ:৫৮

ইসলাম কি বলে?

প্রিয় পাঠক! উপরোল্লিখিত কথাগুলো দিয়ে হেযবুত তওহীদ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে নবি সা. এর উপর দেয়া দ্বীনের দায়ীত্ব নবি সা. পরিপূর্ণভাবে আদায় করতে পারেননি। সাহাবায়ে কেরামও পরবর্তিতে নবীজির সা. দায়িত্ব পূর্ণ করতে পারেননি। অথচ এ ব্যাপারে সমস্ত মুসলিম একমত যে, নবিজি স: তাঁর উপর অর্পিত দায়ীত্ব পূর্নাঙ্গরুপে আদায় করে গেছেন।

নবী সা. কে যে দ্বীন দুনিয়াতে প্রচারের দায়ীত্ব দিয়ে আল্লাহ তা’য়ালা দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন, সে দায়ীত্ব নবি সা. আদায় করতে গিয়ে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছিলেন বটে, কিন্তু তিনি দ্বীন প্রচারের কাজ বন্ধ করে দেননি, বরং ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত এ দ্বীনের ফিকির এবং প্রচারের কাজেই ব্যস্ত ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সে দায়ীত্ব আদায় করেই ইহধাম ত্যাগ করেন।

প্রমাণ হলো বিদায় হজ্বের ভাষণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, আমি আমার দায়িত্ব কি পরিপূর্ণ ভাবে তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি? প্রতিউত্তরে সাহাবায়ে কেরাম বললেন-

قالوا نشهدُ أنَّكَ قد بلَّغتَ وأدَّيتَ ونصحْتَ ثمَّ قالَ بأُصبعِهِ السَّبَّابةِ يرفعُها إلى السَّماءِ وينكبُها إلى النَّاسِ اللَّهمَّ اشهدْ اللَّهمَّ اشهدْ اللَّهمَّ اشهدْ

অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম বললেন অামরা সাক্ষী দিচ্ছি আপনি অবশ্যই আপনার দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং আদায় করেছেন এবং উপদেশ দিয়েছেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তার শাহাদাত আঙ্গুল উঁচিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করে বললেন যে, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো। তুমি সাক্ষী থাকো। তুমি সাক্ষী থাকো।
সূত্রঃ সহিহ মুসলিম হাদিস-১২১৮ আবু দাউদ হাদিস-১৯০৫ ইবনে মাযাহ হাদিস-৩০৭৪ নাসাঈ হাদিস-৬৫৬

আর সে সময়েই আল্লাহ তা’য়ালা সার্টিফিকেট দান করলেন-

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।
সুরা মায়িদা অায়াত-৩

পন্নী সাহেব এত সুস্পষ্ট আয়াত এবং সহিহ হাদিসকে অস্বীকার করলেন কিভাবে? যেখানে সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম সাক্ষী দিলেন, নবি সঃ আল্লাহকে তিনবার সাক্ষী রাখলেন, এমনকি মহান আল্লাহ তা’য়ালাও সার্টিফিকেট দান করলেন যে, নবি স. আল্লাহর দেয়া দায়ীত্ব পূর্ণ করেছেন। অথচ পন্নী সাহেব বললেন যে দ্বীনের কাজকে বন্ধ করে দেয়ায় নবি সা. তার দায়ীত্ব পরিপূর্ণ করতে পারেননি।

সুৎরাং এমন সুস্পষ্ট আয়াত এবং সহিহ হাদিস থাকার পরও কোন মুসলামদের যদি দাবী করে যে, নবি সা. তাঁর দেয়া দায়ীত্ব আদায়ে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি,তাকে কিভাবে ইসলামের বন্ধু মনে করা যায় সেটা আমার বোধগম্য নয়।

অভিযোগ: ১

মূলত হেযবুত তওহীদের ‘নবি স.দায়ীত্ব পূর্ণ করতে পারেননি’ বলে যে দাবী করেছেন, সেটার স্বপক্ষে তারা নিন্মের আয়াতটি দলীল হিসাবে পেশ করে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন,

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا

অর্থাৎ তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
সূরা ফাতাহ আয়াত: ২৮

উক্ত আয়াতকে সামনে রেখে তারা লিখেছেন,

“আল্লাহ তাঁর শেষ রসুলকে পাঠালেন এই দায়িত্ব দিয়ে যে, তিনি যেন আল্লাহর দেয়া হেদায়াহ ও সত্যদিন পৃথাবীর অন্য সব দীনের ওপর প্রতিষ্ঠা করেন, এবং নিজে এই কথার সাক্ষী রইলেন। (সুরা ফাতহ ২৮)। এই হেদায়াতই হলো তএহীদ, আল্লাহর সার্বভৌমত্ব,সেরাতুল মোস্তাকিম; এবং সত্যদীন হলো ঐ তওহীদের উপর ভিত্তি করা জীবন-ব্যবস্থা, শরিয়াহ,দীনুল ইসলাম, দীনুল কায়্যেমাহ।”
সূত্র: ইসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ: ৩১-৩২/৬২

অর্থাৎ উক্ত আয়াত দ্বারা তারা বুঝাতে চায় যে, আল্লাহ তা’য়ালা উক্ত আয়াতে নবীজি সা. কে পুরো বিশ্বের সকল ধর্মের উপর ইসলামকে বিজয়ী করার দায়িত্ব প্রদান করেছেন।

জবাব: ১

উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা নবীজির সা. দায়ীত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন যে,

ليعلي الإسلام على الملل كلها

অর্থ: তিনি যেন এ দ্বীন ইসলামকে অন্য সমস্ত দ্বীন তথা সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করেন।
সূত্র: তাফসীরে তাবারী খ: ১৪ পৃ: ২১৪

অর্থাৎ উক্ত আয়াতে নবীজি সা. এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একটি, সেটা হলো, অন্যান্য সমস্ত ধর্মের উপর ইসলামকে বিজয়ী করা। সেটা পুরো বিশ্বে নাকি শুধু আরব উপদ্বীপে সেটা কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বলেননি। কিন্তু হেযবুত তওহীদ এখানে আয়াতের অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে বলে দিলেন, নবীজির দায়িত্ব দুটি,

“পৃথিবীতে মানবজাতির মধ্যে আল্লাহর রাসূলকে প্রেরণের উদ্দেশ্যে একটি নয়, দুইটি। একটি রসুলের মাধ্যমে হেদায়াহ, পথ-প্রদর্শনসহ দীন পাঠানো, দ্বিতীয়টি সেই হেদায়াহ ও দীনকে সমগ্র মানব জীবনে প্রতিষ্ঠা করা।
সূত্র: এসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃষ্ঠা-৪

এখানে দ্বিতীয় যে, দ্বায়িত্বের কথা হেযবুত তওহীদ দাবি করছেন যে, “সমস্ত পৃথিবীর মানবজিবনে সে সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা নবীজির সা. দায়িত্ব ছিল” এটা কোন আয়াতে বলা হয়েছে? সুরা ফাতহের ২৮ নং আয়াতে তো বলা হলো, সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করা, পুরো দুনিয়াময় বিজয়ী করার কথা তো উক্ত আয়াতে নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি আয়াতটির অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে বলে দিলেন যে, যেহেতু নবি সা. পুরো পৃথিবীতে দ্বীন কায়েম করে যেতে পারেননি, সুতরাং নবি সা. আল্লাহ কর্তৃক দায়ীত্ব পূর্ণ করতে পারেননি। অথচ পুরো পৃথিবীতে দ্বীন প্রতিষ্ঠা নবি সা. এর দায়ীত্ব ছিলো না। দায়ীত্ব ছিলো শুধু সব ধর্মের উপর ইসলামকে বিজয়ী করা।

. উপরন্তু একজন মানুষের পক্ষে পুরো পৃথিবীময় ইসলাম বিজয় করা কি সম্ভব? এটার উত্তর সরাসরি হেযবুত তওহীদ থেকে নেয়া যাক। তারা লিখেছেন,

‘এই শেষ জনের (মুহাম্মাদ স.) দায়িত্ব হলো এত বিরাট যে এক জিবনে তা পূর্ণ করে যাওয়া অসম্ভব।অথচ যতদিন ঐ দায়িত্ব পূর্ণ করা না হবে ততদিন তাঁর উপর আল্লাহর দেয়া দায়ীত্ব অপূর্ণ-অসমাপ্ত থেকে যাবে।
সূত্র: আকিদা পৃ:১২

তাহলে হেযবুত তওহীদের কথায় বুঝা গেল, পুরো বিশ্বময় ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার যে দায়িত্বের কথা হেযবুত তওহীদই দাবি করছেন, সে দায়িত্ব নবীজির সা. একজিবনে পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তার অর্থ দাঁড়ালো, আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর রাসুলের উপর সাধ্যের বাহিরে দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছিলেন, অথচ আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

 لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا

অর্থ: আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না।
সুরাঃ বাকারা আয়াত: ২৮৬

তাহলে হেযবুত তওহীদের উক্ত দাবি কি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের উপর সরাসরি অপবাদ নয়?কত্তবড় দুঃসাহস হলে এত বড় জালিয়াতী সম্ভব? এতবড় জালিয়াতীর পেছনে মূল কারণ হলো, পন্নী সাহেবের আরবী সম্পর্কে চরম মুর্খতা। কারণ পন্নী সাহেব ছিলেন আরবীতে নিরক্ষর। তিনি নিজেই লিখেছেন,

‘আমি বাংলা জানি,যেটুকু জানা দরকার মানুষের,ইংলিশ জানি, যতটুকু মানুষের জানা দরকার,আমি আরবী জানি না,আরবীতে আমি নিরক্ষর। ঠিক আক্ষরিকভাবে নয়,কিন্তু আমি আরবী জানি না। আর যে এসলাম নিয়ে কথা সেই এসলাম রোয়েছে কোর’আন-হাদীসে আর সেটার ভাষা আরবী।ওখানে আমি বাস্তবিক অর্থে নিরক্ষর।’’
সূত্র: আল্লাহর মো’জেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা পৃ: ৫৫

তাহলে একজন আরবী সম্পর্কে নিরক্ষর ব্যক্তি ইসলামের ঠিক-বেঠিক যাচাই করেন কিভাবে? কিভাবে তিনি মুসলিমদের নেতা হন?

নবিজির সা. উপর অর্পিত দায়ীত্ব পূর্ণ হয়েছিল?

নবি কারিম সা. তাঁর উপর আল্লাহ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পূর্ণ করেছিলেন, যা মক্কা বিজয়ের দিন স্পষ্ট হয়েছিল। কারণ সেদিন সমস্ত ধর্মের পরাজয় হয়ে নবিজি সা. এর ধর্ম ইসলামেরই বিজয় হয়েছিল। সমস্ত কুফফার সেদিন নবিজি সা. এর কাছে পরাজয় স্বীকার করেছিলেন। আর এ কথাটিই তাফসীরে রাযীতে এসেছে,

المُرادُ لِيُظْهِرَ الإسْلامَ عَلى الدِّينِ كُلِّهِ في جَزِيرَةِ العَرَبِ وقَدْ حَصَلَ ذَلِكَ فَإنَّهُ تَعالى ما أبْقى فِيها أحَدًا مِنَ الكُفّارِ

অর্থাৎ ইসলামকে বিজয়ী করার অর্থ হলো জাযিরাতুল আরবের সমস্ত ধর্মের উপর ইসলামকে বিজিত করা। আর এ বিজয় অর্জন হয়েই গেছে।কারণ আল্লাহ তা’য়ালা সেখানে কোন কাফেরকে আর অবশিষ্ট রাখেননি।
সূত্র: তাফসীরে রাযী খ: ১৬ পৃ: ৪২

আর সে জন্যই আল্লাহ তা’য়ালা সার্টিফিকেট দান করলেন-

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।
সুরাঃ মায়িদা আয়াত: ৩

জাযিরাতুল আরবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা:

নবীজি সা. এর উপর অর্পিত দায়িত্ব পরিপূর্ণ করে জাযিরাতুল আরবে সমস্ত ধর্মের উপর ইসলামকে বিজয় করেছিলেন। আর এ স্বীকারোক্তি হেযবুত তওহীদ নিজেরাও করেছে। তারা লিখেছে,

“রাসূলুল্লাহ তার জীবদ্দশায় ঐ জাতিকে সঙ্গে নিয়ে জেহাদ ( সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, সংগ্রাম) চালিয়ে গেলেন এবং সমগ্র আরব উপদ্বীপ আল্লাহর দেওয়া জীবন ব্যবস্থার অধীনে এল।”
সূত্র: প্রিয় দেশবাসী পৃষ্ঠা-৭৫

“বাস্তবে আল্লাহ রাসুল এমন শান্তি এমন নিরাপত্তা ন্যায়,ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গেলেন। তৎকালীন পৃথিবীর সবচাইতে বিশৃঙ্খল,ঐক্যহীন, আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত সেই আরব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করলেন।শত্রুকে ভাই বানিয়ে দিলেন।”
সূত্র: সূত্রাপুরে এমামের ভাষণ পৃ: ৭

সুতরাং পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে মহান রব যে দায়িত্ব নবীজি সা. কে দিয়েছিলেন, সেটা নবীজি পূর্ণ করে গেছেন, যা আমরা উপরোল্লিখিত আয়াত ও হাদিস দ্বারা প্রমাণ করলাম, কিন্তু পন্নী সাহেব এটা বুঝতে সক্ষম হননি, কারণ তিনি আরবীতে নিরক্ষর ছিলেন। আরবিতে নিরক্ষর কোন মানুষ যিনি কুরআন-হাদিস না বুঝে বিশ্বনবি সা. সম্পর্কে এতবড় জঘন্য অপবাদ দিতে যিনি কুণ্ঠাবোধ করেননি, তাকে এমাম মেনে আমরা জাহান্নামি হচ্ছি না তো? একটু ভেবে দেখবো সবাই।

অভিযোগ: ২

“নবীজি সা. আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পালন করতে পারেননি” বলে যে দাবি হেযবুত তওহীদ করে থাকেন, এর স্বপক্ষে আরেকটি আয়াত দাঁড় করাতে চায়। সেটা হলো, মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন,

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلّهِ

অর্থ: আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুরাঃ বাকারা আয়াত: ১৯৩

উক্ত আয়াত থেকে তারা প্রমাণ পেশ করতে চায় যে, যেহেতু ফেৎনার অবসান করে দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত স্বশস্র সংগ্রাম করার দায়িত্ব আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর নবি মুহাম্মাদ সা. কে দিয়েছিলেন, কিন্তু নবীজি সা. বিশ্বময় ফেৎনার অবসান করার আগেই তিনি দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। সুতরাং নবীজি সা. আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পরিপূর্ণ করতে পারেননি।

জবাব:

আসলে এখানে বায়াজীদ খান পন্নী সাহেবের একটি চরম ভুল হয়েছে। তিনি আয়াতটির যথাযথ অর্থ করতে পারেননি এবং বোঝেনওনি। উক্ত আয়াতটির আসল অর্থ কি সেটা সরাসরি হাদিস শরীফ থেকেই দেখে নেয়া যাক।

عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَتَاهُ رَجُلَانِ فِيْ فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَقَالَا إِنَّ النَّاسَ صَنَعُوْا وَأَنْتَ ابْنُ عُمَرَ وَصَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَخْرُجَ فَقَالَ يَمْنَعُنِيْ أَنَّ اللهَ حَرَّمَ دَمَ أَخِيْ فَقَالَا أَلَمْ يَقُلْ اللهُ : (وَقٰتِلُوْهُمْ حَتّٰى لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ) : فَقَالَ قَاتَلْنَا حَتَّى لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ وَكَانَ الدِّيْنُ لِلهِ وَأَنْتُمْ تُرِيْدُوْنَ أَنْ تُقَاتِلُوْا حَتَّى تَكُوْنَ فِتْنَةٌ وَيَكُوْنَ الدِّيْنُ لِغَيْرِ اللهِ

অর্থ: হযরত ইবনু ‘উমার রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর কাছে দুই ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রের যুগে সৃষ্ট ফিতনার সময় আগমন করল এবং বলল, লোকেরা সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আর আপনি উমার রা. এর পুত্র এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী! কী কারণে আপনি বের হন না? তিনি উত্তর দিলেন আমাকে নিষেধ করেছে এই কথা, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আমার ভাইয়ের রক্ত হারাম করেছেন”।

তারা দু’জন বললেন, আল্লাহ কি এ কথা বলেননি যে, তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর যাবৎ না ফিতনার অবসান ঘটে। তখন ইবনু উমার রা. বললেন, ফিতনার অবসান ঘটার আগ পর্যন্ত আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এবং ফলে দ্বীনও আল্লাহর জন্য হয়ে গেছে। আর তোমরা ফিতনা প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করার ইচ্ছা করছ, আর যেন আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য দ্বীন হয়ে গেছে।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ৪৫১৩

প্রিয় পাঠক, এখানে আমি মূল যে বিষয়টি বুঝাতে চাচ্ছি, সেটা হলো, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সুরা বাকারার ১৯৩ নং আয়াতে দেয়া নবীজি সা. উপর আল্লাহ প্রদত্ব দায়িত্ব বাস্তবায়ণ করেছেন কি না, সেটা সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বললেন,

قَاتَلْنَا حَتَّى لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ وَكَانَ الدِّيْنُ لِلهِ

অর্থাৎ ফিতনার অবসান ঘটার আগ পর্যন্ত আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এবং ফলে দ্বীনও আল্লাহর জন্য হয়ে গেছে।

প্রিয় পাঠক, উক্ত হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, পুরো পৃথিবীতে সংগ্রাম করে দ্বীন বিজয় করার দায়িত্ব আল্লাহ তা’য়ালা নবীজি সা. কে দেননি, বরং যতটুকু দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তিনি সেটা সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে করে গেছেন। সুতরাং এখানে নবীজি সা. এর কোনো দায়িত্বে অপূর্ণতা ছিল না

 

 

 

 

Check Also

দিবস পালন

  ইসলামে দুই ঈদ ব্যাতিত কোনো দিবস পালন করা বৈধ নয়। কিন্তু এ মহাসত্যকে অস্বীকার …

9 comments

  1. মোহাম্মদ ত্বহা

    জনাব আপনি একজন সাহসী সৈনিক। আপনার সমস্ত প্রতিবাদ জেহাদের মর্যাদা পাবে। আমরাও এই জিহাদে অংশীদার হিসেবে আছি ইনশাআল্লা। ওদের নোংরা ভাষায় আপনি কষ্ট নিবেননা।

  2. আল্লাহ তায়ালা আপনার সার্বিক শক্তি এতো বেশি বৃদ্ধি করে দিক যাতে বাতিল পর্যুদস্ত হতে বাধ্য হয়।

  3. নুর নবী মনির আহমেদ

    যারা রাসূল সঃ কে নিয়ে এতো বাজে কথা বইতে লেখে ঐ পন্নি জালেম মুনাফেক ফেতনাবাজ কাফের,
    এই হিজবুত তাওহীদ কাফের এদের কে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়া হো,
    হিজবুত তাওহীদের ইমাম যাকে বলা হয় সেলিম ঐ জানোয়ার কে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক!

    জাজাকাল্লাহখাইরা,

  4. সালমান রাহমান

    মুহতারাম আপনার জন্য দোয়া ভালোবাসা অবিরাম। আপনি যেভাবে হিজবুয তাওহীদের ভ্রান্ত আকিদা মানুষের সামনে ব্যাক্তিগত ঝুকি নিয়ে তুলেধরছেন,তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। আল্লাহ আপনার হায়াত, ইজ্জত, মর্যাদা জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। আমিন

  5. MD NURALAM SIDDIK

    মাশাআল্লাহ

  6. Md Abu Bakkar Siddik

    এগিয়ে জান প্রিয় শায়েখ,,
    বাতিল ইনশাআল্লাহ পরাজিত হবেই,,
    দোয়া চাই দোয়া করি আল্লাহ যেন দ্বীনের উপরে কায়েম রাখে,,
    আমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published.