হালাল-হারামের মানদণ্ড কি শুধু কুরআন?

 

প্রিয় পাঠক! হেযবুত তওহীদের জঘন্য মতবাদের একটি হলো- কুরআন যা হালাল করে সেটাই হালাল,আর কুরআন যা হারাম করে সেটাই হারাম।

আমাদের জেনে রাখা দরকার উপরোল্লিখিত মতবাদটি ‘আহলে কোরআন’ নামক একটি কুফরী সংগঠণের। যাদের মূলনীতির ভেতর এ মতবাদটি সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে হেযবুত তওহীদ এ মতবাদটিও গ্রহণ করেছে তাদের নিতিমালায়।

হেযবুত তওহীদের দাবি:

এসলামের সরল নীতি হোল, বৈধ-অবৈধ নির্ধারণের বেলায় মানদন্ড হোচ্ছে আল্লাহর আদেশ এবং নিষেধ অর্থাৎ আল-কোরআন।’
আসুন সিস্টেমটাকেই পাল্টাই-১২

কোর’আনে যা আল্লাহ বৈধ কোরেছেন, তাই বৈধ,কোর’আনে যা অবৈধ কোরেছেন তাই অবৈধ।
সূত্র: এসলাম শুধু নাম থাকবে পৃ:১৩৪

কোর’আনে যা কিছু নিষিদ্ধ করা হোয়েছে সেগুলি ছাড়া আর সবই বৈধ।’
আসুন সিস্টেমটাকেই পাল্টাই-১২

ইসলামের দাবি:

প্রিয় পাঠক! হেযবুত তওহীদ উপরোক্ত কথাটি বলে মূলত ইসলামের অগণিত হারাম বিষয়কে হালাল করার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়েছেন। অথচ তাদের জানা উচিৎ পবিত্র কুরআন মানতে হলে অবশ্যই নবীজির সা. সমস্ত বিধিনিষেধ মানতে হবে। কারণ পবিত্র কুরআন শরিফে আল্লাহ তা’য়ালাকে মানার পাশাপাশি নবিজি সা. কেও মানার আদেশ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের আল্লামা ইউসুফ বান্নুরী রহ. পুরো কুরআন মাজিদকে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছেন এবং এ ব্যাপারে ১১০ টি আয়াত বের করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব আয়াতে কুরআনের পাশাপাশি রাসুল তথা রাসুলের হাদিসও মানার কথা বলা হয়েছে। কয়েকটি দলীল এখানে পেশ করছি-

১. আল্লাহ পাক বলেন-

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا ۚ وَاتَّقُوا اللَّه إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

অর্থ: রাসুল তোমাদেরকে যা দেন,তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন,তা থেকে বিরত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। সূরা হাশর আয়াত: ৭

প্রিয় পাঠক! এই আয়াতের শুরুতে ما একটি শব্দ রয়েছে। একে الما للموصولة বলে। যা আয়াতের ব্যাপক অর্থ বোঝানোর জন্য এসেছে। অর্থাৎ রাসুল যা দেন বা নিষেধ করেন তা সব মেনে চলো। কুরআন এবং হাদিস দু’টোই এখানে শামিল। কেননা এই ما দ্বারা ওহির কথা বলা হয়েছে। আর অহি দুই প্রকার।
১. ‘ওহিয়ে মাতলু’ অর্থাৎ যে ওহির শব্দ এবং অর্থ সবই আল্লাহর নির্ধারণকৃত। রাসুল সা. তা শুধু তিলাওয়াত করে শুনিয়ে দেন এবং বুঝিয়ে দেন। আর সেটা হলো কুরআন।

২. ওহিয়ে গাইরে মাতলু’। অর্থাৎ যে ওহির অর্থ ও মর্ম আল্লাহ পাক নির্ধারণ করে দেন। তবে রাসু্র স: এর জন্য শব্দ নির্ধারণের এখতিয়ার থাকে।আর সেটাই হলো ‘হাদিস’।

সুতরাং উল্লেখিত আয়াতে ما ব্যাপক অর্থে হওয়ায় উভয় ওহিই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কুরআনের পাশাপাশি হাদিসকেও মানতে হবে। এটা কুরআনেরই একটি হুকুম।

২. মহান রব বলেন-

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: হে নবী, বলে দিন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। যাতে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। সূরা আলে ইমরান: ৩১

উক্ত আয়াতে স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর ভালোবাসা পেতে নবীজি স: এর অনুস্বরণকে বাধ্যতামূলক করেছেন। তাহলে নবিজি স: এর আদেশ নিষেধ কি অমান্য করে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব? নিশ্চয় না।

৩. মহান রব বলেন-

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا

অর্থ: নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে রয়েছে উত্তম, অনুপম, আদর্শ। যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং অধিক পরিমাণ আল্লাহকে স্মরণ করে। সুরা আহযাব: ২১

নবিজি অনুসরনযোগ্য হওয়ার এরচে সুস্পষ্ট আয়াত আর কি হতে পারে?

৪. উপরন্তু নবজির স: কোন কথা যে তাঁর নিজের কথা নয়,বরং আল্লাহরই কথা, সেটাও পবিত্র কুরআনে এসেছে। মহান রব বলেন-

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى

অর্থ: তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোন কথা বলেন না, বরং তিনি তা’ই বলেন, যা আল্লাহ তা’আলা অহির মাধ্যমে জানাতে বলেন। সুরা নাজম আয়াত: ৩-৪

৫. অপর আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-

هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ

অর্থ: তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত। বস্তুত পূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। সুরা জুমুআ আয়াত: ২

এই আয়াতে যে হিকমাতের কথা বলা হয়েছে, তাফসিরে কুরতুবিতে এর ব্যাখ্যা করা হচ্ছে-

ويعلمهم الكتاب يعني القرآن والحكمة السنة

অর্থ: তিনি কিতাব শিক্ষা দেন মানে কুরআন শিক্ষা দেন। আর হিকমাত বলতে সুন্নাহ তথা হাদিস।’ তাফসিরে তাবারীতেও হিকমাতের অর্থ সুন্নাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো অন্যান্য তাফসিরের যেখানে হিকমাত এর তাফসির করা হয়েছে, সব জায়গায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এখানে হিকমাতের অর্থ সুন্নাহ তথা হাদিস।

উপরন্তু আয়াতের দিকে লক্ষ করে দেখুন, এখানে নবীজির চারটি দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। এক. উম্মাতকে কুরআন পড়ে শোনাবেন। দুই. তাদের আত্মশুদ্ধি করবেন। তিন. তাদেরকে কুরআন শেখাবেন এবং চার নাম্বারের নববী দায়িত্ব হল, তিনি উম্মতকে হাদিস শিক্ষা দেবেন। এই চার দায়িত্বের কথা কুরআনের আরো কয়েক স্থানে এসেছে। সুতরাং হাদিস অস্বীকার করার মানে হল, কুরআনে প্রদত্ব নবীর চার যিম্মাদারীর একটিকে অস্বীকার করা। যা স্পষ্টত কুরআনকে অস্বীকার করা।

৬. আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-

فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لاَ يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا

অর্থ: অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোকেরা ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজেদের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে। সুরা নিসা আয়াত: ৬৫

এই আয়াতে সুস্পষ্টভাবে নবিজি স: এর ফায়সালাকে মেনে নেয়াকে ঈমানদারের পরিচয় বলা হয়েছে।যারা নবিজি স: এর ফায়সালা মানবে না, তারা কাফের।

হাদিসের উৎস কি?

কুরআন এবং হাদিস উভয়টির মূল উত্স হল ওহী। মহান আল্লাহ তার প্রিয় রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মাধ্যমে অথবা ইলহাম এর মাধ্যমে দ্বীর্ঘ ২৩ বছর ধরে নাজিল করেছেন। তার মধ্যে তিনি নিজের কোন কথা সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারেন না। করেননি। যেমন মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন এরশাদ করেন-

وَلَوۡ تَقَوَّلَ عَلَيۡنَا بَعۡضَ ٱلۡأَقَاوِيلِ لَأَخَذۡنَا مِنۡهُ بِٱلۡيَمِينِ ثُمَّ لَقَطَعۡنَا مِنۡهُ ٱلۡوَتِينَ فَمَا مِنكُم مِّنۡ أَحَدٍ عَنۡهُ حَاجِزِينَ

অর্থঃ যদি নবী নিজে কোন কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিতেেন, তাহলে আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম। এবং ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম৷ তোমাদের কেউ-ই (আমাকে ) এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারতো না৷ সুরা হাক্ক আয়াত: ৪৪-৪৭

প্রিয় পাঠক! একবার ভেবে দেখুন। নবিজি দ্বীনের ব্যাপারে কি কোন কিছু নিজ থেকে বলেছেন? নিশ্চয় না। যদি বলতেন, তাহলে নবিজিকে সে ওয়াদাকৃত শাস্তি আল্লাহ দিতেন।যেহেতু শাস্তি তিনি দেননি,সেহেতু আমরা বিশ্বাসের সাথে বলতে পারি, নবিজি স: কোন কিছুই নিজ থেকে বলেননি। অতএব বোঝা গেল- হাদিসের যত কথা রয়েছে সব কথা আল্লাহ তা’য়ালারই কথা। সেটা অবশ্যই মানতে হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য করা ফরজ।

মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন এরশাদ করেনঃ

مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللّهَ وَمَن تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا

অর্থঃ যে ব্যক্তি রসূলের আনুগত্য করলো সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করলো৷ আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিলো, যাই হোক, তাদের ওপর তো আমি তোমাকে পাহারাদার বানিয়ে পাঠাইনি৷ সূরা নিসা আয়াত-৮০

মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন এরশাদ করেন:

وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

অর্থ: তোমরা যদি মু’মিন হয়ে থাক তবে তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর”।
সূরা আনফাল আয়াত-১

মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন এরশাদ করেনঃ

يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُ ۥ وَلَا تَوَلَّوۡاْ عَنۡهُ وَأَنتُمۡ تَسۡمَعُونَ

অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো এবং হুকুম শোনার পর তা অমান্য করো না৷ সুরা আনফাল আয়াত-২০

মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন এরশাদ করেন:

وَأَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَاحْذَرُواْ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُواْ أَنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلاَغُ الْمُبِينُ

অর্থঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কথা মেনে চলো এবং (নিষিদ্ধ কাজ থেকে ) বিরত থাকো৷ কিন্তু যদি তোমরা আদেশ অমান্য করো, তাহলে জেনে রাখো, আমার রসূলের প্রতি শুধুমাত্র সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ পৌঁছিয়ে দেবারই দায়িত্ব ছিল৷ সূরা মায়েদা আয়াত: ৯২

উপরন্তু পবিত্র হাদিস শরিফে নবিজি স: বলেন-

عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ

অর্থ: হযরত আল-মিকদাম ইবনু মা‘দীকারিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জেনে রাখো! আমাকে কিতাব এবং তার সঙ্গে অনুরূপ কিছু দেয়া হয়েছে। জেনে রাখো! এমন এক সময় আসবে যখন কোনো প্রাচুর্যবান লোক তার আসনে বসে বলবে, তোমরা শুধু এ কুরআনকেই গ্রহণ করো, তাতে যা হালাল পাবে তা হালাল এবং যা হারাম পাবে তা হারাম মেনে নিবে
সূত্র: আবু দাউদ হাদিস-৪৬০৪

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ، وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ – قَالَ مُحَمَّدٌ: وَالْوَاصِلَاتِ، وَقَالَ عُثْمَانُ: وَالْمُتَنَمِّصَاتِ ثُمَّ اتَّفَقَا – وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ، الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»، فَبَلَغَ ذَلِكَ امْرَأَةً مِنْ بَنِي أَسَدٍ يُقَالُ لَهَا: أُمُّ يَعْقُوبَ، – زَادَ عُثْمَانُ: كَانَتْ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ ثُمَّ اتَّفَقَا – فَأَتَتْهُ، فَقَالَتْ: بَلَغَنِي عَنْكَ أَنَّكَ لَعَنْتَ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ، – قَالَ مُحَمَّدٌ: وَالْوَاصِلَاتِ، وَقَالَ عُثْمَانُ: وَالْمُتَنَمِّصَاتِ، ثُمَّ اتَّفَقَا: – وَالْمُتَفَلِّجَاتِ، – قَالَ عُثْمَانُ: لِلْحُسْنِ، الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ تَعَالَى، فَقَالَ: وَمَا لِي لَا أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى؟ قَالَتْ: لَقَدْ قَرَأْتُ مَا بَيْنَ لَوْحَيِ الْمُصْحَفِ فَمَا وَجَدْتُهُ، فَقَالَ: وَاللَّهِ لَئِنْ كُنْتِ قَرَأْتِيهِ لَقَدْ وَجَدْتِيهِ، ثُمَّ قَرَأَ: (وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا) [الحشر: ٧]، قَالَتْ: إِنِّي أَرَى بَعْضَ هَذَا عَلَى امْرَأَتِكَ، قَالَ: فَادْخُلِي فَانْظُرِي، فَدَخَلَتْ، ثُمَّ خَرَجَتْ، فَقَالَ: مَا رَأَيْتِ؟ – وَقَالَ عُثْمَانُ: – فَقَالَتْ: مَا رَأَيْتُ، فَقَالَ: لَوْ كَانَ ذَلِكَ مَا كَانَتْ مَعَنَا

অর্থ: হহযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ লা‘নত করেছেন ঐ নারীদের যে নারী উল্কি আঁকে ও যার দেহে অঙ্কন করানো হয়। মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, ‘‘যারা কৃত্রিম চুল ব্যবহার করে।’’ উসমান (রহঃ) বলেন, ‘‘এবং যারা কপালের উপরের চুল উপকিয়ে কপাল প্রশস্ত করে।’’ অতঃপর তারা দু’জনেই একমত হয়ে বলেন, ‘‘এবং যারা সৌন্দর্য লাভের জন্য রেতি ইত্যাদি দ্বারা দাঁত ঘর্ষণ করে সরু করে দাঁতের মধ্যে ফাঁক সৃষ্টি করে, আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন করে এবং তাদের প্রতি লা‘নত।

তিনি বলেন, বনী আসাদের উম্মু ইয়াকূব নাম্নী এক মহিলা একথা শুনেন এবং ঐ মহিলা কুরআন পড়তেন।’ পরে উভয়ে একমত হয়ে বলেন, মহিলাটি তার নিকট এসে বলেন, শুনতে পেলাম আপনি না কি ঐ সব নারীদের অভিসাপ দিয়েছেন, যারা দেহে উল্কি লাগায়, কৃত্রিম চুল ব্যবহার করে, কপালের উপরের চুল উপকিয়ে কপাল প্রশস্ত করে এবং যারা রেতী ইত্যাদি দ্বারা দাঁত ঘষে সরু করে, (উসমান বলেন), যারা আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন করে।

আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের প্রতি অভিসাপ দিয়েছেন, আমি তাদের অভিসাপ দিবো না এ কেমন কথা? অথচ এ বিষয়টি মহান আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান। মহিলা বলেন, আমি তো এ কিতাবের আদ্যোপান্ত পড়েছি; কিন্তু এ কথা তো পাইনি। তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহর কসম! তুমি (ভালভাবে) পড়লে অবশ্যই তা পেয়ে যেতে।’’ অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا

অর্থ: ‘‘আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের বিরত রাখেন, তা থেকে বিরত থাকো। সূরা হাশর আয়াত: ৭

মহিলা বললেন, আমি আপনার স্ত্রীকে দেখেছি, তিনি এসবের কিছু কিছু করেন। তিনি বললেন, তাহলে তুমি ভেতরে গিয়ে দেখে আসো। অতঃপর তিনি ভেতরে ঢুকে বেরিয়ে এলেন। তিনি (আব্দুল্লাহ) বললেন, কি দেখলেন? উসমান বলেন, তিনি বেরিয়ে এসে বললেন, না এসব করতে দেখিনি। তিনি বললেন, এসব থাকলে সে আমার সাথে থাকতে পারতো না। সুনানে আবু দাউদ হাদিস: ৪১৬৯

প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত আলোচনা গুলোে পড়ার পর কোন মুসলমান কি বলতে পারেন একথা যে, হালাল-হারামের ব্যাপারে মানদন্ড শুধুমাত্র কুরআন?
কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে হেযবুত তওহীদ সে দাবি করে বসেছে। এরপরও কি তাদের মুসলিম বলার সুযোগ রয়েছে? চিন্তাশীল পাঠক মহল বিষয়টি একটু ভেবে দেখবেন বলে আশা করছি।

Check Also

দিবস পালন

  ইসলামে দুই ঈদ ব্যাতিত কোনো দিবস পালন করা বৈধ নয়। কিন্তু এ মহাসত্যকে অস্বীকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.