উম্মতে মুহাম্মাদীর শ্রেষ্টত্ব।

জান্নাতীদের সংখ্যা:

ভুল-ত্রুটি মাফ

আগের উম্মতের ক্ষমা করা হতো না।

وقد كان بنو إسرائيل إذا نسوا شيئاً مما أمروا به أو أخطؤوا عجلت لهم العقوبة

অর্থাৎ বনি ইসরাইল সম্প্রদায় যখন তাদের উপর নির্দেশিত বিষয়গুলো ভুলে যেত অথবা ভুলে (কোনো গুনাহ) করতো তখন সাথে সাথে আযাব চলে আসতো।
সূত্র: মাওয়াহেবে লাদুনিয়া খ: ২ পৃ: ৩২৬ তাফসীরে বগবী খ: ১ পৃ: ৩৫৭

এই উম্মতের জন্য মাফ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُم بِهِ وَلَكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

অর্থাৎ এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সূরাঃ আহযাব আয়াত: ৫

হাদিস শরীফে এসেছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَرْفَعُهُ قَالَ إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي عَمَّا وَسْوَسَتْ أَوْ حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أَوْ تَكَلَّمْ

অর্থাৎ হযরত আবূ হুরাইরাহ রা. অন্যত্র হাদীস মারফূ‘ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আমার উম্মাতের ঐ সকল ওয়াস্ওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন যা তাদের মনে উদিত হয় বা যে সব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষণ না তা বাস্তবে করে বা সে সম্পর্কে কথা বলে।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ৬৬৬৪

হাদিসে আরও এসেছে,

عَن ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ اللهَ وَضَعَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ

অর্থ: হযরত ইবনু ‘আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ আমার উম্মাতকে ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কৃত কাজের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
সূত্র: সুনান ইবনে মাজাহ হাদিস: ২০৪৫ সহিহ ইবনে হিব্বান: ৭২১৯

অর্ধেক জান্নাতী উম্মতে মুহাম্মাদী:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي قُبَّةٍ فَقَالَ أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ ‏قُلْنَا نَعَمْ‏.‏ قَالَ تَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْنَا نَعَمْ‏ قَالَ أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا شَطْرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْنَا نَعَمْ‏ قَالَ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْلِ الْجَنَّةِ

অর্থাৎ হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা এক তাঁবুতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের সংখ্যা জান্নাতীদের এক-চতুর্থাংশ হলে তোমরা কি খুশি হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ তোমরা জান্নাতীদের এক-তৃতীয়াংশ হলে তোমরা কি খুশি হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ সত্তার কসম! যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ। আমি দৃঢ় আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ৬৫২৮

দুই তৃতীয় অংশ জান্নাতী উম্মতে মুহাম্মাদী

عن أبي هريرة لمّا نزلت ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَثُلَّةٌ مِنَ الْآخِرِينَ قال رسولُ اللَّهِ ﷺ أنتُم ربُعُ أَهلِ الجنَّةِ أنتُم ثلثُ أَهلِ الجنَّةِ أنتُم نِصفُ أَهلِ الجنَّةِ أنتُم ثُلُثا أَهلِ الجنَّةِ

সূত্র: ফাতহুল বারী খ: ১৫ পৃ: ৩৭ হাদিউল আরওয়াহ (ইবনে কায়্যিম) পৃ: ৮৮

عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْلُ الْجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍّ ثَمَانُونَ مِنْهَا مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ وَأَرْبَعُونَ مِنْ سَائِرِ الأُمَمِ

অর্থাৎ হযরত বুরাইদাহ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীদের একশত বিশটি কাতার হবে, তার মধ্যে এই উম্মাতের হবে আশিটি কাতার এবং অন্যান্য সকড় উন্মাতের কাতার হবে চল্লিশটা।
সূত্র: জামে তিরমিযি হাদিস: ২৫৪৬ জামে সগীর: ২৭৪৭ (হাদিসের মান: সহিহ)

৭০ হাজার প্রথমেই জান্নাতী

عن أَبَي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَعَدَنِي رَبِّي سُبْحَانَهُ أَنْ يُدْخِلَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعِينَ أَلْفًا لاَ حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلاَ عَذَابَ مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعُونَ أَلْفًا وَثَلاَثُ حَثَيَاتٍ مِنْ حَثَيَاتِ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ

অর্থাৎ আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আমার মহান প্রতিপালক আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মাতের সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাবে জান্নাতে দাখিল করবেন এবং তাদের কোনরূপ শাস্তিও হবে না। প্রতি হাজারের সাথে থাকবে আরও সত্তর হাজার করে এবং আরো থাকবে আমার মহান প্রতিপালকের তিন মুঠো পরিমাণ।
সূত্র: জামে তিরমিযি হাদিস: ৪৩৭ ইবনে মাজা: ৪২৮৬ আহমাদ: ২২৩০৩

লাশের পক্ষে সাক্ষ ও জান্নাত

অন্যান্য উম্মতের জন্য ১০০ জন সাক্ষ লাগতো।

عن عَائِشَةَ تَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْأُمَمَ السَّالِفَةَ الْمِائَةُ أُمَّةٍ إِذَا شَهِدُوا لِعَبْدٍ بِخَيْرٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ

অর্থাৎ হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত নবীজি সা. বলেন, পূর্ব যুগের উম্মতদের জন্য ১’শ মানুষ ভালো হওয়ার স্বপক্ষে সাক্ষি দিলে তাদের জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যেত।
সূত্র: কিতাবুদ দুআ (তবরানী) হাদিস: ১৯৬৫

উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য মাত্র ২ জন:

عن امير المؤمنين عمر رضي الله عنه قال قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏أَيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ ‏قُلْنَا وَثَلاَثَةٌ قَالَ وَثَلاَثَةٌ ‏قُلْتُ وَاثْنَانِ قَالَ وَاثْنَانِ ‏ثُمَّ لَمْ نَسْأَلْهُ عَنِ الْوَاحِدِ‏

অর্থাৎ আমিরুল মুমিনিন হযরত ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, কোন মুসলিম সম্পর্কে চার জন লোক ভাল সাক্ষ্য দিলে আল্লাহ্‌ তাঁকে জান্নাতে দাখিল করবেন। তিনি বললেন, তিনজন সাক্ষ্য দিলেও। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, দু’জন সাক্ষ্য দিলে? তিনি বললেন, দু’জন সাক্ষ্য দিলেও। এরপর আমরা একজনের সাক্ষ্য সম্পর্কে তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করিনি।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ২৬৪৩

 

Check Also

জান্নাতী হওয়ার আমল তিনটি

হক্বের মানদনণ্ড কি কি? قَدْ جَاءكُم مِّنَ اللّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ সুরা মায়িদা: ১৫ وَمَا …

Leave a Reply

Your email address will not be published.