ঈমানদার ও কাফেরের মাঝে পার্থক্য

নূর চমকানো

হাশরে বেঈমানদের অবস্থা:

হাশরের ময়দানে বেঈমানদের অবস্থা হবে খুব ভয়াবহ। দুনিয়াতে যেমন আল্লাহর বিধান সামনে থাকার পরও না দেখার ভান করে নিজের খুশি মত চলেছে, কিয়ামতেও তাদেরকে বাস্তবে অন্ধ করে তোলা হবে। মহান রব বলেন,

وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنتُ بَصِيرًا قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنسَى

অর্থ: এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।
সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম। আল্লাহ বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব।
সুরা ত্বহা আয়াত: ১২৬

হযরত ইকরামা রহ. বলেন,
أنَّهُ لا يَرى شَيْئًا إلّا النّارَ
অর্থাৎ সে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই দেখতে পাবে না।
সূত্র: তাফসীরে আলুসী

وَ مَنۡ یُّضۡلِلۡ فَلَنۡ تَجِدَ لَهُمۡ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِهٖ ؕ وَ نَحۡشُرُهُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَة عَلٰی وُجُوۡهِهِمۡ عُمۡیًا وَّ بُکۡمًا وَّ صُمًّا ؕ مَاۡوٰهُمۡ جَهَنَّمُ ؕ کُلَّمَا خَبَتۡ زِدۡنٰهُمۡ سَعِیۡرًا

অর্থাৎ এবং যাকে তিনি পথহারা করেন তুমি কখনো তাদের জন্য তাঁকে ছাড়া অভিভাবক পাবে না। আর আমি কিয়ামতের দিনে তাদেরকে একত্র করব উপুড় করে, অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়। তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; যখনই তা নিস্তেজ হবে তখনই আমি তাদের জন্য আগুন বাড়িয়ে দেব।
সুরা ইসরা আয়াত: ৯৭

ঈমানদারদের অবস্থা

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন,

ليس أحد إلا يعطى نورا يوم القيامة فيُطفئُ نور المنافقين، فيخشى المؤمن أن يُطْفِئَ نوره

অর্থ: কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে নূর দেয়া হবে। কিন্তু মুনাফিকদের নূর নিভিয়ে দেয়া হবে। সে সময় মুমিন ভয়ে থাকবে তার নূর নিভে যাওয়ার।
সূত্র: তাফসীরে মাক্কী

يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ

অর্থ: সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে।
সুরা তাহরীম: ৮

وَمَا أَنْتُمْ فِي أَهْلِ الشِّرْكِ إِلاَّ كَالشَّعْرَةِ الْبَيْضَاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الأَسْوَدِ أَوْ كَالشَّعْرَةِ السَّوْدَاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الأَحْمَرِ

অর্থাৎ আর মুশরিকদের তুলনায় তোমাদের অবস্থা, যেমন কাল ষাঁড়ের চামড়ার উপর একটি সাদা পশম। অথবা লাল ষাঁড়ের চামড়ার উপর একটি কালো পশম।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ৬৫২৮

কপালের দুই ভ্রুর মাঝে নূর চমকাতে থাকবে।

سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ

অর্থ: তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন।
সুরা ফাতহ আয়াত: ২৯

عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَثُرَتْ صَلاَتُهُ بِاللَّيْلِ حَسُنَ وَجْهُهُ بِالنَّهَارِ

অর্থ: জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে অধিক পরিমাণে সালাত পড়ে, দিনে তার চেহারা উজ্জ্বল হয়।
সূত্র: সুনানে ইবনে মাজা হাদিস: ১৩৩৩

حَتَّى إِذَا فَرَغَ اللهُ مِنْ الْقَضَاءِ بَيْنَ الْعِبَادِ وَأَرَادَ أَنْ يُخْرِجَ بِرَحْمَتِهِ مَنْ أَرَادَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَمَرَ الْمَلاَئِكَةَ أَنْ يُخْرِجُوا مِنْ النَّارِ مَنْ كَانَ لاَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا مِمَّنْ أَرَادَ اللهُ أَنْ يَرْحَمَهُ مِمَّنْ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ فَيَعْرِفُونَهُمْ فِي النَّارِ بِأَثَرِ السُّجُودِ تَأْكُلُ النَّارُ ابْنَ آدَمَ إِلاَّ أَثَرَ السُّجُودِ حَرَّمَ اللهُ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ أَثَرَ السُّجُودِ فَيَخْرُجُونَ مِنْ النَّارِ قَدْ امْتُحِشُوا

অর্থ: তিনি বান্দাদের বিচার শেষ করে যখন আপন রহমতে কতক জাহান্নামবাসীকে বের করতে চাইবেন, তখন তিনি তাদের মধ্যকার শির্ক হতে মুক্তদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দেয়ার জন্য ফেরেশ্তাদেরকে আদেশ দেবেন। তারাই হচ্ছে ওসব বান্দা যাদের উপর আল্লাহ রহমত করবেন, যারা সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। সিজদার চিহ্ন দ্বারা তাদেরকে ফেরেশ্তারা চিনতে পারবেন। সিজদার চিহ্নগুলো ছাড়া সে সব আদম সন্তানের সারা দেহ জাহান্নামের আগুন ভসমীভূত করে দেবে। সিজদার চিহ্নগুলো জ্বালিয়ে দেয়া আল্লাহ্ জাহান্নামের উপর হারাম করে দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।
সহিহ বুখারী হাদিস: ৭৪৩৭

হযরত শাহে ইবনে হাওশাব রহ. বলেন,

يَكُونُ مَوْضِعُ السُّجُودِ مِنْ وُجُوهِهِمْ كَالْقَمَرِ ليلة البدر

অর্থাৎ চেহারার সেজদার স্থানে নূর পূর্নিমার চাঁদের মত চমকাতে থাকবে।
সূত্র: তাফসীরে বগবী খ: ১৯ পৃ: ৩৪২

Check Also

জান্নাতী হওয়ার আমল তিনটি

হক্বের মানদনণ্ড কি কি? قَدْ جَاءكُم مِّنَ اللّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ সুরা মায়িদা: ১৫ وَمَا …

Leave a Reply

Your email address will not be published.