ঈদের নামাজে দ্বিতীয় বার ইমামতি করা যাবে কি?

 

একই ঈদের নামাজে দুই বার ইমামতি করা যাবে না। যদি কেউ দুইবার ইমামতি করে, তাহলে দ্বিতীয় নামাজের মুক্তাদিদের কারো নামাজ সহিহ হবে না। কারণ একই নামাজ দিনে দুবার পড়া হাদিসে নিষেধ আসছে।

عن سليمان بن يسار أتيت ابن عمر على البلاط وهم يصلون فقلت ألا تصلي معهم قال قد صليت إني سمعت رسول اللهِ ﷺ يقول لا تصلوا صلاة في يوم مرتين

অর্থ: সুলায়মান র: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমার রা: এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মদীনার নিকটবর্তী বিলাত নামক স্থানে এসে তাদেরকে নামাযে রত পাই। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, আপনি কেন তাদের তাদের সাথে নামায আদায় করছেন না? তিনি বলেন, আমি ইতিপূর্বে জামাআতে নামায আদায় করেছি। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা একই ফরয নামায একই দিনে দুঁ’বার আদায় করো না।
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ হাদিস-৫৭৯ মুসনাদে আহমাদ-৪৬৮৯ (হাদিস সহিহ)।

প্রশ্ন:

কিছু হাদিসে তো ২য় বার পড়ার কথাও এসেছে।

জবাব:

সেসব হাদিসগুলোর জন্য কিছু ফুকাহা ২য় বার মুক্তাদি হয়ে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছেন বটে। তবে ইমামতি করা সহিহ হবে না। কারণ প্রথম বার যখন তিনি ইমামতি করেছেন, তখন তার উপর ওয়াজীব ঈদের নামাজ আদায় হয়ে গেছে। পরে যখন ২য় বার পড়বে, তখন তাআদায় হবে নফল হিসাবে। কারণ শরীয়তে ঈদের নামায একবার, দুইবার নয়। হাদিস শরীফে এসেছে,

عن يزيد بن الأسود العامري السوائي شهدتُ مع النبي ﷺ…. إذا صليتُما في رحالكُما ثم أتيتُما مسجدَ جماعةٍ فصلّيا معهم، فإنّها لكما نافلةٌ

অর্থ: ইয়াযীদ ইবনু আসওয়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা বাড়িতে নামায আদায়ের পর যদি মাসজিদে এসে জামা’আত হতে দেখ, তাহলে তাদের সাথে আবার নামায আদায় করবে। এটা তোমাদের উভয়ের জন্য নফল হবে।
সূত্র: সনানে তিরমিযি হাদিস-২১৯ নাসাঈ-৮৫৮ আহমাদ-১৭৪৭৫

সুতরাং প্রথম কথা হলো-
যেহেতু ইমামের ২য় নামাজ হচ্ছে নফল। কিন্তু তার পেছনে যারা পড়বে,তারা তো প্রথম বার পড়ায় ওয়াজীব হিসাবেই পড়বে। আর নফল নামাজের নিয়তকারীর পেছনে ওয়াজিব নামাজের নিয়তকারীর নামাজ সহিহ হয় নয়।

দ্বিতীয় কথা হলো-
ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবীর রয়েছে। যেটা না দিলে মুক্তাদিরে ঈদের নামাজই আদায় হবে না। কিন্তু ইমাম যেহেতু নফল হিসাবে পড়াচ্ছেন, সেহেতু তিনি তাকবির দিতে পারবেন না।কারণ নফল নামাজে তো অতিরিক্ত তাকবির নেই। সুতরাং নফল হিসাবে ইমাম সাহেব যদি অতিরিক্ত তাকবির না দেন, আর মুক্তাদির ঈদের নামাজ হিসাবে যদি তাকবির দিতে হয়, তখন ইমামের অনুসরণ পাওয়া যাবে না। অথচ নবিজি স: বলেছেন,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَال إنَّما جُعِل الإمامُ ليؤتَمَّ به فلا تختلِفوا عليه فإذا كبَّر فكبِّروا

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইমাম বানানো হয় তাঁর অনুসরণের জন্য অতএব তোমরা (ইমামের) ভিন্নতা অবলম্বন করবে না। তিনি যখন তাকবির বলবে, তোমরাও তখন তাকবির বলবে।
সূত্র: সহিহ ইবনে হিব্বান-২১০৭ সহীহ বুখারী হাদীস নং-৭২২

অতএব যিনি একবার ঈদের নামাজের ইমামতি করবেন, তিনি দ্বিতীয়বার ইমামতি করতে পারবে না। পাশাপাশি নবিজি স: ঈদের নামাজে কখনও ২য় বার ইমামতি করেননি।এমনকি সাহাবাদের করতেও বলেননি। কোন সাহাবি করলে তিনি চুপ থেকেছেন এমনও নয়।

অভিযোগ:

মুআজ রা: তো করেছেন বলে সহিহ বুখারীর হাদিসে আসছে।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ كَانَ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَؤُمُّ قَوْمَهُ

অর্থ: হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত, হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করতেন, তারপর ফিরে গিয়ে তার কওমের ইমামতী করতেন।
সূত্র: বুখারী হাদীস-৭০০

জবাব:

মুয়াজ রা: যে ঈদের নামাজেই ২য় বার ইমামতি করেছেন, এটা উক্ত হাদিসে স্পষ্ট নয়।

এরপরও যদি ধরে নিই যে, অন্য মাযহাবের ফাতাওয়া অনুযায়ী ঈদের নামাজে ২য় বার ইমামতি করা জায়েয, তাহলে বলবো এ দেশে ফিকহে হানাফী অনুযায়ী কুরআন-হাদীসের উপর আমল করা হয়। তাই শরীয়তসম্মত প্রয়োজন ছাড়া বিপরীত ফতোয়া দিয়ে মানুষকে ঝগড়ার দিকে ঠেলে দেয়া জায়েয হবে না।
সূত্র: কিতাবুল উম্ম খ: ১ পৃ: ২০০ আলমুনতাকা (ইবনে তায়মিয়া) খ: ১ পৃ: ৬৩২ ফাতহুল বারী খ: ২ পৃ: ২২৬

আল্লাহ সকল ফিতনাবাজদের কবল থেকে আমাদের দেশ,জাতি ও উম্মাহকে হিফাযত করেন। আমিন!

লেখক-
মুফতী রিজওয়ান রফিকী

Check Also

সাতাতুত তাসবিহের নিয়ম

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম: عن عبدالله بن عباس قال أنَّ رسولَ اللهِ ﷺ قال للعباسِ …

One comment

  1. mohammadia islamic media

    অনেক গুরুত্বপূর্ণ

Leave a Reply

Your email address will not be published.