ঈদের কোলাকুলি কি বিদআত?

ঈদ উপলক্ষে কোন কোলাকুলি নবি স: ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত নয়। যদি কেউ কারো সাথে কিছুদিন পর দেখা করে বা সফর থেকে ফিরে আসে,তখন মুআনাকা করা সুন্নাহ। অতএব কেউ ”ঈদ উপলক্ষে কোলাকুলি করা সুন্নাহ বা মুস্তাহাব” মনে করে করে থাকে, তাহলে কাজটি অবশ্যই বিদআ’ত বলে গন্য হবে।

এক.
হাদিস শরীফে এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَدِمَ زيدُ بنُ حارثةَ المدينةَ ورسولُ اللهِ ﷺ في بيتي فأتاه فقرع البابَ فقام إليه رسولُ اللهِ ﷺ عُرْيانًا يَجُرُّ ثوبَه واللهِ ما رأيتُه عُرْيانًا قبلَه ولا بعدَه فاعتنقه وقَبَّله

অর্থ: হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত জায়েদ বিন হারেসা রা: মদীনায় এলেন। তখন রাসূল সা: আমার ঘরে ছিলেন। হযরত জায়েদ এসে রাসূল সা: এর দরজায় কড়া নাড়লেন। রাসূল সা: তখন বেরিয়ে গেলেন খালি গায়েই। আল্লাহর কসম আমি এর আগে কখনো রাসূল সাঃ কে খালি গায়ে দেখিনি। তারপর তিনি তার সাথে মুআনাকা করলেন এবং তাকে চুমু খেলেন।
সূত্র: সুনানে তিরমিজী হাদীস-২৭৩২ ত্বহাবী হাদীস-৬৯০৫, শরহুস সুন্নাহ হাদীস-৩৩২৭ তারগীব খ: ৩ পৃ: ৩৭৪ তবরানী খ:১ পৃ:৩৭

দুই.

عن أنس بن مالك قَالَ كان أصحابُ النَّبيِّ ﷺ إذا تلاقَوا تصافَحوا وإذا قدِموا من سفرٍ تعانَقوا

অর্থ: হযরত আনাস বিন মালেক রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবি স: এর সাহাবারা যখন পরস্পরে সাক্ষাত করতেন, তখন মুসাফাহা করতেন। আর যখন সফর থেকে ফিরতেন, তখন মুআনাকা করতেন।
সূত্র: মাজমাউয যাওয়ায়েদ খ:৮ পৃ:৩৯ তবরানী হাদিস-৯৭ আত তারগীব খ: ৩ পৃ: ৩৭৪

তিন.

عن الشعبي عامر بن شراحيل قَالَ كان أصحابُ النبيِّ ﷺ إذا التقُوا تصافَحُوا فإذا قدِموا من سفر عانق بعضُهم بعضًا

অর্থ: আমের শা’বী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম পারস্পারিক সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করতেন। আর যখন কোন সফর থেকে ফিরতেন, তখন একে অপরের সাথে মুআ’নাকা করতেন।
সূত্র: বায়হাকী হাদিস-১৩৯৫৯

উপরোক্ত হাদিসগুলো দিকে খেয়াল করলে বুঝা যায় যে, যেকোনো সময় সাক্ষাত হলেই মুসাফাহা করা সুন্নাহ। কিন্তু সফর থেকে ফিরে আসলে অথবা কিছুদিন পর দেখা হলে, তখন মুআনাকা করা সুন্নাহ।

কিন্তু বর্তমানে ঈদের নামায শেষ হতেই সবাইকে গলা জড়িয়ে কোলাকুলি শুরু করে দেয়া একটি প্রথা হয়ে গেছে এবং এটাকে নেকির কাজ এমনকি ঈদের দিনের একটি আমল মনে করা হচ্ছে। অথচ এটা সুন্নাত বা মুস্তাহাব কিছুই নয়।

অতএব এটাকে যদি সুন্নাত, মুস্তাহাব বা ঈদের দিনের কোন আমল মনে করে করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে এটা বিদআ’ত বলে পরিগনিত হবে। কারণ নবিজি স: বলেন,

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَن أحْدَثَ في أمْرِنا هذا ما ليسَ منه فَهو رَدٌّ

অর্থ: হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মাঝে এমন বিষয়ের নতুন চালু করে, যা এর অন্তর্ভূক্ত ছিল না, তাহলে সে কাজটি বর্জনীয়।
সূত্র: সহীহ মুসলিম হাদীস-১৭১৮ বুখারী-২৬৯৭ ইবনে মাজা-১৪ সহিহ ইবনে হিব্বান-২৭

 

লেখক:

মুফতী রিজওয়ান রফিকী

পরিচালক- মাদরাসা মারকাযুন নূর বোর্ডবাজার,গাজীপুর।

Check Also

ঘুমের সুন্নাত কি কি?

  প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য ডান কাতে ঘুমানো সুন্নাত। কেননা রাসূল স: বলেছেন, عن البَرَاءُ بْنُ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *