অল্পবয়সী আয়েশা রা. ও নবীজির সা. বিবাহ পর্যালোচনা।

অল্পবয়সী আয়েশা রা. ও নবীজির সা. বিবাহ পর্যালোচনা।

প্রিয় পাঠক, নাস্তিক্যবাদীরা রাসুলুল্লাহকে সা. সবচে চারিত্রিক আঘাত করার অন্যতম একটি জায়গা হলো আম্মাজান আয়েশার রা. বিবাহ কেন্দ্রীক। কারণ নবীজি সা. তাঁকে ৬ বছর বয়সে বিবাহ করেন।

আর এ বিষয়টি কেন্দ্র করেই তাদের যত সমালোচনা। তাদের দাবী হলো, নবীজি সা. যেহেতু কম বয়সী আয়েশাকে রা. বিয়ে করেছেন, সুতরাং মুহাম্মাদ সা. শিশুকামী ছিলেন। নাউযুবিল্লাহ। চলুন এ ব্যাপারে একটু পর্যালোচনা করা যাক।

বিয়ের সময় কি আয়েশা রা. প্রাপ্তবয়স্কা ছিলেন?

এ ব্যাপারে আলোচনা করার আগে প্রথমত যে বিষয়টি জানা দরকার সেটা হলো, বিয়ের সময় আয়েশা রা. প্রাপ্তবয়স্কা ছিলেন কি না? ব্যাপারটি সম্পর্কে ক্লিয়ার হতে আগে জানতে হবে কত বছর বয়সে মেয়েরা প্রাপ্তবয়স্কা হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে খোদ আম্মাজান আয়েশার রা. উক্তি থেকে দেখা যাক।

আম্মাজান আয়েশা রা. বলেন,

إِذَا بَلَغَتِ الْجَارِيَةُ تِسْعَ سِنِينَ فَهِيَ امْرَأَةٌ ‏

অর্থাৎ কোনো মেয়ে যখন নয় বছর বয়সে উপনীত হয়, সে তখন  মহিলা (প্রাপ্তবয়স্কা) হয়ে যায়।
সূত্র: জামে তিরমিযি হাদিস: ১১০৯

সুতরাং বুঝা গেলো ৯ বছর বয়সী মেয়েরা প্রাপ্তবয়স্কা মহিলা। আর রাসুলুল্লাহ সা. যখন আয়েশা রা. কে বিয়ে করেন, তখন তাঁ  বয়স ৬ বছর হলেও যখন তাঁর বয়স ৯ বছর পূর্ণ হয়েছিলো, তখন তিনি বাসর করেন। এ ব্যাপারে খোদ আম্মাজান আয়েশা রা. থেকে হাদিস এসেছে।

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَهْىَ بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ، وَبَنَى بِهَا وَهْىَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ‏.‏ قَالَ هِشَامٌ وَأُنْبِئْتُ أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَهُ تِسْعَ سِنِينَ‏.‏

অর্থাৎ হযরত আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, যখন তাঁর ছয় বছর বয়স তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে শাদী করেন। তিনি তাঁর সাথে বাসর ঘর করেন নয় বছর বয়সে। হিশাম বলেন, আমি জেনেছি যে, আয়িশা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নয় বছর ছিলেন।
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ৫১৩৪

সুতরাং প্রমাণ হলো নবীজি সা. আম্মাজান আয়েশার সাথে ৯ বছরের আগে কখনও রাত্রিযাপন করেননি। যা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার পরই হয়েছে।

নবীজি সা. কি শিশুকামী ছিলেন?

কিন্তু আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার পরও এ অল্পবয়সী নারীকে নবীজি সা. কেন বিয়ে করলেন, এ বিষয়টি কেন্দ্র করে নাস্তিক্যবাদ ও নবীবিদ্বেষীরা এক জঘন্য অভিযোগ করে বসেছে। তাদের দাবী হলো, নবীজি সা. ‘শিশুকামী’ (অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সাথে যৌনলিপ্সু) ছিলেন! নাউযুবিল্লাহ। তাদের যুক্তি হলো, নবীজি সা. যদি শিশুকামী না হতেন, তাহলে অল্পবয়সী আয়েশাকে রা. কেন বিবাহ করলেন?

আমার জবাব:

এক.
আপনি যদি নাস্তিক হন, তাহলে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা তো বলেন, না দেখা কোনো কিছু বিশ্বাস করা অযৌক্তিক বা বোকামী। তাহলে নবীজি সা. ‘শিশুকামী’ ছিলেন সেটা কি আপনি দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন, তাহলে বিশ্বাস করলেন কেমনে? তাহলে ‘নবীজি সা. শিশুকামী ছিলেন’ বলে যে দাবী করলেন, সেটা আপনাদের থিউরী মোতাবেক অযৌক্তিক। আর এ দাবী করে আপনি বোকার পরিচয় দিলেন আপনাদের থিউরী মোতাবেক।

দুই.
মক্কার কাফেররা নবীজির সা. দুশমন ছিলো। সেই ধারাবিহকতায় আপনারাও নবীজির সা. দুশমন। বুঝা গেলো তারাই আপনাদের পুর্বপুরুষ তথা বাপ-দাদা। প্রশ্ন হলো, আপনাদের বাপ-দাদা তথা  মক্কার সেই লোকগগুলো নবীজি সা. কে শিশুকামী বলে অভিযোগ তুলেছিলো কখনও ? তারা নবীজিকে সা. সব সময় ফেস টু ফেস দেখেও কবি, যাদুকর, পাগল ইত্যাদী বললেও শিশুকামী বলে অভিযোগ তুলতে পারেনি। তাহলে ১৪০০ বছর পর এসে আপনারা এ অভিযোগ নবীজির সা. উপর কিভাবে তুললেন? বুঝা গেলো আপনাদের বাপ-পোলার দাবির মধ্যে আদৌ কোনো মিল নেই। আর যারা বাপের কথা মানে না, তারা নবীজিকে সা. আদর্শবান ও চরিত্রবান মনে করবে না এটাই স্বাভাবিক।

তিন.
নবীজি সা. যদি সত্যিকারার্থে শিশুকামী হতেন, তাহলে আম্মাজান খাদিজা রা. কে কেন ৪০ বছরে বিবাহ করেন? অথচ খাদিজা রা. ছিলেন পূর্ব বিবাহিতা।

চার.
শুধু তাই নয়, হযরত আয়েশা রা. ছাড়া সবাই ছিলেন বিধবা  বা তালাকপ্রাপ্তা। অথচ নবীজি সা. সেই সময় ছিলেন মক্কা-মাদীনার বাদশা। তাঁর জন্য কি অবিবাহিত মেয়ে বা শিশু মেয়ের অভাব ছিলো? এতদ্বসত্তেও তিনি কেন বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা মহিলাদের বিবাহ করলেন? তিনি শিশুকামী হলে কি এ ধরণের মহিলাদের বিবাহ করতেন? একজন মহামানবের বিরোধিতা করতে গিয়ে বাস্তবতাকে কিভাবে অস্বীকার করা যায়?

পাঁচ.
নবীজি সা. ৬ বছর বয়সে আম্মাজান আয়েশা রা. কে বিবাহ করেন। কিন্তু তাঁর সাথে বসবাস শুরু করেন তখন, যখন আম্মাজান আয়েশার রা.  বয়স ছিলো ৯ বছর। প্রশ্ন হলো, নবীজি সা. যদি শিশুকামী হতেন, তাহলে আয়েশার রা. জন্য ৩ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন? আছে এসব জবাব নাস্তিকদের কাছে?

সুতরাং ‘নবীজি সা. শিশুকামী ছিলেনন’ এমন অবান্তর অভিযোগ যারা তোলেন, তারা সময়ের সবচে বড় মুর্খ ও অশিক্ষিত এবং যুক্তি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞ।

সেকালে অল্পবয়সী মেয়ে বিবাহ দোষণীয় ছিলো না।

অতীত যুগে অল্পবয়সী মেয়েদের বিবাহ দেওয়া এটা দোষণীয় ছিলো না। ১৪০০ বছরের পুরান ইতিহাস তো দূরের কথা গত ১০০ বছরের ইতিহাসে বড় বড় মনিষীদের বিয়েও হয় খুব অল্পবয়সী মেয়েদের সাথে। কারণ সমাজ এটাকে কোনো দোষণীয় মনেই করতো না। এর সবচে বড় প্রমাণ হলো, আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিয়ের সময় তার স্ত্রীর বয়স ছিলো খুব কম।

বঙ্গবন্ধু ও শেখ ফযিলাতুন্নেছা বিয়ের বয়স।

এ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন,

‘আব্বার বয়স যখন দশ বছর, তখন তাঁর বিয়ে হয়। আমার মায়ের বয়স ছিলো মাত্র তিন বছর।’
সূত্র: শেখ মুজিব আমার পিতা পৃ. ২৭

এমনিভাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অসংখ্য মনিষীদের বিবাহ হয় খুব অল্পবয়সী মেয়েদের সাথে। এমনকি বর্তমানের প্রজন্ম যদি তাদের বাপ-দাদাদের বিয়ের বয়স খোঁজেন, তাহলে নিশ্চয় এর সততা ও বাস্তবতা পেয়ে যাবেন বলে আশা করছি। এক কথায় গত ১০০ বছরের ইতিহাসে যদি অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে করা দোষণীর্ চোখে না দেখা হয়, তাহলে ১৪০০ বছর আগে আম্মাজান আয়েশা রা. কে অল্পবয়সে বিয়ে করা কি সে যুগে দোষণীয় ছিলো বলে মনে হয়? নিশ্চয় না।

দ্বিতীয় প্রমাণ হলো,
আম্মাজান আয়েশাকে রা. নবীজি সা. বিবাহ করার আগে আরেকজনের সাথে বিবাহ ঠিক হয়েছিলো। তার নাম ছিলো জুবায়ের ইবনে মুতঈম। প্রমাণ হলো,

হযরত খাওলা বিনতে হাকিম হযরত খাদিজা রা. ইন্তেকালের পর নবীজি সা. কে বললেন, আপনি কি বিয়ে করবেন না? আপনি চাইলে বিবাহিতা বা অবিবাহিতা মেয়ের বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই। নবীজি সা. বললেন কে কে? তিনি বললেন, অবিবাহিতা হলেন, হযরত আয়েশা রা. আর বিবাহিতাদের মধ্যে হযরত সাওদা বিনতে যাম’আ রা.। নবীজি সা. অনুমতি দিলে তিনি আম্মাজান আয়েশার রা. বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা উম্মে রুমানকে রা. প্রস্তাব দিলে এক পর্যায়ে তিনি বললেন,

إن المطعم بن عدي قد كان ذكرها على ابنه

অর্থাৎ মুতঈম ইবনে আদী তার ছেলে জুবায়ের রা. জন্য আয়েশার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে। ( আমার স্বামী আবু বকর ওয়াদা খেলাফ করবেন না। কিন্তু জুবায়ের রা. তখনও মুসলিম না হওয়ায় বিয়েটা হয়নি)
সূত্র: দালেয়েলুন নাবুওয়াহ (বাইহাকী) খ. ২ পৃ. ৪১১
সিয়ারু আলামিন নুবালা খ. ২ পৃ. ১৪৯

সুতরাং বুঝা গেলো, সেই সময় আয়েশার রা. নবীজির সা. সাথে বিয়ে হওয়ার আগেই যুবায়ের ইবনে মুতঈমের রা. প্রস্তাব ছিলো। তার অর্থ দাঁড়ালো, সে সময় এই অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ের বিষয়টি স্বাভাবিক ছিলো। কেউ এটা দোষণীয় মনে করতো না।

অল্পবয়সী আয়েশাকে রা. কেন নবীজি সা. বিয়ে করলেন?

অভিযোগের এক পর্যায়ে নাস্তিক্যবাদীরা অনেক বড় আরেকটি প্রশ্ন করে বসেন যে, নবীজি সা. কেন অল্পবয়সী আয়েশাকে রা. বিয়ে করলেন?

জবাব:

এক.
তাদের এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে যৌনাচার বিষয়ক নাস্তিকদের একটি থিউরী জানা দরকার। নাস্তিক্যবাদের প্রথম থিউরী হলো, প্রাপ্তবয়স্কা নারীর সাথে উভয়সম্মতিতে যৌনাচার বৈর এবং তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা। যেটাকে তারা LIVE TOGETHER ‘লিভ টুগেদার’ নাম দিয়েছে। আর এ যৌনাচারে তাদের কাছে বয়স কোনো বিবেচ্য নয়। সুতরাং যেহেতু নাস্তিকদের কাছে যৌনাচারের ক্ষেত্রে দুটি শর্ত-
১. ছেলে মেয়ের-প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।
২. উভয়ের সম্মতি থাকা।
এক্ষেত্রে বয়স বা বিয়ে তাদের কাছে শর্ত নয়।

আর আমরা ইতিপর্বে প্রমাণ করেছি যে, আম্মাজান আয়েশাকে রা. যখন রাসুলুল্লাহ সা. বিয়ে করেন তথন তিনি প্রাপ্তবয়স্কা ছিলেন এবং উভয় সম্মতিতে বিয়েও হয়েছে। সুতরাং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হিসাবে রাসুলুল্লাহ সা. একজন প্রাপ্তাবয়স্কার নারী আম্মাজার আয়েশাকে রা. বিয়ে করেছেন। এতে নাস্তিকবাদীদের প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।

দুই.
নাস্তিকদের কাছের যৌনাচারের অন্য আরেকটি থিম হলো, ‘প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে উভয়ে সুখী হওয়া’। নাস্তিকদের গুরু ‘হুমায়ুন আজাদ’ লিখেছেন,

“কোন পুরুষ যদি একাধিক নারীর সাথে বিবাহ বা অবিবাহিত জীবন-যাপন করতে চায়। তারা সবাই যদি তাতে সুখী হয়, তাতে কারো আপত্তি থাকা উচিত নয়। তাদের জীবনযাপন অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্থ করে না, সুখী করে তাদের; তাইতো অনৈতিক নয়।
সূত্র: আমার অবিশ্বাস পৃ.

সুতরাং বুঝা গেলো, নাস্তিকদের কাছে যৌনাচার বৈধ হওয়ার জন্য উভয়ে সুখী হওয়া শর্ত। আর আমি আগেই প্রমাণ করেছি ‘নবীজির সা. সাথে বিয়ে হওয়ার আম্মাজান আয়েশা রা. সহ সকল স্ত্রী সুখী ছিলেন। এজন্য নবীজি সা. তাঁদেরকে যখন থাকা না থাকার বিষয় ইচ্ছাধীকার দিয়েছিলেন, তখন সবাই জবাব দিয়েছিলেন,

فَإِنِّيْ أُرِيْدُ اللهَ وَرَسُوْلَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ

অর্থাৎ আমি তো আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবন কামনা করি। ‘
সূত্র: সহিহ বুখারী হাদিস: ৪৭৮৬

সুতরাং প্রমাণ হলো, নবীজির সা. সাথে বিয়ে হওয়ার পর সবাই সুখীই ছিলেন। কেউ কোনো কষ্টে ছিলেন বলে কোনো অভিযোগ আনেননি। সুতরাং নবীজির সা. সাখে আম্মাজান আয়েশাও রা. সুখী হওয়ার পরও নাস্তিকরা এত দু:খি হলেন কেন? আর এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে কি নাস্তিকরা নিজেদের নিয়ম বহির্ভুত কাজ করলেন না? হায় মুর্খতা! আর কত?

আয়েশার রা. এত বয়সের ব্যাবধানে কেন বিয়ে করলেন?

নাস্তিকদের আরেকটি প্রশ্ন হলো, নবীজি সা. যখন আয়েশার রা. সাথে বাসর করলেন, তখন নবীজির সা. বয়স পঞ্চাশোর্ধ আর আয়েশার রা. মাত্র ৯ বছর। এত ব্যবধানে তিনি কিভাবে বিয়ে করলেন?

জবাব:

এক.
নবীজি সা. বয়সের এত ব্যবধানে বিয়ে করায় নাস্তিকদের এত চুলকানি উঠলো, অথচ তাদের আরেকগুরু হুমায়ুন আহমাদ মেহের আফরোজ শাওনকে যখন বিয়ে করেন তখন তাদের বয়সের ব্যবধান ছিলো পাক্কা ৩৩ বছর। কারণ উইকাপিডিয়ায় লেখা আছে, হুমায়ুন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে আর শাওনের জন্ম ১৯৮১ সালে। ফলাফল দাঁড়াল ৩৩ বছরের ব্যবধান। সেটা নিয়ে কি কোনো নাস্তিকরা কখনও প্রশ্ন তুলেছেন? নিশ্চয় না। কিন্তু কেন? এর জবাব হয়তো কিয়ামত পর্যন্ত পাওয়া যাবে না।

হ্যাঁ, হয়তো জবাবে বলবে, শাওনের বয়স ছিলো তখন ২৪ বছর। তাহলে অসুবিধা কি?

জবাব:

১. নবীজি সা. যখন বিয়ে করেন তখন নবীজির সা. বয়স পঞ্চাশোর্ধ হওয়ায় তাদের অনেক চুলকানি উঠলো যে, বুড়ো মানুষ এত কম বয়সের মেয়ে কেন বিয়ে করলেন? তাহলে আমিও প্রশ্ন করতে পারি হুমায়ুন আহমেদ যখন বিয়ে করেন, তখন তিনি নবীজির সা. তুলনায় আরও অনেক বুড়ো ছিলেন। তাহলে নবীজি সা. কি দোষ করলেন?

২. নাস্তিকদের কাছে তো বয়স ফ্যাক্ট না, তাদের কাছে মূল দর্শন হলো, নারী প্রাপ্তবয়স্কা হওয়া। তো নবীজি সা. ও আম্মাজান আয়েশা রা. উভয়ই তো প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। আপনাদের সমস্যা কি?

দুই.
নবীজি সা. আল্লাহর পক্ষ থেকে বিধিবিধান নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করেছিলেন। আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ মান্য করা তাঁর জন্য জরুরি ছিলো। আর আয়েশার রা. সাথে নবীজির বিয়ে ছিলো সম্পূর্ণরুপে আল্লাহর নির্দেশে বা আল্লাহর ইশারায়া। যার প্রমাণ সহিহ বুখারীতে রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন,

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُرِيتُكِ قَبْلَ أَنْ أَتَزَوَّجَكِ مَرَّتَيْنِ رَأَيْتُ الْمَلَكَ يَحْمِلُكِ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَقُلْتُ لَهُ اكْشِفْ فَكَشَفَ فَإِذَا هِيَ أَنْتِ فَقُلْتُ إِنْ يَكُنْ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ يُمْضِهِ ثُمَّ أُرِيتُكِ يَحْمِلُكِ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَقُلْتُ اكْشِفْ فَكَشَفَ فَإِذَا هِيَ أَنْتِ فَقُلْتُ إِنْ يَكُ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ يُمْضِهِ.

অর্থাৎ হযরত আয়িশাহ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাকে (’আয়িশাহকে) বিয়ে করার আগে দু’বার আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি দেখেছি, একজন ফেরেশতা তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বয়ে নিয়ে আসছে। আমি বললাম, আপনি নিকাব সরিয়ে দিন। যখন সে নিকার সরিয়ে দিল তখন আমি দেখতে পেলাম যে, সেই মহিলা তুমিই। আমি তখন বললাম, এটা যদি আল্লাহর তরফ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি তা সত্যে পরিণত করবেন। এরপর আবার আমাকে দেখানো হল যে, ফেরেশতা তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বহন করে নিয়ে আসছে। আমি বললাম, আপনি (তার নিকাব) সরিয়ে দিন। সে তা সরিয়ে দিলে আমি দেখতে পাই যে, সেই মহিলা তুমিই। তখন আমি বললামঃ এটা যদি আল্লাহর তরফ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি সত্যে পরিণত করবেন।
সূত্র: সহিহ বুখারী, হাদিস: ৭০১২

অপর আরেকটি হাদিস এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ جِبْرِيلَ، جَاءَ بِصُورَتِهَا فِي خِرْقَةِ حَرِيرٍ خَضْرَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ هَذِهِ زَوْجَتُكَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ

অর্থ: হযরত আয়িশাহ রা. হতে বর্ণিত আছে যে, জিবরীল আ. একখানা সবুজ রংয়ের রেশমী কাপড়ে তার (’আয়িশাহর) প্রতিচ্ছবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এসে বলেন, ইনি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার স্ত্রী।
সূত্র: জামে তিরমিযি, হাদিস: ৩৮৮০

সুতরাং বুঝা গেলো, নবীজির সা. বিয়েটা স্ম্পূর্ণরুপে আল্লাহর ইশারায় হয়েছিলো। কারণ আল্লাহই ভালো জানতেন যে, আয়েশাকে রা. নবীজির সা. স্ত্রী বানালে ইসলামের অনেক খেদমত হবে। আর এজন্য নবীজির সা. অন্যান্য স্ত্রীদের থেকে আম্মাজান আয়েশা রা. এর মাধ্যমে ইসলামের সবচে বেশি খেদমত হয়েছে। ইসলামের অসংখ্য বিধানাবালী বর্ণনা করেছেন হযরত আয়েশা রা.। সুতরাং যারা নবীজিকে সা. মেনে চলেন, সেই মুসলমানরা এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করেন না, নাস্তিকদের এত জ্বলে কেন?

তাদের আরও কিছু প্রশ্নের জবাব:

অভিযোগ-১

নাস্তিকদের দাবি হলো, অল্পবয়সের মেয়েদের সাথে সেক্স করলে ভয়ঙ্কর রকমের সমস্যা হয়। কারণ শারিরিকি গঠন, হাড্ডি, হরমোন ইত্যাদী পূর্ণতা পেতে সময় লাগে। সুতরাং নবীজি সা. অল্পবয়সী মেয়ে আয়েশাকে রা. বিয়ে করে কাজটি ঠিক করেননি।

জবাব:

‘অল্পবয়সের মেয়েদের সাথে সেক্স করলে ভয়ঙ্কর রকমের সমস্যা হয়’ বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা আয়েশার রা. ক্ষেত্রে হয়নি। তাঁর পুরো জিবন জুড়ে কোনো ভয়ঙ্কর রোগ ছিলো বলে কোনো বর্ণনা নেই।

পাল্টা প্রশ্ন:
তখন নাস্তিকরা আবার বলবে, আয়েশার সমস্যা ছিলো কিন্তু বলেননি।

জবাব:১
এটা কতবড় হাস্যকর কথা যে, বর্তমানের দেশের কোনো নেতার স্ত্রী পেট ব্যাথার কারণে হসপিটালে ভর্তি হলে পুরো অঙ্গন জুড়ে আলোচনা হয়, অথচ ওমরের রা. যুগে অর্ধেক জাহান যখন মুসলমানদের পদতলে, সে সময় নবীজির স্ত্রীর ভয়ঙ্কর রোগে ধুকে ধুকে মরবেন, আর সেটা আলোচনায় আসবে না। এটা কি কোনো পাবনা গারদের সদস্যও বিশ্বাস করবে? সুতরাং  বুঝা গেলো, এদের গবেষণা ও অভিযোগ সত্য নয়, বরং ভুল প্রমাণিত হলো।

জবাব: ২
আগের যুগে যখন মেয়েদের অল্পবয়সে বিবাহ হতো, তখন মহিলাদের রোগ কম ছিলো না বেশি ছিলো? নিশ্চয় কম ছিলো। সুতরাং বুঝা গেলো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরপরই সহবাস করলে বরং মেয়েরা সুস্থ থাকে। যেমন ধরুণ একটা উদহরণ দিই, বর্তমান এত হারবাল কেন বাড়ছে? যৌনতা এত দূর্বল বলে। দূর্বল কেন হলো? কারণ তরুনসমাজ সহবাস না করে হস্তুমৈথন করে। পরে তার পুরো যৌবন লাইফ হুমকির মুখে পড়ে। সুতরাং আপনাদের গবেষণা ও বাস্তবতায় তো কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগ:

অল্পবয়সী মেয়েদের সাথে নিয়মিত সেক্স করলে মেয়েরা খাটো হয়,লম্বা হয় না।

জবাব:

এক.
নবীজির সা. মোট ১০ জন স্ত্রী ছিলেন এক সাথে। সুতরাং আম্মাজান আয়েশার রা. সাথে তিনি নিয়মিত থাকতেন না। ফলে নাস্তিকদের আনিত অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

দুই.
অল্পবয়সে আম্মাজান আয়েশা রা. খাটো ছিলেন না, বরং লম্বা ছিলেন। পক্ষান্তরে হযরত সাফিয়্যাকে রা. নবীজির বয়স্ক অবস্থায় বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু তিনি তুলনামূলক খাটো ছিলেন। প্রমাণ হাদিসেই রয়েছে।

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ حَكَيْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً فَقَالَ ‏”‏ مَا يَسُرُّنِي أَنِّي حَكَيْتُ رَجُلاً وَأَنَّ لِي كَذَا وَكَذَا ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ صَفِيَّةَ امْرَأَةٌ وَقَالَتْ بِيَدِهَا هَكَذَا كَأَنَّهَا تَعْنِي قَصِيرَةً ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ لَقَدْ مَزَجْتِ بِكَلِمَةٍ لَوْ مَزَجْتِ بِهَا مَاءَ الْبَحْرِ لَمُزِجَ ‏”‏

অর্থ: হযরত আয়িশাহ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি জনৈক ব্যক্তির চালচলন নকল করে দেখালাম। তিনি বললেন, আমাকে এই পরিমাণ সম্পদ প্রদান করা হলেও কারো চালচলন নকল করা আমাকে আনন্দ দেয় না। আয়িশাহ রা. বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সাফিয়্যা তো বামন মহিলা লোক, এই বলে তিনি তা হাতের ইশারায় দেখালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এমন একটি কথার দ্বারা বিদ্রুপ করেছো, তা সাগরের পানির সাথে মিশালেও তা উক্ত পানিকে দূষিত করে ফেলতো।
সূত্র: জামে তিরমিযি, হাদিস: ২৫০২

সুতরাং প্রমাণ হলো, নাস্তিকদের গবেষণা নিতান্তই ভুল এবং বাস্তবতা বহির্ভুত।

অভিযোগ:
অল্পবয়সী মেয়েদের বাচ্চা হতে গেলে লজ্জাস্থানের জায়গার হাড্ডি সুগঠিত না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রোবলেম হয়। হাড্ডি ক্ষয় হয়।

জবাব:

এটাও বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ গত এক শতাব্দীতে প্রায় সবাই অল্পবয়সী মেয়ে বিয়ে করতেন, তাদের বাচ্চাও অল্প বয়সে হতো। কারণ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে তখন মানুষের খবরও ছিলো না। তথাপিও তখন মহিলাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রোবলেম হয়েছে বলে উল্লেখ্যযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান দেখা যায়নি। অথচ এখন উন্নত ব্যবস্থা থাকা সত্যেও মহিলাদের জরায়ুতে ক্যান্সারের পরিসংখ্যান সবচে বেশি। বুঝা গেলো এ অভিযোগও অনর্থক।

অভিযোগ:
অল্পবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিলে তাদের অধিকার নষ্ট হয়। কারণ
তাদের এ বয়সটা খেলাধুলার। এ আনন্দের অধিকারটা তাদের থেকে হরণ করা হয়।

জবাব:

নবীজি সা. আয়েশা রা. অল্পবয়সী বলে, তাঁর খেলার অধিকার খর্ব করেননি, বরং খেলার জন্য নিজে সহযোগিতা করতেন। যার ভুরিভুরি প্রমাণ হাদিস শরীফে এসেছে। এখানে কয়েকটি হাদিস পেশ করলাম।

হাদিস:১

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَهْىَ بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ وَزُفَّتْ إِلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ وَلُعَبُهَا مَعَهَا

অর্থ: হযরম আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলনাগুলোও সাথে করে আনা হয়েছিল।
সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৩৭২

হাদিস:২

١عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ لِي صَوَاحِبُ يَلْعَبْنَ مَعِي، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ يَتَقَمَّعْنَ مِنْهُ، فَيُسَرِّبُهُنَّ إِلَىَّ فَيَلْعَبْنَ مَعِي‏.‏

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলা করত।
সূত্র: সহিহ বুখারী, হাদিস: ৬১৩০

হাদিস: ৩

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ، أَوْ خَيْبَرَ وَفِي سَهْوَتِهَا سِتْرٌ، فَهَبَّتْ رِيحٌ فَكَشَفَتْ نَاحِيَةَ السِّتْرِ عَنْ بَنَاتٍ لِعَائِشَةَ لُعَبٍ، فَقَالَ: مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟ قَالَتْ: بَنَاتِي، وَرَأَى بَيْنَهُنَّ فَرَسًا لَهُ جَنَاحَانِ مِنْ رِقَاعٍ، فَقَالَ: مَا هَذَا الَّذِي أَرَى وَسْطَهُنَّ؟ قَالَتْ: فَرَسٌ، قَالَ: وَمَا هَذَا الَّذِي عَلَيْهِ؟ قَالَتْ: جَنَاحَانِ، قَالَ: فَرَسٌ لَهُ جَنَاحَانِ؟ قَالَتْ: أَمَا سَمِعْتَ أَنَّ لِسُلَيْمَانَ خَيْلًا لَهَا أَجْنِحَةٌ؟ قَالَتْ: فَضَحِكَ حَتَّى رَأَيْتُ نَوَاجِذَهُ

অর্থ: হযরত আয়িশাহ রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক অথবা খায়বারের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। ঘরের তাকের উপর পর্দা ঝুলানো ছিলো। বায়ু প্রবাহের ফলে তার এক পাশ সরে যায় যাতে তার খেলার পুতুলগুলো দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুতুলগুলো দেখে বললেন, হে আয়িশাহ! এগুলো কি? উত্তরে তিনি বললেন, এগুলো অমার মেয়ে। আর তিনি এগুলোর মধ্যে কাপড়ের তৈরী দু’ ডানাবিশিষ্ট একটি ঘোড়াও দেখতে পেলেন।

তিনি প্রশ্ন করলেনঃ এগুলোর মধ্যে ওটা কি দেখতে পাচ্ছি? তিনি বললেন, ঘোড়া। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তার উপর আবার ওটা কি? তিনি বললেন, দু’টো পাখা। তিনি বললেন, এ আবার কেমন ঘোড়া, যার পাখা আছে! আমি বললাম, আপনি কি শুনেননি যে, সুলাইমান (আঃ)-এর ঘোড়ার কয়েকটি পাখা ছিলো! আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন, যাতে আমি তাঁর সামনের সারির দাঁত দেখতে পেলাম।
সূত্র: সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৩২

হাদিস: ৪

নবীজি সা. নিজেও তাঁর সাথে খেলা করতেন।

عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ: فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ، فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ: هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ

অর্থ: হযরত আয়িশাহ রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারো দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন বিজয়ী হলেন। তিনি বলেনঃ এ বিজয় সেই বিজয়ের বদলা।
সূত্র: সুনান আবু দাউদ হাদিস: ২৫৭৮

সুতরাং প্রমাণ হলো, নবীজি সা. আয়েশার রা. অল্পবয়সী হওয়ায় তাঁর খেলাধুলার অধিকার খর্ব করেননি। এরপরও যারা প্রশ্ন তুলবে নিশ্চিত তারা মুর্খ, নবীদ্রোহী।

অভিযোগ:

অল্পবয়সে মেয়েদের বিয়ে হলে তারা লেখাপড়া করতে পারে না। এটাও তাদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়।

জবাব:

নবীজি সা. আম্মাজান আয়েশাকে রা. বিয়ে করে এ অধিকারও খর্ব করেছেন বলে প্রমাণিত হয় না। কারণ আম্মাজান আয়েশা রা. সেই সময়ের বিশেষ করে মহিলাদের শিক্ষিকা ছিলেন। ফলে অসংখ্য মহিলারা তাঁদের ব্যক্তি জিবনের সমাধান নিতে আম্মাজান আয়েশার রা. কাছে আসতেন।

চলুন দেখি আম্মাজান আয়েশা রা. অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে, তিনি কি মুর্খ ছিলেন? নাকি মহাজ্ঞানী ছিলেন? এ ব্যাপারে কয়েকটি প্রমাণ পেশ করছি,

এক.
বিশিষ্ট তাবেয়ী ইমাম যুহরী রহ. বলেন,

لو جمع علم الناس كلهم ، ثم علم أزواج النبي – صلى الله عليه وآله وسلم – لكانت عائشة أوسعهم علما

অর্থাৎ যদি সকল মহিলাদের ইলম একত্রিত করা হয়, অতপর নবীজির সা. সকল স্ত্রীদের ইলম একত্রিত করা হয়, তাহলে আয়েশার রা. ইলম বেশি হবে।
সূত্র: মুসতাদরাকে হাকেম বর্ণনা: ৬৭৪৯

দুই.
বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মাসরুক রহ. বলেন,

إي والذي نفسي بيده ، لقد رأيت مشيخة أصحاب محمد – صلى الله عليه وآله وسلم – يسألونها عن الفرائض

অর্থাৎ আল্লাহর কসম, আমি নবীজির সা. বড় বড় সাহাবীদের দেখেছি তারা আয়েশা রা. থেকেই ফারায়েযের (জমি বন্টনের ইসলামিকনীতি) সমাধান নিতেন।
সূত্র: মুসতাদরাকে হাকেম বর্ণনা: ৬৭৯৬

তিন.
বিশিষ্ট তাবেয়ী, মাদিনার প্রখ্যাত সাত ফুকাহার একজন উরওয়া ইবনে যুবায়ের রহ. বলেন,

ما رأيت أحدا أعلم بالحلال والحرام والعلم والشعر والطب من عائشة أم المؤمنين .

অর্থাৎ আমি হালাল-হারাম, (ইসলামী) জ্ঞান, কবিতাশাস্ত্র ও চিকিৎশাস্ত্রে আয়েশার রা. থেকে কাউকে বেশি জ্ঞানী দেখিনি।
সূত্র: মুসতাদরাকে হাকেম বর্ণনা: ৬৭৯৩

চার.
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবূ মূসা রা. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,

مَا أَشْكَلَ عَلَيْنَا أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ قَطُّ فَسَأَلْنَا عَائِشَةَ إِلاَّ وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا

অর্থ:  আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের– নিকট কোন হাদীসের অর্থ বুঝা কষ্টসাধ্য হলে আয়িশাহ রা. কে প্রশ্ন করে তার নিকট এর সঠিক জ্ঞাত লাভ করেছি।
সূত্র: জামে তিরমিযি, হাদিস: ৩৮৮৩

এজন্য শায়খ মাহমুদ শিবলী বলেন,

وكان مقام السيدة عائشة بين هؤلاء مقام الاستاذ من تلاميذه

অর্থাৎ আয়েশা রা. বড় বড় সাহাবীদের সামনে উস্তাযের অবস্থানে উপনীত ছিলেন।
সূত্র: হায়াতু আয়িশা (মাহমুদ শিবলী) পৃ. ৪৪৯

সুতরাং প্রমাণ হলো যে, আম্মাজান আয়েশাকে রা. অল্পবয়সে বিয়ে করে নবীজি সা. তাঁকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে তাঁর শিক্ষার অধিকার খর্ব করেননি। এরপরও যারা মিথ্যাচার করে নবীজি সা. কে সমালোচিত করতে চায় ওরা নির্বংশ হবে। এটাই রবের ওয়াদা।

অভিযোগ:

হযরত আম্মাজান আয়েশার রা. সাথে নবীজি সা. ৯ বছর বয়সে বাসর করেছেন বলে নাস্তিকদের দাবি হলো, ‘এটা কোনো বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে?’ একজন ৫৩ বছর বয়সের মানুষ কিভাবে ৯ বছরের মেয়ের সাথে বাসর করলেন? এটা বিবেক বিবর্জিত একটি গর্হিত কাজ।’

জবাব:

এক.
নাস্তিকদের কাছ থেকে বিবেকের প্রশ্ন আসা একটা চরম হাস্যকর বিষয়। যাদের কাছে বউ আর মেয়ের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই, তাদের মুখে আবার বিবেকের কথা! নাস্তিকদের গুরু ‘হুমায়ুন আজাদ’ এর কয়েকটি উক্তি আগে দেখা যাক-

এক.
‘কয়েক বছর আগে সারা সন্ধ্যা চুষতে চিবুতে ইচ্ছে হয়েছিলো চুয়িং গামের মতো এক তরুনীকে।’
সূত্র: আমার অবিশ্বাস, পৃষ্ঠা-১৫

দুই.
‘আমার ভালো লাগতো ভোরের আকাশ, শ্রাবনের মেঘ, হেমন্ত, নদী বা নারী।’
সূত্র: আমার অবিশ্বাস, পৃ. ১৩

তিন.
‘কেঁপে উঠেছিলাম কামনায়, অজস্র বার তৃপ্ত করেছিলাম আমার কামনা, এবং বহুবার পরিতৃপ্ত করতে পারি নি।’
সূত্র: আমার অবিশ্বাস, পৃষ্ঠা: ১৩

প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত মন্তব্যগুলো নাস্তিক্যবাদের গুরু হুমায়ুন আজাদের। যে নাস্তিকরা লিভ টুগেদার থিউরী দিয়ে নিজের মেয়ে এমনকি মায়ের সাথেও সম্মতিক্রমে সেক্স করা বৈধ মনে করে, তাদের থেকে মানবিকতা-নৈতিকতার কথা শুনলে ঘেন্না লাগে।

দুই.
ইসলাম ধর্ম যুক্তি এবং বিবেক দিয়ে চলে না। বরং ওহীর আলোকে চলে। কারণ, মুসলমানরা আল্লাহ তা’আলার গোলাম বলে মেনে নিয়েছে। সুতরাং গোলাম আর মুনিবের মধ্যে কোনো যুক্তি চলে না। এক কথায় ইসলাম চলে ওহীর আলোকে বিবেক বা যুক্তির আলোকে নয়। আর কোনো বিবেক যদি ইসলাম সম্মত হয়, সেটাই আসল বিবেক। ইসলাম বহির্ভুত বিবেক নষ্ট, নোংড়ামী এবং মানবতা বিবর্জিত।

অভিযোগ:

ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সা. ৯ বছরের আয়েশাকে রা. বিয়ে করলেন। কিন্তু একজন এত অল্পবয়স্কা মেয়ে কিভাবে নিজের জিবনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে? এটা কি তার পছন্দের উপর অবিচার নয়?

জবাব:

এক.
কিছু সময়ের জন্য যদি মেনেও নিই যে, ৯ বছরের আয়েশার রা. সাথে বাসর করে নবীজির সা. কাজটা ঠিক করেননি। কিন্তু ভাই, আপনাদের মহাগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃণালিনী দেবীকে যে ১০/১১ বছরে বউ বানিয়ে ঘরে তুললেন সেটা নিয়ে তো আপনি মুখে কুলুপ এটে বসে থাকেন। আপনি কবি নিরব। কারণ ড়কি? মানে ঠাকুর করলে রাম রাম, হুজুর করলে হারাম? কি আজব মানোসিকতা আপনাদের তাই না?

দুই.

নাস্তিকদের একটা থিম হলো, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা নিজের মন মত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, কারণ এটা তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা। তাহলে অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের ক্ষেত্রে যেহেতু তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার নেই, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে কে? নিশ্চয় বাবা এবং মা। কারণ, বাবা-মা কোনোদিন তার মেয়ের অকল্যাণ চাইবেন  না, বরং মেয়ের থেকে বাবাই বেশী ভালো বুঝেন যে, তার মেয়ের জন্য উপযুক্ত ছেলে কে হতে পারে। সুতরাং এটা কোনো মেয়ের উপর জুলুম নয়, বরং মেয়ের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তার জন্য সবচে উপযুক্ত পাত্র সিলেক্ট করে তাকে সুন্দর জিবন উপহার দিতে পারে একমাত্র বাবা-মা। যেক্ষেত্রে অনেক সময় মেয়েরাও ভুল করে বসে। যেমন ধরুন, মেয়েটা ছেলের চেহারা বা টাকা দেখে বিয়ে বসলো, কিন্তু ছেলেটার চরিত্র বা তার কার্যক্রম দেখলো না। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর দেখলো ছেলেটা নেশাগ্রস্ত বা চরিত্রহীন। ফলে মেয়েটা বাধ্য হয়ে সংসার থেকে চলে আসলো। তাহলে মেয়ের এ সিদ্ধান্ত কি ঠিক ছিলো? অতএব বাবা মেয়ের সিদ্ধান্তের অধিকার নষ্ট করে বলে যে অভিযোগ আনা হয় এটা বাস্তবতা বিবর্জিত।

তিন.
কোনো বাবা যদি তার শিশু বাচ্চার জন্য স্থায়ী বাড়ি করে দেয়, এ ক্ষেত্রে আপনি কি বলবেন যে, শিশু এ মেয়ের তো সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা থাকে না। এজন্য বাবা যেভাবে ভালো মনে করেন, সেভাবে তার বাচ্চার জন্য স্থায়ী সম্পদ গড়ে দেয়। বলুন, এ কাজটা কি বাবার অন্যায়? তাহলে স্থায়ী সংসারের জন্য বাবা-মায়ের সিদ্ধান্ত কিভাবে প্রশ্ন তোলা যুক্তিসঙ্গত হবে?

চার.
হযরত আয়েশা রা. কি কখনও এ প্রশ্ন করেছেন যে, তার পছন্দের অধিকার হরণ করা হয়েছে? নিশ্চয় না, বরং তিনি নবীজিকে সা. স্বামী হিসাবে পেয়ে তিনি যারপরনাই খুশি ছিলেন।  তাহলে বুঝা গেলো, আয়েশাকে রা. অল্পবয়সে নবীজি সা. তাঁকে বিয়ে করে তাঁর জন্য কোনো ক্ষতির কারণ হয়নি এবং তাঁর অধিকার খর্ব করা হয়নি। অতএব এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানেই মুর্খতার পরিচয়।

Check Also

আয়েশা রা. পর্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published.