সকল ধর্ম সত্য: হেযবুত তওহীদ:

প্রিয় পাঠক! আখেরী নবি মুহাম্মাদ স: দুনিয়ায় নবুওয়াতসমেত আগমনের পর ইসলাম ধর্ম বাদ দিয়ে ভিন্ন কোন ধর্ম পালন করার সুযোগ ইসলামী শরীয়াহ রাখেনি। যদি কেউ ঈমানদার মুমিন হতে চায় এবং জান্নাতে যেতে চায়, তাহলে তাকে
অবশ্যই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে হবে। এটাই আল্লাহ,তাঁর রসুল স: সাহাবায়ে কেরাম,তাবেয়ীন এবং সমস্ত উম্মাতে মুহাম্মাদীর ঐকবদ্ধ সিদ্ধান্ত।

হেযবুত তওহীদের দাবি:

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ চির ও চুড়ান্ত মহাসত্যের প্রতি বদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সময়ের সবচে বড় কুফরী সংগঠন হেযবুত তওহীদ দাবি করে বসলেন যে, শুধুমাত্র ইসলাম পালন করতে হবে এমনটা জরুরি নয়,বরং অন্যান্য ধর্ম পালন করেও জান্নাতে যাওয়া যাবে। চলুন আগে তাদের মতবাদ গুলো আগে দেখে নেয়া যাক। তারা  লিখেছে,

 “ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মকেই বিভেদের প্রাচীর বানিয়ে রেখেছে। তারা অন্য ধর্মগুলোকে মিথ্যা এবং সেই ধর্মের অনুসারীদেরকে জাহান্নামী, কাফের বলে গালিগালাজ করে। অথচ সকল ধর্মই আল্লাহর প্রেরিত ধর্মপ্রবর্তকগণও তাই।”
সূত্র: মহাসত্যের আহ্বান পৃষ্ঠা-৮৩

“আজও অন্যান্য ধর্মে অতি শক্তিশালী মহাসাধকরা আছেন যাদের কেরামত অলৌকিক ক্ষমতা মুসলিম অলি-আউলিয়াদের চেয়ে কম নয়। যে কেউ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সাধনা করলে তার ফল পাবে, তার আত্মার শক্তি বৃদ্ধি পাবে, অদৃশ্যের গায়েবের অনেক খবর তার কাছে আসবে, সাধারণ মানুষ যা পারে না তেমন কাজ করার ক্ষমতা জন্মাবে এককথায় তাসাউফের বই-কেতাবে যেসব উন্নতির কথা লেখা আছে সবই হবে।”
সূত্র: বিকৃত সুফিবাদ পৃষ্ঠা-২৫

”এটা চরম মূর্খতার পরিচয় যে আমরা এক স্রষ্টা থেকে আগত এক জাতি, এক বাবা-মায়ের সন্তান হয়েও এভাবে একে অপরকে বিধর্মী মনে করে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরে চলেছি। আমরা এক ভাই আরেক ভাইকে অশুচি অপবিত্র মনে করি। আচারের নামে এই সব অনাচার ধর্মের সৃষ্টি নয় ধর্মব্যবসায়ীদের সৃষ্টি।”
সূত্র: মহাসত্যের আহ্বান পৃষ্ঠা-১০৪

“আল্লাহর নাজেলকৃত ধর্মগ্রন্থগুলো এখনো মানুষের কাছে আছে যেগুলো স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বাক্ষর বহন করছে। মানুষ সেগুলো ভক্তির সঙ্গে পড়ছে, জানছে, বিচার-বিশ্লেষণ করছে। সেগুলোর মধ্যে সত্য খুঁজে পাচ্ছে, যা তাদের হৃদয়কে প্রশান্তিতে ভরে তুলছে তাদের আত্মার গভীরে প্রভাব ফেলছে।”
সূত্র: আক্রান্ত দেশ আক্রান্ত ইসলাম পৃ:১৯

এমন কি হেযবুত তওহীদের মুখপাত্র ’দৈনিক বজ্রশক্তি’ পত্রিকায় “মানবসমাজে ধর্ম-অধর্ম ও শান্তি-অশান্তির চিরন্তন দ্বন্দ্ব” শিরোনামে একটি একটি লম্বা লেখার শেষ দিকে গিয়ে তারা লিখেছেন,

“মানবসমাজে একটি ধারণা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে, ‘পৃথিবীতে এতগুলো ধর্মের মধ্যে মাত্র একটি ধর্ম সত্য হতে পারে (!) অন্য সকল ধর্ম মিথ্যা এবং ঐ সত্য ধর্মই কেবল মানুষকে মুক্তি দিতে সক্ষম।’ এ ধারণা প্রচলিত থাকায় সকল ধর্মের অনুসারীরাই দাবি করে যে, কেবল তাদের ধর্মই সত্যধর্ম। এটা ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম মেনে চলে স্বর্গে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো- স্রষ্টা প্রদত্ত সকল ধর্মই সত্যধর্ম। এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এর যে কোনোটি মানুষ মেনে চলতে পারে। তবে মানতে হবে পূর্ণাঙ্গভাবে।”
সূত্র: দৈনিক বজ্রশক্তি ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ ঈসায়ী।

উক্ত কথা গুলো দিয়ে তারা মূলত দাবি করেছেন “সকল ধর্ম সত্য।”

ইসলাম কি বলে?

বিষয়টি বুঝতে প্রথমে আমাদের একটি বিষয় পরিস্কার হওয়া দরকার সেটা হলো- মানুষের বানানো তথা মানব রচিত কোন ধর্মই সত্য নয়। এটা শুধু আমার কথা না বরং খোদ হেযবুত তওহীদও স্বীকার করে থাকেন। বাকি থাকল আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত আসমানী ধর্ম গুলো আজও সত্য ধর্ম রয়েছে কি না সেটা দেখা। এক্ষেত্রে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সা. দুনিয়ায় নবুওয়াত নিয়ে আসার পর পূর্বের সমস্ত ধর্ম রহিত হয়ে গেছে। এমনকি আল্লাহর নাযিলকৃত সমস্ত ধর্মগুলো মানার কোন অবকাশ আল্লাহ আর রাখেননি। কুরআন-হাদিস থেকে নিন্মে কয়েকটি প্রমাণ পেশ করলাম।

১. মহান আল্লাহ তা’য়ালা পূর্বযুগে আল্লাহ প্রদত্ত্ব সমস্ত ধর্মাবলম্বীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন,

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَى فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَن تَقُولُواْ مَا جَاءنَا مِن بَشِيرٍ وَلاَ نَذِيرٍ فَقَدْ جَاءكُم بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ وَاللّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অর্থ: হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেন-যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করে নি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শক আগমন করেননি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শক এসে গেছেন।
সুরাঃ মায়িদা আয়াত: ১৯

অর্থাৎ সমস্ত আহলে কিতাব তথা আল্লাহর প্রেরিত সমস্ত ধর্মের লোকদের কাছে নবীজি মুহাম্মাদ সা. কে পাঠানোর সংবাদ পৌঁছিয়ে তাদেরকে দ্বীন ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করেন।

২. উপরন্তু শেষনবী মুহাম্মাদ সা. কে মানার নির্দেশ প্রদান করে বিশ্ববাসীকে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

অর্থ: রাসূল (মুহাম্মাদ স:) তোমাদে কাছে যা নিয়ে এসেছেন, তা তোমরা গ্ৰহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
সুরা হাশর আয়াত-৭

উক্ত আয়াতে মহান আল্লাহ নবী মুহাম্মাদ সা. এর আনীত সকল বিধিনিষেধ মানতে আদেশ করেছেন। অতএব ইসলাম মানা ফরজ।

২. বিষয়টি আরও পরিস্কার করে মক্কা বিজয়ের দিন আল্লাহ তা’য়ালা সমস্ত ধর্ম বাতিল ঘোষণা করে বললেন-

الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

অর্থাৎ আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।
সুরা মায়েদা-৩

৩. যারা আল্লাহর মনোনীত দ্বীন বাদ দিয়ে অন্য কিছু গ্রহণ করতে চায়, তাদেরকে ধমক সুরে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

أَفَغَيْرَ دِينِ اللّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ

অর্থ: তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।
সুরাঃ আলে ইমরান আয়াত: ৮৩

উক্ত আয়াতে আল্লাহর দ্বীন ছাড়া ভিন্ন কোনো ধর্ম পালনকারীদের ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালা হিটেষ্ট বাক্য ব্যবহার করেছেন। সুতরাং আল্লাহর দ্বীন ব্যাতিত অন্য কোনো মতবাদ পালন করার সুযোগ নেই।

৪. ইসলাম ধর্ম ব্যাতিত অন্য ধর্ম পালন করলে কি হবে সেটা মহান আল্লাহ খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন,

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

অর্থ: কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না, এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
সুরা আলে ইমরান আয়াত-৮৫

উক্ত আয়াতে সুস্পষ্টভাবে ইসলাম না মানার পরিনতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

. উপরন্তু নবীজি সা. কত স্পষ্ট করে বললেন,

عن عبدالله بن ثابت الأنصاري قال قال رسولِ اللهِ ﷺ
والذي نفسُ محمدٍ بيدِه لو أصبح فيكم موسى ثم اتبعتموه وتركتموني لضلَلتم أنتم حظِّي من الأممِ وأنا حظُّكم من النبيينَ

অর্থ: হযরত আব্দু্ল্লাহ বিন সাবিত রা. বলেন রাসুলুল্লাহ স. বলেছেন- সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! যদি মুসাও আ. জীবিত হয়ে এসে যান, আর তোমরা আমাকে ছেড়ে তাঁর অনুসারী হয়ে যাও এবং আমাকে বর্জন কর,তাহলে অবশ্যই তোমরা ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। নিশ্চয় উম্মতের মধ্যে তোমরা আমার অংশ এবং নবীগণের মধ্যে আমি তোমাদের অংশ।”
সূত্র: মাজমাউয যাওয়ায়েদ খ:১ পৃ:১৭৮

. এরপরও যদি হেযবুত তওহীদের অনুসারীরা মানতে না চায়, তাহলে তাদের বই থেকেই চলুন প্রমাণ দেখা যাক। তারা তাদের বইগুলোতে লিখেছে,

“পূর্ববর্তী সব নবীদের (আ:) উপর অবতীর্ণ দীনগুলো ছিল স্থান ও কালের প্রয়োজনের মধ্যে সীমিত এবং ওগুলোর ভারসাম্য ছিল ওই পটভূমির প্রেক্ষিতে সীমিত। কিন্তু ওই দীনগুলোর ভারসাম্যও মানুষ নষ্ট করে ফেলেছে।”
সূত্র: বর্তমানের বিকৃত সুফিবাদ পৃষ্ঠা-১১

“অন্যান্য ধর্মগুলো হাজার হাজার বছরে এমনিতেই এতখানি বিকৃত হয়ে গেছে যে, তা দিয়ে কোনো জাতির সমষ্টিগত জীবন পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”
সূত্র: হলি আর্টিজেনের পর-১৭

“সকল প্রাচীন আঞ্চলিক দীনগুলিকে অনুপযুক্ত ঘোষণা দিয়ে মহান আল্লাহ ১৪০০ বছর আগে শেষ দীন এসলামের মহাগ্রন্থ আল-কোর’আন নাযেল করেছেন।”
সূত্র: এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব পৃষ্ঠা-৫৬

আশা করি এরপরও কোন হেযবুত তওহীদের সদস্যদের এ বিষয়ে সংশয় থাকার কথা নয় যে, “ইসলাম পূর্ব সকল ধর্ম অনুপযুক্ত, সেগুলো মানার কোন সুযোগ আল্লাহর তরফ থেকে নেই।”

সুতরাং মহান আল্লাহ ও তাঁর রসুল সা. ও সাহাবায়ে কেরাম রা. এবং সমস্ত মুসলমানের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে যেহেতু হেযবুত তওহীদ দাবি করেছেন যে, অন্য সকল ধর্ম সত্য ধর্ম এবং সেগুলো এখনও মানা যাবে, তাহলে তারা কি মুসলিম না কাফের সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার পাঠকের উপর সোপর্দ করলাম।

Check Also

দিবস পালন

  ইসলামে দুই ঈদ ব্যাতিত কোনো দিবস পালন করা বৈধ নয়। কিন্তু এ মহাসত্যকে অস্বীকার …

24 comments

  1. http://zithromaxproff.com/# zithromax 250
    zithromax generic cost

  2. generic chloromycetin: generic ampicillin
    order fucidin online

  3. all generic meds from india: buy prescriptions from india pharmacy india pharmacy

  4. online indian pharmacies: india pharmacy order prescription drugs from india

  5. best male erectile dysfunction pill: https://edpillsonline24.com/# male erectile pills

  6. erectile pills canada: https://edpillsonline24.com/# generic viagra pills

  7. cialis ed pills: https://edpillsonline24.com/# erectile dysfunction pills

  8. canadian pharmacy generic viagra: buying viagra online without prescription viagra online no prescription

  9. viagra cost per pill: viagra without a prescription viagra without a doctor prescription canada

  10. doxycycline 500mg: cheap doxycycline – doxycycline online

  11. doxycycline tetracycline: buy doxycycline – doxycycline mono

  12. buying amoxicillin in mexico: generic amoxil – amoxicillin 500mg without prescription

  13. generic for doxycycline: 100mg doxycycline – order doxycycline online

  14. ventolin over the counter uk: albuterol without dr prescription usa – ventolin 500 mcg
    where to buy finasteride

  15. ventolin over the counter australia: ventolin generic – ventolin 2mg tablet
    finasteride price

  16. buy propecia finasteride: cheap propecia – where to buy finasteride
    generic finasteride 1mg no prescription

  17. where can i buy ventolin in uk: ventolin buy – ventolin albuterol inhaler
    buy propecia online uk

  18. tadalafil pills: tadalafil 20mg for sale – generic tadalafil
    propecia witout prescription

  19. propecia cost: generic propecia – propecia discount
    finasteride 5 mg

  20. ed drug prices: cheap erectile dysfunction – ed pills that really work
    new treatments for ed

  21. cialis online without prescription: generic cialis canadian cialis 20 mg cost
    cialis without presciption in usa

  22. cialis in europe: cialis without prescriptions canada monthly cost of cialis without insurance
    taking cialis soft tabs

  23. can i buy cialis in toronto: buy cialis online best price buy cialis tadalafil uk
    can i buy cialis online

Leave a Reply

Your email address will not be published.